Bengal SIR Row: SIR-এর শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে মতুয়াদের একটা বড় অংশকেই! রাজ্যে এসে কী বার্তা অমিত শাহের ?
Amit Shah On Matua Community : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কিনা, এ নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন সিংহভাগ মতুয়া ! রাজ্যে এসে কী বার্তা অমিত শাহের ?

দীপক ঘোষ, আশাবুল হোসেন, পূর্ণেন্দু সিংহ,কলকাতা: রাজ্যে এসে ফের মতুয়াদের আশ্বাস দিলেন অমিত শাহ। পাল্টা আক্রমণ করতে ছাড়লেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এবং ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি এক নতুন মাত্রা পেল মঙ্গলবার।
আরও পড়ুন, ছাব্বিশে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে BJP, কলকাতায় এসে হুঙ্কার অমিত শাহের
বর্তমানে রাজ্যে SIR-এর শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে মতুয়াদের একটা বড় অংশকেই! কারণ CAA-তে আবেদন করলেও, বেশিরভাগই এখনও নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাননি! SIR শুনানিতে ডাক পাওয়া মতুয়া দীপক রায় বলেন, সার্টিফিকেটটা পেলে আমাদের খুব সুবিধা হত। আবার মতুয়াদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা এখনও CAA-তে আবেদনই করেননি। শুনানিতে ডাক পাওয়া মতুয়া মিতু মণ্ডল বলেন, বলছে CAA-তে আবেদন করলে নাগরিকত্ব পাবে। তারা যে পাবে নাগরিকত্বটা, কিন্তু আমরা তো দেখতে পাচ্ছি না তারা পেয়েছে। কিন্তু শুনানির ডাক পৌঁছে গেছে সকলের কাছেই! এই অবস্থায়, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কিনা, এ নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন সিংহভাগ মতুয়া!
প্রশ্ন উঠে গেছে, মতুয়ারা আগের মতোই বিজেপির পাশে থাকবে তো? এই অবস্থায় এদিন মতুয়া সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে শোনা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন,'মতুয়াদের ভয় পাওয়ার কোনও দরকার নেই। এটা ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিশ্রুতি, যে শরণার্থী বাংলায় এসেছেন তাঁরা ভারতের নাগরিক। এদের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (ক্ষতি) করতে পারবেন না।'পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিজেপি যখন মতুয়া ভোট নিয়ে চিন্তিত, তখন সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে তৃণমূলের। কারণ ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে 'বাবরি মসজিদ'-এর শিলান্যাস করে হইচই ফেলে দিয়েছেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডেড এবং ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শুধু শিলান্যাসেই থেমে থাকেননি তিনি! 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' তৈরি করে একেবারে ১৮২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও করে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর লক্ষ্য যে সংখ্যালঘু ভোট, তাও ঠারেঠরে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
গতকাল, হুমায়ুন কবীর বলেছিলন,'পারলে রুখে নিক। আমি তো ওপেন বলছি আমি মোল্লাদের নেতা।' যদিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ তুলে হিনদু ভোটকে নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, মুসলিমরা হুমায়ুন আর নৌশাদের দিকে, হিন্দুরা বিজেপির দিকে.....মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী থাকবে না। অন্যদিকে, সোমবারই নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।গতকাল মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, এই দুর্গা অঙ্গন বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গা অঙ্গন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে ছাব্বিশের ভোটের আগে যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ধর্মময় হয়ে উঠেছে, তখন এদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন অমিত শাহ।
এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, মন্দির-মসজিদের রাজনীতি কে করছে? একজন তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা MLA করছেন আর তৃণমূল কংগ্রেস করছে। নির্বাচনের সময় এসব করার পরম্পরা কতটা উচিত হবে, সেটা বাংলার জনতাকে ঠিক করতে হবে। যে কোনও কারণে মন্দির তৈরি করলে তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু অনেক দেরি করে ফেলেছেন উনি। এখন পশ্চিমবঙ্গে ধর্ম নিয়ে রাজনীতির কী প্রভাব পড়বে, বা অমিত শাহের আশ্বাসের ওপর মতুয়ারা বিশ্বাস করবে কিনা, তা বোঝা যাবে ভোটের ফলপ্রকাশের পরেই।






















