TMC News: তৃণমূলকে ডোবাল কে? পদ ছেড়েই বিস্ফোরক কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মমতাকে নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য
Kakoli Ghosh Dastidar: তৃণমূলে টালমাটাল অবস্থা। জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন।

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর টালমাটাল তৃণমূল। দলে দলে রংবদলের দিকে ঝুঁকছেন কর্মী-সমর্থকরা। আবার প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন নেতারাও। সেই আবহে আবারও জোর ধাক্কা খেল জোড়াফুল শিবির। জেলা সভাপতির পদ থেকে এবার পদত্যাগ করলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কাকলি। নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। পাশাপাশি, দলনেত্রী সম্পর্কেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন। (Kakoli Ghosh Dastidar)
রবিবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন কাকলি। তৃণমূলের বারাসাতের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। জেলায় দলের ভরাডুবির দায়ভার নিয়ে সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন কাকলি। তবে সেই সঙ্গেই আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুলেছেন। কাকলির দাবি, তাঁর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিকের উপরও চোটপাট করত আইপ্যাক। গত কয়েক মাস ধরে যন্ত্রণায় ভুগেছেন তিনি। (TMC News)
আরও পড়ুন: ভোটে ভরাডুবির পর টালামাটাল তৃণমূল, এবার পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, কাঠগড়ায় তুললেন আইপ্যাককে
রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ক্ষোভ উগরে দেন কাকলি। সরাসরি নাম না করলেও, তিনি বলেন, “হঠাৎ করে কোনও ভুঁইফোড় সংস্থা এল, তারা এসে ধমকাল। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে বসে ধমকে যাচ্ছে। আমি রাজনীতি করছি ৪০-৪২ বছর। একটা মেয়ের বয়স ২২ বছর। সে এসে ধমকে যাচ্ছে এখানে!"
তিনি কি আইপ্যাকের কথা বলছেন? কাকলি জবাবে বলেন, "আপনারা বুঝে নিন। হ্যাঁ, তাই। তারা তো সারাক্ষণ ধমকাচ্ছে! কী করে রাজনীতি করতে হবে, কী করে ভোট করতে হবে, কী করে...এবারের ভোটটা দেখুন। সর্বনাশ করার মূলে যদি কেউ থাকে, তাহলে ওই সংস্থা। একেবারে সর্বনাশ করে দিয়েছে। আমি তো আইপ্যাককে নিয়োগ করিনি। যারা নিয়োগ করেছে, তারাই বলতে পারবে। কিন্তু ওইটুকু টুকু বাচ্চা ছেলেমেয়েরা আমাদের হেনস্থা করেছে, কর্মীদের হেনস্থা করেছে, গালমন্দ করেছে এবং ওঁদের চালিত পথ নিশ্চয়ই সঠিক ছিল না, যার জন্য এই বিপর্যয় বলে মনে হয় আমার।"
আরও পড়ুন: ফলতায় ডায়মন্ড হারবার মডেল ভেঙে চুরমার, বিপুল ভোটে জয়ী বিজেপি, তৃণমূল নেমে এল চতুর্থ স্থানে
আইপ্য়াকের ভূমিকা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের অন্দরে। একাধিক নেতা-নেত্রীরা সেই নিয়ে প্রকাশ্য়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই আবহেই এবার মুখ খুললেন কাকলি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এদিন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কাকলি। মমতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে কি না, মমতাকে তিনি সব জানিয়েছেন কি না, জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে কাকলিকে জানান, মমতা ‘ব্যস্ত রয়েছেন’। ফলে মমতার সঙ্গে কাকলির দূরত্ব বেড়েছে কি না, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাচক্রে কয়েক দিন আগেই লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে দেন মমতা। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুনরায় ওই পদে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই সময় প্রকাশ্যেই আক্ষেপ করতে দেখা গিয়েছিল কাকলিকে। এর পর কাকলি যখন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পান, সেই নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে গুঞ্জন শুরু হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমদের নিরাপত্তা যেখানে কাটছাঁট করা হয়েছে, কাকলি কী ভাবে নিরাপত্তা পেলেন, সেই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তৃণমূল থেকেই। যদিও কাকলির দাবি, ভোটের পর তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছিল। বিপদের ঝুঁকি ছিল তাঁকে নিয়েও। তাই নিরাপত্তা দিয়েছে কেন্দ্র।






















