Hooghly Tourist Death: পুজো দিতে গিয়ে আর ফেরা হল না, কিন্নৌর-কৈলাসে ত্রিবেণীর যুবকের মৃত্যু
Hooghly News: মঙ্গলবার দুপুরের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশি। একইকারণে বিপর্যস্ত হিমাচাল প্রদেশও।

সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিবেণী : মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে ধসের কারণে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার কাজ। কৈলাসে শৈব তীর্থ দর্শনে গিয়ে মৃত্যু হল এ রাজ্যের যুবকের। দুর্গম রাস্তা দিয়ে ফেরার পর পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই যুবক। বেস ক্যাম্পে নিয়ে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
মঙ্গলবার দুপুরের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশি। একইকারণে বিপর্যস্ত হিমাচাল প্রদেশও। সবুজ পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা ছোট্ট গ্রাম ধরালী। পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম জায়গা। গত ১ অগাস্ট হিমাচল প্রদেশে যান হুগলির ৫ পর্যটক। এদের মধ্যে ছিলেন ত্রিবেণীর বেণীমাধবতলার বাসিন্দা টোটো চালক রাজীব কুণ্ডু। দুর্গম রাস্তা দিয়ে ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন বছর ৩৮-এর রাজীব কুণ্ডু। বেস ক্যাম্পে নিয়ে এলে হুগলির পর্যটককে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঠান্ডার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই পর্যটক।অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।
আবহবিদরা বলছেন, প্রায় সাড়ে বারো হাজার ফুট ওপর থেকে প্রায় ৪৫ কিমি বেগে উত্তরাখণ্ডের এই গ্রামের ওপর নেমে আসে হড়পা বান। বিশাল বিশাল পাথরের আঘাত আর জল-কাদ্র স্রোতে ২৫-থেকে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই প্রায় মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠে উত্তরকাশীর ধরালী গ্রাম। একদিকে যখন ভয় ধরাচ্ছে উত্তরাখণ্ডের ছবি, তখন, মেঘভাঙা বৃষ্টিতে দুর্যোগ হিমাচল প্রদেশেও। হিমালয় পার্বত্য এলাকায় একনাগাড়ে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে বুধবার সকালে আচমকা হড়পা বান আসে হিমাচলপ্রদেশের কিন্নরে। ওই সময় কয়েকশো পুণ্যার্থী হিমাচল প্রদেশের কিন্নর- কৈলাসধামের পথে পাড়ি দিয়েছিলেন। বিপর্যয়ের জেরে কিন্নর থেকে কৈলাসযাত্রীদের ৪১৩ জনের একটি দল আটকে পড়ে রাস্তায়। বুধবার সকালে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও ITBP জ়িপলাইনের সাহায্যে উদ্ধার করে ওই দলটিকে। ধস নেমেছে বিভিন্ন জায়গায়। বন্ধ হয়ে গিয়েছে জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। পর্যটকদের সঙ্গে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়েরা। জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাঁরা কুল্লু এবং মনালীর দিকে যাচ্ছিলেন, তাঁরা আটকে পড়েন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বৃষ্টিতে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে সোলান জেলায়। এর আগে গত জুন মাসে হড়পা বানে বিপর্যস্ত হয় হিমাচলের মাণ্ডী জেলা। সেই বিপর্যয়ের ক্ষত মুছতে না মুছতে ফের প্রকৃতির রুদ্ররোষের ভয়াবহ ছবি ধরা পড়ল হিমাচলপ্রদেশে। ফের ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচলে। জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত হিমাচলে ১৯৯ জনের মৃত্যু। বিপর্যয়ে নিখোঁজ ৩৬ জন, জখমের সংখ্যা ৩০৪। মোট ২১টি জায়গায় ধস নেমেছে। ৫৩৩ জায়গায় রাস্তা বন্ধ করতে হয়েছেপ্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ। দেখা দিয়েছে পানীয় জলের অভাবও।






















