Kali Pujo 2025: দেবীর অলৌকিক ক্ষমতার কথা সর্বজনবিদিত, উত্তরবঙ্গের প্রাচীনতম পুজোগুলির একটি বয়রা কালীবাড়ির পুজো
Kali Pujo: স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে দেবীর নতুন মন্দির। কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক সুকুমার ঘোষ এই কালী মন্দিরটি সংস্কার করেন।

সুদীপ চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর: শুধু উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) নয়, বলতে গেলে গোটা উত্তরবঙ্গের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কালী পুজোগুলির মধ্যে আজও উজ্জ্বল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের বয়রা কালীবাড়ির পুজো। আড়ম্বর নয়, ভক্তি এবং নিয়মনিষ্ঠাই এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রাচীনত্ব এবং দেবীর অলৌকিক মহিমার টানেই পুজোর রাতে আজও বহু মানুষ ভিড় করেন এখানে।
উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরে অবস্থিত বয়রা কালীবাড়ির কালী পুজো অনেক প্রাচীন। এই কালীবাড়ির পুজোর বয়স কত তার হিসেব সঠিকভাবে কারুরই জানা নেই। তবে কথিত আছে, প্রবীণ এক সাধক বয়রা গাছের নীচে প্রথম কালীপুজোর প্রচলন করেন। শোনা যায় এখানে দু'টি নদী ছিল। একটির নাম রুহিতর এবং অপরটির নাম শ্রীমতি। এই দুই নদী দিয়ে বড় বড় নৌকা করে বাণিজ্য করত দূর দূরান্ত থেকে আসতেন বহু বণিক। আপাতত অবশ্য দুই নদীই অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। রুহিতর নদীটি এখন মজে গিয়েছে ও শ্রীমতি নদীটির অবস্থাও প্রায় একই।
বর্তমানে গুদরি বাজার নামক জায়গাটিতে বণিকেরা এসে বিশ্রাম করতেন। সেই সময় অঞ্চলটি ছিল জঙ্গলময়। সেই জায়গার পাশেই ছিল একটি ছোট্ট ঘর। মূলত সেই ঘরটিতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে দেবীর নতুন মন্দির। এরপর কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক সুকুমার ঘোষ মন্দিরটি সংস্কার করেন। তারপর থেকে দেবীর অলৌকিক ক্ষমতার কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। মন্দিরে বসানো হয় দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তিও। আর বর্তমানে কালীপুজোর দিন থেকেই হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় এই মন্দির প্রাঙ্গণে।
শুধু জেলা নয়, জেলার বাইরে থেকেও লোক সমাগম হয় এই মন্দির প্রাঙ্গণে। শাস্ত্রমতে দেবী পূজিতা হন এখানে। এই কালীবাড়ির অলৌকিক ক্ষমতার নানা গল্পকথা ছড়িয়ে রয়েছে সর্বত্র। নিজ নিজ মনবাসনা পূরণে কালীপুজোর রাতে ভক্তদের প্রার্থনা আর মন্ত্রোচ্চারণে সরগরম হয়ে ওঠে এই মন্দির প্রাঙ্গণ। পুজো কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কালীপুজো দীর্ঘদিনের প্রাচীন। মানুষ ভক্তি আর নিষ্ঠা মেনেই মায়ের মন্দিরে পুজো দেন। পুজোর ক'টা দিন দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। পুজো দেন মায়ের কাছে। মানত করেন অনেকেই। কালী পুজোর আর বেশি দেরি নেই৷ তবে দৈনিক মায়ের পুজো হয়। প্রচুর মানুষ প্রতিদিন এখানে পুজো দিতে আসেন। ভক্তি আর নিষ্ঠা মেনে এখানে পূজিতা হন বয়রা মা।





















