Durga Puja 2025: পুকুরের জল থেকে উঠে এল সিঁদুর মাখা সুপারি, স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু হল দুর্গাপুজো
Durga Puja 2025 News: আজ অষ্টম প্রজন্ম ধরে চলে আসছে পূজা-আচার। দেবীর রূপ প্রতিভাত হয় একটি পিতলের ঘটের উপর, যেখানে প্রতিদিন ২০-২৫টি প্রদীপ জ্বালানো হয়

ঋত্বিক প্রধান, পূর্ব মেদিনীপুর: স্বপ্নাদেশে বাড়ির পুকুর থেকে পেয়েছিলেন একটি সুপারি। আর সেই সুপারিই দেবী দুর্গা নামে পূজিত হয়ে আসছেন এই বাড়িতে। ভৈরবদারি জানা পরিবারের এই পুজো ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন অলৌকিক কাহিনী। শারদোৎসব চলেই এল প্রায়। তার আগে, শুনে নেওয়া যাক, পূর্ব মেদিনীপুরের এই অবাক করা দুর্গোৎসবের ইতিহাস।
লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, প্রায় তিন শতাব্দী আগে উড়িষ্যার ব্যবসায়ী অঙ্কুরচরণ এই অঞ্চলে আসেন ধান ও চালের ব্যবসা করতে। ব্যবসায়িক সাফল্য এবং এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁকে এতটাই আকৃষ্ট করে যে, স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। সঙ্গে আনেন তাঁর পত্নী রেনুকাবালা দেবীকে। রেনুকাবালা ছিলেন ধর্মপরায়ণ নারী। প্রতিদিন পুকুরে চাল ধোয়ার সময়ে তিনি দেখতেন, হাঁড়িতে অদ্ভুত কী একটা উঠে আসত। তিনি প্রতিদিনই সেটা শামুক ভেবে ফেলে দিতেন। এইভাবে কয়েকদিন যাওয়ার পরে, রেনুকাবালা দেবী একদিন দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে বলেন, 'আমি তোমার পুজো পেতে চাই।'
রেনুকাবালা দেবীদের ছিল খুবই টানাটানির সংসার। কিন্তু স্বপ্নাদেশকে মেনে নেন তাঁরা। একদিন চাল ধোয়ার হাঁড়িতে সিঁদুরলাগা দুটি সুপারি আকৃতির বস্তু পান তিনি। সেটিকে কুলুঙ্গিতে রেখে দেন এবং পরবর্তীকালে তাঁরা বুঝতে পারেন এটি দেবীর প্রতীক। সেইদিন রাতেই তাঁরা স্বপ্নাদেশ পান, দেবী যেখানে বলবেন, সেখানে গেলে তাঁদের আর ব্যবসা করতে হবে না। সেই রাতে, রেনুকাবালা দেবী ও অঙ্কুরচরণ স্বপ্নে পাওয়া স্থানে গেলে, সেখানে দেখতে পান প্রচুর সম্পত্তি। সেই দিয়েই তাঁরা শুরু করেন জমিদারি।
এরপরে তাঁদের জমিদারিতে গড়ে ওঠে মন্দির। প্রথমে নির্মিত হয় বিষ্ণুমন্দির ও দূর্গা মন্দির, পাকাবাড়ি, পরে বাইরে থেকে আসা এক সাধুর নির্দেশে যোগ হয় শিবমন্দির। দেবীকে স্থানীয়ভাবে পূজা করা হয় চণ্ডী ও মহামায়া রূপে। বিশ্বাস করা হয়, দেবীর নির্দেশেই নামকরণ হয় এই পূজার। সেই সিঁদুর লাগানো সুপারির ওপর প্রতিদিন সিঁদুর দিয়ে পুজো করতে করতে সুপারিগুলো এখন এক একটি ১০০ কেজি ওজনের আকার ধারণ করে ও কলেবর রুপ নেয়। পেতলের কলসির ওপ এই সুপারি ও সিদুর দিয়ে তৈরি কলেবর দুটিকে বসিয়ে পুজো হয় প্রতিদিন। প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো এই পূজা আজও ভক্তদের কাছে সমান শ্রদ্ধেয়।
আজ অষ্টম প্রজন্ম ধরে চলে আসছে পূজা-আচার। দেবীর রূপ প্রতিভাত হয় একটি পিতলের ঘটের উপর, যেখানে প্রতিদিন ২০-২৫টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, মায়ের কাছে মানত করলে পূর্ণ হয় যে কোনো কামনা। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত চলে বিশেষ উৎসব। নবমীর দিনে হয় ১০ কেজি ঘি দিয়ে বিশেষ হোম। আশপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ এসে অংশ নেন এই পুজোয় । প্রাচীন নিয়ম মেনে আজও পুজোর কদিন সপ্তমী থেকে নবমী জানা পরিবারের লোকজন রাতে বেলায় ভাত রান্না করেন একই হাঁড়িতে গোটা ফল সবজি দিয়ে রান্না করে খান।






















