ED Raid I-PAC: 'মুখ্যমন্ত্রী যখন ফাইল নিয়ে বেরচ্ছিলেন ইডি অফিসাররা আটকালেন না কেন?' 'রহস্য' নিয়েই উঠল প্রশ্ন!
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস-সিপিএম প্রশ্ন তুলছে এটা কী করে সম্ভব? কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি যখন তল্লাশি চালাচ্ছেন তখন মমতা বন্দোপাধ্যায় সেখানে ঢুকলেন কী করে?

ভোটের মুখে কয়লাকাণ্ডের তদন্তে আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ED তল্লাশি ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি। DGP ও CP-কে নিয়ে ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। তুললেন তথ্য চুরি, দলের রণকৌশল চুরির মতো বিস্ফোরক অভিযোগ। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ফের একবার প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে রেখে নিশানা করলেন তাঁরই ছায়াসঙ্গী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন।
এরপর আই প্যাকের সেক্টর ফাইভের অফিসে ইডির তল্লাশি চলাকালীন সেখানে এই মন্তব্য করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'ওগুলো আমাদের। ওগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল সব। এগুলো আমাদের, আমরা রেখেছি। এগুলো আমাদের কাগজপত্র, আমাদের দলিল' ।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস-সিপিএম প্রশ্ন তুলছে এটা কী করে সম্ভব? কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি যখন তল্লাশি চালাচ্ছেন তখন মমতা বন্দোপাধ্যায় সেখানে ঢুকলেন কী করে? নথি বাইরে বের করা হল কী করে? ইডি অফিসাররা আটকালেন না কেন?
প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, 'আজকে ইডির অফিসাররা, কেন মুখ্যমন্ত্রী না কি ফাইল নিয়ে বেরোচ্ছিলেন, কেন আটকালেন না? কারণটা কী? তার মানে কি এটাও বাইনারি পলিটিকস?' সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'ইডি কেন মুখ্যমন্ত্রীকে আটকালেন না?'
ইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তারাও। রাজ্য হোক কিংবা কেন্দ্র, কোনও এজেন্সির তল্লাশি চালাকলীন কি কোনও ব্য়াক্তির, সে তিনি সাধারণ মানুষ হোন কিংবা সর্বোচ্চ আসনে বসে থাকা কোনও ব্যক্তি, কারও পক্ষে বাধা দেওয়া কিংবা ভিতরে ঢোকা সম্ভব? এজেন্সি কেন তাঁকে আটকাবে না? এজেন্সির পক্ষেও কি সেটা ভুল কাজ নয়? এই চর্চা এখন জোরাল।
এদিকে, ইডির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, পাল্টা ইডিও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। মমতা বন্দোপাধ্যায় বলছেন, এটা ক্রাইম। নির্বাচনের পুরো স্ট্র্যাটেজি ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে। পাল্টা ইডির তরফে বিবৃতিতে দাবি, মমতা বন্দোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোর করে নথি ও বৈদ্যুতিন প্রমাণগুলি নিয়ে গেছেন। যাতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে তদন্ত প্রক্রিয়া।
ইডির তরফে বিবৃতিতে দাবি কারা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বিশাল সংখ্যক পুলিশ অফিসারদের নিয়ে ঢোকার আগে পর্যন্ত, কাজকর্ম শান্তিপূর্ণ এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গেই হচ্ছিল। মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রতীক জৈনের ঠিকানায় আসেন এবং মূল প্রমাণ, ইলেকট্রনিক ডিভাইস সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আই-প্যাকের অফিসে যায়। যেখান থেকে মমতা বন্দোপাধ্যায়, তাঁর সহযোগীরা এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোর করে নথি ও বৈদ্যুতিন প্রমাণগুলি সরিয়ে ফেলেন। এই ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।






















