Jadavpur University: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তাণ্ডবের চারদিন পরও গ্রেফতারি শূন্য, হয়নি জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ
Jadavpur University Violence: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডবের পর থানায় অভিযোগ দায়ের করতেই লেগেছিল ৩৭ ঘণ্টা।

যাদবপুর: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) তাণ্ডবের ঘটনার পর প্রায় ৪ দিন কেটে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে সিসিটিভি ফুটেজ। তাতে কার্যত পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কারা ঢুকছে, কীভাবে তাণ্ডব চালিয়েছে। সেদিনের অনেক ঘটনাই বন্দি হয়েছে ক্যাম্পাসে লাগানো একাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়। ঘটনার ৩৭ ঘণ্টা পর দায়ের হয়েছিল অভিযোগ। তবে যাদবপুরের তাণ্ডবের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মোট ৫৫টিরও বেশি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা রয়েছে। তার মধ্যে একাধিক ক্যামেরায় বুধবার রাতের তাণ্ডবের ছবি ধরা পড়েছে। সূত্রের দাবি, কাউকে ডেকে এখনও নাকি জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেননি তদন্তকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের অবশ্য দাবি পুলিশ সোমবার আসবে। তিনি এবিপি আনন্দকে জানান, ‘পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওনারা সোমবার দিন আসবেন। আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। ওদের যা প্রয়োজন, প্রয়োজনীয় যা চাইবেন, আমরা সহযোগিতা করব। সিসিটিভি ফুটেজটাই আপাততভাবে চেয়েছে। কালকে রাত্রিবেলায় করেছে, ওরা সোমবার দিন আসবে।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকেই বহিরাগতরা চলে যায় পিজি সায়েন্স বিল্ডিংয়ের দিকে। সেই ছবিও ধরা পড়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়। ব্যানার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়, কেউ কেউ কার্নিশে উঠে পড়ে। পরে বিভিন্ন পতাকা নিয়ে এসে রাস্তার মধ্যে রেখে তাতে আগুন জ্বালানো হয়। তাণ্ডবের সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, তা মোটামুটি স্পষ্টভাবেই ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। কিন্তু সেই ফুটেজই এখনও সংগ্রহ করেনি পুলিশ। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাণ্ডবের ঘটনার তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
আরও পড়ুন:- কাজ শেষের পর কেটেছে ২ বছর, তাও মেরামত হয়নি ফাটল, এখনও ঘরে ফিরতে পারেননি বউবাজারের বহু মানুষ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস অবশ্য পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তায় খুব একটা হতবাক নন। তাঁর দাবি, ‘স্থানীয় বিধায়ক যখন তাণ্ডবে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলছেন এবং সেইমতো তাণ্ডব যখন হচ্ছে, ফলে সেই তাণ্ডবের প্রতিকার করতে পুলিশ-প্রশাসন খুব সক্রিয় হবে সেটা আশা করা খুব ভুল। সিসিটিভিতে বহু অভিযুক্তকে দেখা যাওয়ার পরেও, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারিও নেই এই পর্যন্ত।’
এদিকে তদন্তে ঢিলেমি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন। কুণাল ঘোষকে বলতে শোনা যায়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চয়ই তাদের মতো করে তদন্ত করবে। এটার তো নিশ্চয়ই একটা কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাদের তো জেগে উঠতেই এত সময় লেগে গেল। কিন্তু পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি? ভারতবর্ষের শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলার মুখ পুড়িয়ে দিয়ে গেল মাঝরাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলাকারী বিজেপির গুণ্ডাবাহিনী।’
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দাবি, ‘পুলিশ তদন্ত করছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে আমরা এ ধরনের ঘটনা দেখেছি। ওখানে বামপন্থীরা, তাঁরা ভেবেছে যে ওটা তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি হয়ে আছে। ওঁরা যা ইচ্ছে তাই করবে। যা ইচ্ছে করা যাবে না। ভারত বিরোধী কোনও কাজকে আমরা পশ্চিমবঙ্গের মাটি ব্যবহার করতে দেব না।’
এরইমধ্যে রবিবার যাদবপুরের ঘটনায় NIA তদন্তের দাবি জানিয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। তাদের কেন্দ্রীয় কার্য সমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারীর জানিয়েছেন তাঁদের কাউকে ভাঙচুরে দেখা গেলে বহিষ্কার করা হবে। এই আবহে সোমবার দুপুর তিনটেয় বৈঠক ডেকেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য। এবার দেখার সোমবার কী হয়।
Before You Go
Jadavpur University : যাদবপুরের তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান শুভশঙ্কর সরকারের






















