Birbhum Tulu Mondal: পাথর খাদানের সাধারণ শ্রমিক থেকে এলাকার 'পাথর-সম্রাট', সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিতে ডুপ্লিকেট DCR? কীভাবে উত্থান টুলু মণ্ডলের
Birbhum Money Gold Found: টুলু মণ্ডলের নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। একসময় তিনি ছিলেন, পাথর খাদানের সাধারণ শ্রমিক। কীভাবে টুলু হয়ে উঠলেন এলাকার 'পাথর-সম্রাট'?

ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, পার্থপ্রতিম ঘোষ, বীরভূম : কীভাবে পাথর সাম্রাজ্যের সম্রাট হয়ে উঠেছিলেন টুলু মণ্ডল? কীভাবে DCR কারচুপি করে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হত? কেন তৈরি করা হয় ডুপ্লিকেট ডিসিআর? টুলু মণ্ডলের নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। একসময় তিনি ছিলেন, পাথর খাদানের সাধারণ শ্রমিক। সেই খাদানেই 'পরশ পাথর' খুঁজে পেয়েছিলেন টুলু মণ্ডল। অভিযোগ, তারপর সেই পরশ পাথরের ছোঁয়ায় টাকার 'মিনারে' পৌঁছেছেন টুলু। কিন্তু একজন সাধারণ শ্রমিক থেকে কীভাবে টুলু হয়ে উঠলেন এলাকার 'পাথর-সম্রাট'? তদন্তকারীদের অনুমান, ডুপ্লিকেট DCR-ই তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি।
বীরভূমের মহম্মদবাজার পাথর উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেউচা, পাঁচামি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য পাথর খাদান ও ক্রাশার। খাদান থেকে পাথরের চাঁই তোলার পর লরিতে করে তা নিয়ে যাওয়া হয় ক্রাশার ইউনিটে। সেখানে বড় বড় পাথর ভেঙে তৈরি হয় বিভিন্ন মাপের স্টোন চিপস। স্টোন চিপস ক্রাশার থেকে লরি ভর্তি হয়ে চলে যায় বাজারে। তদন্তকারীদের অনুমান, শেষ ধাপেই আসল খেলাটা খেলতেন টুলু মণ্ডল।
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
পাথর বোঝাই লরি যখন বাজারে যায়, তখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি হল Duplicate Carbon Receipt বা DCR. টোল গেটের কাছে থাকা অফিসে প্রথমে অরিজিনাল DCR তৈরি করা হয়। ওই নথিতে উল্লেখ থাকে, ক'টি লরিতে করে কত পরিমাণ স্টোন চিপস বাজারে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারকে ফাঁকি দিতে আসল DCR-এ লরির সংখ্যা ও পাথরের পরিমাণ কম করে দেখানো হত। পাশাপাশি, ডুপ্লিকেট DCR তৈরি করতেন টুলু। ২টো DCR নিয়েই রওনা হতেন লরিচালক। সরকারের কাছে যে তথ্য পৌঁছত তার থেকে বেশি সংখ্যক লরি বেশি পরিমাণ পাথর নিয়ে যেত। ফলে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হত সরকারের। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই রকম খাদানের ক্ষেত্রে সরকারি তত্ত্বাবধানে বেসরকারি হাতে রাজস্ব আদায়ের বরাত দেওয়া হয়। সেই হিসেবে বরাত পান প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েক বছর পাথর খাদানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পর কয়েকটি পুরনো লরি কিনে ঠিকাদারি শুরু করেন টুলু মণ্ডল। আস্তে আস্তে হয়ে ওঠেন এলাকার বড় ঠিকাদার। অভিযোগ, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর অনুব্রত মণ্ডলের হাত ধরে উত্থান হয় টুলু মণ্ডলের. পরবর্তী সময় অন্যতম বড় পাথর ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁর কয়েকশো ডাম্পার, দু'টি পেট্রোল পাম্প ও একাধিক পাথর খাদান রয়েছে। শুধু ডুপ্লিকেট DCR বানানো বা পাথরের ওজনে কারচুপি নয় ওভারলোডিং থেকেও পকেট ভরতেন পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। বীরভূমে পাথর খাদানের মোট ৯টি DCR গেট রয়েছে। সেই গেটগুলিতে পাথরের লরি থেকে রাজস্ব আদায় করতেন টুলু মণ্ডলের লোকেরা। রাইপুর গেটের ম্যানেজার ছিলেন টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডল।
Before You Go
Bigmint India Ferrous Week 2026: রাজ্য়ে শিল্পের অগ্রগতির লক্ষ্যে জে ডব্লু ম্য়ারিয়টে শুরু হয়েছে 'বিগমিন্ট ইন্ডিয়া ফেরাস উইক ২০২৬






















