Cyber Crime: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রতারণার ফাঁদ! বড় রিটার্নের প্রলোভন দেখিয়ে ৩৯ লক্ষ টাকা লুট, দিল্লি থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত
Cyber Fraud: চলতি বছরের মে মাসে হাওড়ার সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিবপুর নিবাসী এই ব্যক্তি আর তারপরেই তদন্তে উঠে আসে এই প্রতারণার ছক।

সুনীত হালদার, হাওড়া: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে শিবপুরের এক ব্যক্তিকে ৩৯ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হল সুরজিত কুমার নামে এক ৩৫ বছর বয়সী যুবককে। হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) শাখার তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত এই সুরজিত কুমার ‘ওয়েব টেক বিজনেস সলিউশন’ নামে একটি ভুয়ো কোম্পানির মাধ্যমে অনলাইনে ইনভেস্টমেন্ট স্কিম চালাত এবং সাধারণ মানুষকে মোটা টাকার রিটার্নের লোভ (Investment Fraud) দেখিয়ে প্রতারিত করত।
শিবপুরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি হঠাৎ লক্ষ্য করেন, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি একটি অজানা গ্রুপে যুক্ত হয়ে গেছে। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও, পরে তিনি দেখতে পান যে ওই গ্রুপে অনেকে টাকা ইনভেস্ট করে মোটা রিটার্ন পাচ্ছেন। সন্দেহ দূর হতে তিনিও সেই লোভনীয় রিটার্নের আশায় ধাপে ধাপে মোট ৩৯ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করেন। টাকা পাঠানো হয়েছিল একটি আইডিএফসি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে।
কিন্তু কিছুদিন পর ওই গ্রুপ থেকে তাকে রিমুভ করে দেওয়া হয়। তখনই তার সন্দেহ হয় এবং চলতি বছরের মে মাসে তিনি হাওড়ার সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও ইনভেস্টমেন্টটি তিনি করেছিলেন মার্চ মাসে, ফলে ‘গোল্ডেন পিরিয়ড’ অর্থাৎ অবিলম্বে অ্যাকাউন্ট হোল্ড বা লেনদেন রুখে দেওয়ার উপযুক্ত সময় পার হয়ে যায়। পুলিশ তদন্ত করে মাত্র ২ হাজার টাকা হোল্ড করতে সক্ষম হয়।
এরপরেই হাওড়া সিটি পুলিশ তদন্তের গতি বাড়ায় এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে জানতে পারে যে, সুরজিত কুমার নামে এক ব্যক্তি এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত। অভিযুক্তকে দিল্লির উত্তম নগর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ ট্রানজিট রিমান্ডে সুরজিতকে হাওড়া নিয়ে আসে এবং আদালতে পেশ করে। আদালত সুরজিত কুমারকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ তদন্ত নেমে জানতে পারে ভুক্তভোগীর ৩৯ লক্ষ টাকার মধ্যে অন্তত ১৫ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা সরাসরি গিয়েছে সুরজিতের নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। হাওড়া সিটি পুলিশের উত্তর বিভাগের ডিসি বিশপ সরকার বলেন, ‘‘এই চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিত এবং প্রযুক্তি-নির্ভর। আমরা অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছি। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করছি, কোনও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা অচেনা অনলাইন লিঙ্কে ক্লিক করে বিনিয়োগ না করতে। এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ থানায় অভিযোগ জানানো অত্যন্ত জরুরি।”






















