Calcutta High Court: 'জেরা করতে পারবেন না, এমন কাউকে দায়িত্ব দেবেন না’, CBI-কে নিশানা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের
সুবীরেশকে হেফাজতে জেরা না করায় সিবিআইকে ভর্ত্সনা করে নিম্ন আদালত। গতকাল সেই সুরেই সিবিআইকে নিশানা করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

কলকাতা: সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Ganguly)। গতকাল টেট-দুর্নীতি মামলার শুনানির সময় সিবিআইকে (CBI) নিশানা। সুবীরেশকে হেফাজতে জেরা না করায় সিবিআইকে (cbi) ভর্ত্সনা করে নিম্ন আদালত। গতকাল সেই সুরেই সিবিআইকে নিশানা করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ‘আশা করব জেরা করতে পারবেন না, এমন কাউকে দায়িত্ব দেবেন না’। সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টরকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের। ‘আশা করব সিবিআই শুধুমাত্র আদালতের নির্দেশের কারণে তদন্ত করবে না’। ‘দেশের নাগরিক সমাজের বৃহত্তর অংশের কথা মাথায় রেখে তদন্ত করবে’ মন্তব্য বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের।
এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্ত সিবিআইয়ের: প্রসঙ্গত টেটের (TET) ওএমআর শিট নষ্টের মামলার নির্দেশে পরিবর্তন। নতুন এফআইআর দায়েরের সিদ্ধান্ত সিবিআইয়ের উপরেই ছাড়লেন বিচারপতি। ‘সিবিআই চাইলে প্রাথমিক মামলায় আগের এফআইআরের ভিত্তিতেই তদন্ত’। নির্দেশ পরিবর্তন করে মন্তব্য বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। গতকালই নতুন করে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয় আদালত, সেই নির্দেশেই আজ পরিবর্তন আনলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পাশাপাশি আজই প্রাথমিকে আরও ২২ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। টেটে প্রশ্ন ভুল সংক্রান্ত মামলায় আরও ২২ জনকে নিয়োগের নির্দেশ। অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের। এই মামলায় ৩ দফায় ২৭২ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের।
আদালতে আরও এক চাকরি প্রার্থী: ববিতা সরকারের পর এবার প্রিয়ঙ্কা সাউ (Priyanka Shaw)। সম্প্রতি একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগে ফের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। কম নম্বর পেয়ে নিয়োগপত্র, অথচ বেশি নম্বর পেয়েও চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ। হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ প্রিয়ঙ্কা সাউ। প্রিয়ঙ্কার নথি পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বুধবারের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে কমিশনের সিদ্ধান্ত।
প্রথম কুড়ির মধ্যে নাম দেখে চোখেমুখে প্রশান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু সেই শেষ, গত পাঁচ বছরে এক মুহূর্তও শান্তিতে তিষ্ঠোতে পারেননি ববিতা সরকার। অন্য সময় হলে হয়ত, একধাপ পিছনো নিয়ে মাথা ঘামাতেন না তিনি। কিন্তু যে স্কুলের চাকরি পেতে দিনরাত এক করে ফেলেছেন, হাজারও কাজ সামলে চালিয়ে গিয়েছেন, মন্ত্রবলে এক নিমেষে সব ওলটপালট হয়ে যাবে, তা মেনে নিতে পারেননি ববিতা। তাই সামনের জন কতটা প্রভাব-প্রতিপত্তিশালী, তা না ভেবেই নিজের অধিকার আদায়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তাঁর সেই একরোখা মনোভাবেই আজ এসএসসি দুর্নীতি মামলায় কাঠগড়ায় স্বয়ং রাজ্যের শিক্ষা প্রতি মন্ত্রী পরেশ অধিকারী (Paresh Adhikary)। প্রভাব খাটিয়ে নিজের কম নম্বর পাওয়া মেয়েকে তিনি চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। তার জেরে বিচারপতি তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানোর সুপারিশ করেছে। মঙ্গলবার এবিপি আনন্দের ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সমুন অনুষ্ঠানে এসে নিজের অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন ববিতা (West Bengal Jobs)।
মমতার প্রশংসা: উল্লেখ্য রাজ্য সরকারকে তিরস্কার করা হোক বা মন্ত্রীর মেয়ের চাকরি কেড়ে নেওয়া, বিগত কয়েক মাসে বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিতি তৈরি হয়েছে তাঁর। কেউ আইনের রক্ষক বলে ভক্তিভাব প্রকাশ করেছেন, তো কেউ আবার বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি তাঁর পক্ষপাতিত্ব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এজলাসে আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদের ভিডিও রীতিমতো সাড়া ফেলে দেয়। তা নিয়ে ফের চাঁচাছোলা মন্তব্য শোনা গেল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখে (Justice Abhijit Gangopadhyay)।
আদালতে ফের চাঁচাছোলা মন্তব্য বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের
সম্প্রতি আইনজীবী অরুণাভ ঘোষের সঙ্গে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বাদানুবাদের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দু'জনের অম্লমধুর সম্পর্কে প্রায় সকলেই অবগত। এমনকি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যাের বিচার্য বিষয় বদল করতে প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও লিখেছেন বার অ্যাসোসিয়েসনের প্রধান অরুণাভ। তার পরই মঙ্গলবার এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।






















