S Jaishankar: এবার আরও জব্দ হবে পাকিস্তান? তালিবান বিদেশমন্ত্রীকে ফোন জয়শঙ্করের, কথা পহেলগাঁও নিয়েও
এ যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ! তালিবানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

নয়াদিল্লি : সংঘর্ষ বিরতির ৬ দিনের মাথায় শান্তি চেয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আর ঠিক এদিনই, এই আলোচনা-প্রস্তাবের কিছু ক্ষণ আগে প্রথম ভারতের কোনও মন্ত্রী কথা বললেন আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের সঙ্গে। এ যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ! তালিবানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার এ কথা জানান জয়শঙ্কর নিজেই। আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে তাঁর কী কথা বল, তাও জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তালিবানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ভাল কথোপকথান হয়েছে বলেই জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।
বৃহস্পতিবার টেলিফোন কথোপকথনে, জয়শঙ্কর আফগানিস্তানের মানুষের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বের ঐতিহ্য ধরে রাখার উপর জোর দেন । কাবুলিওয়ালির দেশের মানুষের উন্নয়নে ভারত পাশে আছে বলে বার্তা দেওয়া হয় ভারতের তরফে। জয়শঙ্কর জানান, অনেকদিন ধরেই কিছু মিথ্যা ও ভিত্তিহীন রিপোর্টের মাধ্যনে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের একটি অংশের কথা সরাসরি উল্লেখ না করলেও, জয়শঙ্কর দাবি করেন, কিছু কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়, ভারত পহেলগাঁওতে তালিবানদের ভাড়া করে "ফলস ফ্ল্যাগ" অপারেশন চালিয়েছে। তার তীব্র নিন্দা করে ভারত।
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্ক এখন তলানিতে। ভারতীয় সেনা বুঝিয়ে দিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে মদত দেওয়া, ভারতে হামলার চেষ্টার করার কী পরিণতি হতে পারে। পৃথিবীর তাবড় দেশ এখন পাক-নীতির বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে যে তালিবান সরকারকে এখনও পর্যন্ত ভারত স্বীকৃতিই দেয়নি, তাদের সঙ্গেও কথা শুরু হল একেবারে মন্ত্রীস্তরে। মন করা হচ্ছে, পাকিস্তানকে আরও চাপে রাখতেই এই বাক্যালাপ। ২০২১ সালে ভারত যখন আফগানিস্তান থেকে তাদের কূটনীতিকদের সরিয়ে নেয়, তখন থেকেই দুই দেশের মধ্যে যোগসূত্র ক্ষীণ বলে মনে করা হতে থাকে। কিন্তু হালে,পহেলগাঁও হামলার পর তীব্র নিন্দা করে বিবৃতি দেয় তালিবান। তারপরই সে-দেশের সঙ্গে কথা হল কেন্দ্রের তরফে। জয়শঙ্কর তালিবান প্রশাসনের এই নিন্দা-বার্তার প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য গত এপ্রিলেও কাবুলে তালিবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় কূটনীতিক এম আনন্দ প্রকাশ। তাদের আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা, বাণিজ্য ও পরিবহন সহযোগিতা বৃদ্ধি করা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উন্নয়নের উপর মতামত বিনিময়ের উপর জোর দেওয়া হয়। এই বছরের জানুয়ারিতে, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী দুবাইতে মুত্তাকির সঙ্গে দেখা করেছিলেন।






















