Asish Banerjee Death Mystery: আশিস বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মৃত্যুর সঙ্গে কি দুর্নীতির যোগ রয়েছে? কেউ কি প্রাক্তন মন্ত্রীর উপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন? নোটের লেখা ঘিরে বাড়ল জল্পনা
Birbhum News Former Minister Asish Banerjee Death Mystery: TRDA-র দুর্নীতি নিয়ে আশিস বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের উপর কেউ চাপ সৃষ্টি করেছিলেন? উঠল এবার বড় প্রশ্ন

ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, পার্থপ্রতিম ঘোষ, দীপক ঘোষ, বীরভূম: প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর সঙ্গে কি 'তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ'-এর দুর্নীতির কোনও যোগ রয়েছে? মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া নোটের লেখা ঘিরে বাড়ছে জল্পনা। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে অনুব্রত মণ্ডল, কেউই মনে করেন না, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
TRDA-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া নোটে, এমনটাই লেখা রয়েছে। তাহলে কি তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে যোগ রয়েছে 'তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ' বা TRDA-র দুর্নীতির? মাথাচাড়া দিয়েছে এই জল্পনা।
এবিপি আনন্দ: TRDA-এর বিষয়টা বারবার বিজেপি অভিযোগ করছিল। এটা নিয়ে কী বলবেন? এটাও কি একটা মানসিকভাবে চাপ দেওয়ার...
মৃত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়: হ্যাঁ নিশ্চয়ই। ব্যক্তিগতভাবে...দারুণ ভাবে চাপে হয়তো ফেলে দিয়েছিল। যেটা আশিসদা প্রকাশ করতে পারছিল না। আশিসদা কোনও দুর্নীতির সঙ্গেই কখনই কোনও ভাবে যুক্ত নয়। এটা চারদিকের মানুষ জানে এবং বুক ফুলিয়ে সেটা বলা যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ২০১৫ সালে পথ চলা শুরু হয় তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের। তৃণমূল জমানায় দীর্ঘদিন তার চেয়ারম্যান ছিলেন রামপুরহাটের ৫ বারের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মে মাসে পালাবদলের পর, সেই দায়িত্ব পালনে তাঁকে আর সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারম্যান থাকাকালীন, ওই সংস্থার বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা ধ্রুব সাহা বলেন, এই প্রশাসন যন্ত্রকে সামনে রেখে আশিস ব্যানার্জিরা যেভাবে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকা কালেকশন করছে প্রতি মাসে এবং সেটা পার্টি ফান্ডে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারি টাকা অপচয় হচ্ছে।
বিজেপি এরাজ্য়ে ক্ষমতায় আসার পর, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা প্রশাসন। ২২ দিন ধরে সেই তদন্ত চলার পর, জেলাশাসকের কাছে রিপোর্টও জমা পড়েছে। অন্য়দিকে, আশিস বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ও 'কালীঘাট-তৃণমূল' ছেড়ে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ নাম লিখিয়েছিলেন।এবার আশিস বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য় ঘনাল। পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া নোটে লেখা রয়েছে,TRDA-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনওদিন কেউ-ই আলোচনা করেনি, আমারও এইসব বিষয়ে কোনও আগ্রহই ছিল না।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি TRDA-র দুর্নীতি নিয়ে আশিস বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের উপর কেউ চাপ সৃষ্টি করেছিলেন? 'কালীঘাট-তৃণমূল' এর বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, আমাদের কাছে একাধিক সূত্রে খবর আছে, উনি কিন্তু চাপের মুখে ওদিকে গিয়েছিলেন। বীরভূমে যারা যারা নিজেদের পাপ বাঁচাতে ওদিকে গেছেন, তারা আশিসবাবুর মতো একটি লোককে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। উনি দিদির সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলেন। এগুলো আসছে। এগুলো পুলিশ খোঁজ নিক, সত্যি না মিথ্যে।
এবিপি আনন্দ: TRDA-র দুর্নীতি কি একটা বড় কারণ? কী মনে করছেন আপনি?
অনুব্রত মণ্ডল: আমার মনে হয় না আশিস ব্যানার্জির মতো লোক কোনও দুর্নীতিতে থাকবেন। আশিস ব্যানার্জি এমন একটা ব্যক্তিত্ব, উনি কোনও দুর্নীতিতে থাকতে রাজি নন।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতিতে জড়িত থাকতে পারেন বলে মানতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়কের পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তারাপীঠ (রামপুরহাট) ডেভলপমেন্ট অথরিটি বলুন, পুলিশ-প্রশাসন বলুন, কোনও চিঠি-নোটিস ওঁকে কেউ করেনি, ডাকেনি কখনও। উনি খুব শান্তিপূর্ণভাবে ছিলেন ওখানে। তদন্ত তো হতেই পারে, একটা সরকার ছিল, প্রচুর গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ, ডেভলপমেন্ট অথরিটি, পুরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তদন্ত হচ্ছে। আশিসবাবুর বিরুদ্ধে কোনও FIR হয়েছে বলে আমার জানা নেই। ' 'ঋতব্রত তৃণমূল' বিধায়ক আখরুজ্জামানেরও দাবি, ওঁর সঙ্গে দুর্নীতির যোগ ছিল না, নিজেই তো নোটে লিখে গেছেন। এদিন দুপুরে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান বীরভূমের NCPI সাংসদ শতাব্দী রায়। ছিলেন বোলপুরের NCPI সাংসদ অসিত মালও।






















