Bangladeshi Arrest: নুরুল হক-কে নারায়ণ অধিকারী বানিয়েছিল ধৃত সমীর দাসই ! চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস
Fake Document: দত্তপুকুর থেকে গ্রেফতার হয়েছে নুরুল হক এবং শেখ রফিকুল ইসলাম। এই নুরুল হক এদেশে থাকত নারায়ণ অধিকারীর পরিচয়ে। আর নুরুল হক-কে নারায়ণ অধিকারী বানিয়েছিল জাল নথিকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া সমীর দাস।

সমীরণ পাল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : বাংলাদেশের নুরুল হক ভারতে এসে হয়ে গেছিলেন নারায়ণ অধিকারী। রফিকুল ইসলাম আবার ভারতে ঢুকে বারাসাতে পেল্লাই বাড়িও বানিয়ে ফেলেছিলেন। দত্তপুকুর থেকে ধৃত রফিকুল ইসলাম এবং নুরুল হক ওরফে নারায়ণ অধিকারীর নথি তৈরি করে দিয়েছিল নথি-জালকাণ্ডে ধৃত সমীর দাস, দাবি পুলিশের। রফিকুল ও নারায়ণ অধিকারীকে হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানাতে পারে বারাসাত থানার পুলিশ। জাল নথি দিয়ে নুরুল ইসলাম শুধু নাম বদল করে নারায়ণ অধিকারী হননি, ভোল বদলও করেছিলেন, পুলিশ সূত্রে খবর। ভোল বদলের পর নুরুল ইসলামকে বাড়ি ছাড়া করতে রফিকুলকে চাপ দিচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দারা, পুলিশ সূত্রে খবর। দত্তপুকুর থেকে ধৃত রফিকুল ইসলামের বাড়িতে প্রচুর বাংলাদেশিদের যাতায়াত ছিল, পুলিশ সূত্রে খবর। দত্তপুকুরের কাজীপাড়ায় নিজের নামে বাড়িও বানিয়ে ফেলেছিল রফিকুল। আর নুরুল হককে এদেশে আসার পর নারায়ণ অধিকারী বানানোর পিছনে সমীর দাসেরই হাত রয়েছে বলে অনুমান পুলিশের।
বাংলাদেশ থেকে বেআইনি ভাবে এদেশে আসা অনুপ্রবেশকারীদের হাতে দ্রুত নথি তুলে দেওয়ার ব্যাপারে এক্সপার্ট ছিলেন এই সমীর দাস, এই তথ্য আগেই জানিয়েছে পুলিশ। আর সেই জন্য বাংলাদেশে বেশ নামডাকও ছিল তাঁর। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশেও জাল নথি তৈরির ব্যবসার ফাঁদ বিছিয়ে রেখেছেন বারাসাত থেকে ধৃত সমীর দাস। জানা গিয়েছে, দত্তপুকুর থেকে ধৃত শেখ রফিকুল ইসলাম ১০-১২ বছর আগে বাংলাদেশের মাদারিহাট জেলা থেকে এদেশে এসেছিলেন। ৫-৬ বছর ধরে বারাসাতের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাস ছিল তাঁর। জমি কিনে সুবিশাল বাড়িও তৈরি করে নিয়েছিলেন তিনি। রফিকুলের বাড়ি তৈরির সময় সেখানে প্রচুর বাংলাদেশিদের আনাগোনা হতো বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। জিজ্ঞেস করলে রফিকুল বলতেন, বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা করাতে এসেছেন ওই ব্যক্তিরা। এমনকি এই নুরুল হকও প্রথমে নিজের পরিচয়েই এসেছিলেন রফিকুলের বাড়ির দোতলার ভাড়াটে হিসেবে। পরে বদলে যায় সবটা। রফিকুল আবার নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন স্থানীয়দের কাছে।
রফিকুল ইসলামের বাড়িতে সাড়ে তিন বছর আগে থেকে থাকা শুরু করেন নারায়ণ অধিকারী, ওরফে নুরুল হক। মাছের ব্যবসা করছেন, এই পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথমে নুরুল হকের নাম-পরিচয়ে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে থাকলেও পরে নাম, পরিচয়, ভোল- সবই আমূল বদলে ফেলেন তিনি। তখনই চটে যান প্রতিবেশীরা। এভাবে বাংলাদেশের লোকেদের বাড়িতে রাখতে পারবেন না রফিকুল, এই নিয়ে চাপ সৃষ্টিও করেন তাঁরা। স্থানীয়দের থেকে বেশ কয়েকবার সময়ও চেয়ে নিয়েছিলেন রফিকুল। তবে শেষ পর্যন্ত এই দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। রফিক ইসলামের বাড়িতে নুরুল ইসলাম আসার পর আর কাউকে বাড়ি ভাড়া দেননি রফিকুল।
আপাতত রফিকুল ইসলাম এবং নুরুল হককে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় বারাসাত থানার পুলিশ। এই দু'জনকে জেরা করে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। অন্যদিকে সমীর দাসের কাছ থেকে পাওয়া মোবাইলে যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট মিলেছে সেখানে দেখা গিয়েছে অনেক বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথোপকথন হতো সমীরের। কারা আসবেন, কাদের নথি তৈরি হবে, কীভাবে দ্রুত নথি তৈরি হবে- এই নিয়েই চলত আলোচনা। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও কাজ করার জন্য সমীরের টিম ছিল বলে অনুমান পুলিশের।
কিছুদিন আগে গ্রেফতার হয়েছেন সমীর দাসের এক সহযোগী দিবাকর বিশ্বাস। তিনি ভোটার কার্ড তৈরির ব্যাপার দেখতেন। অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করা হতো। বেশিরভাগ আধার কার্ড তৈরি হতো দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বারুইপুরের ঠিকানায়। এই সব ভোটার কার্ড ব্যবহার করে ফের নতুন নথি তৈরি করা হতো। অস্থায়ী ঠিকানা বদলে তৈরি হতো নতুন ভোটার কার্ড। যেকোনও ভারতীয় নথি দ্রুত তৈরিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন সমীর দাস এবং তাঁর দলবল।
আরও পড়ুন- স্যালাইনকাণ্ডে নয়া রহস্য ! প্রসূতিদের পরিবারকে দিয়ে লেখানো হয়েছিল 'মুচলেকা'





















