Kaligunj By Election: 'আমার তামান্না চলে গেছে, আমার বিচার চাই, ওদের ফাঁসি চাই', আর্তনাদ সন্তানহারা সাবিনার
Kaligunj By Poll: 'আমার উঠোনে এসে মেয়েটাকে মেরে গেল। আমার মেয়ে শহিদ হয়েছে। আর কোনও তামান্নাকে যেন যেতে না হয়। আর কোনও বুক যেন খালি না হয়।

Kaligunj By Election: বিয়ের ১৫ বছর পরে মোলান্ডির সাবিনা ইয়াসমিনের কোল আলো করে এসেছিল তামান্না। ফুল ভালবাসত মেয়ে। বাড়ি জুড়ে তাই ছিল ফুলের বাগান। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর জন্মদিন ছিল আগামী মাসেই। ফুলের মতোই ফুটফুটে পা দিতে ১০ বছরে। বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত সে। পুলিশদেরও পছন্দ ছিল তার। আর তাই ঘরে লাগিয়ে রেখেছিল পুলিশের ছবি। মা তামান্নাকে বলতেন কলেজে ভর্তি করেই বিয়ে দিয়ে দেবেন। তবে বাবা বলতেন, মায়ের কথা বাদ দাও। তুমি যা পড়তে চাও, আমি পড়াব। যা হতে চাও তাই হবে। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক হয়েও টানাটানির সংসারে মেয়ের ব্যাপারে কোনও সমঝোতা, আপোষ করেননি বাবা। কষ্ট করেই ভর্তি করিয়েছিলেন ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে।
এত স্বপ্ন, এত আশা-আকাঙ্খা, সব শেষ হয়ে গেল এক লহমায়। একটা উপনির্বাচন, একটা দলের উন্মত্তের মতো জয়োল্লাস, কেড়ে নিল একরত্তির প্রাণ। খালি হল এক মায়ের কোল। তাঁর বুকফাটা আর্তনাদ, হাহাকার শোনা যায় না। আর্তনাদ করে সাবিনা বারবার বলছেন, 'আমার বিচার চাই। ওদের ফাঁসি চাই। কেন ফাঁসি হবে না, তার উত্তর কেউ দিক আমায়। মনে হচ্ছে আমি ঠুকে ঠুকে ফেলে দিই। মাথা শেষ হয়ে যাচ্ছে আমার। হয় তামান্নাকে দাও, নাহলে বিচার দাও।'
অভিযোগ, তামান্নার পরিবার সিপিএম সমর্থক। ভোট দিয়েছিলেন সিপিএম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীকে। তার জেরেই টার্গেট হতে হল তাঁদের। অকালে চলে গেল পরিবারের সকলের আদরের তামান্না। চারিদিকে এখন শুধুই হাহাকার। তার সঙ্গে জমাট বাঁধছে শাসক দলের এবং পুলিশের প্রতি ক্ষোভ। ফুঁসছেন সকলেই। তামান্নার পরিবারের তরফেও স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশি তদন্তে আস্থা নেই তাঁদের। সিবিআই তদন্ত চান তাঁরা। তামান্নার মা সাবিনার কথায়, ঘটনার অভিযুক্তদের বাড়ির কাছেই দেখেছেন তিনি। সাবিনা বলেছেন, সেই কবে বিয়ে হয়ে মোলান্ডি এসেছেন তিনি। কিন্তু ওই লোকগুলোর সঙ্গে শত্রুতা ছিল না তাঁদের। না তিনি, না তাঁর স্বামী কারও সঙ্গেই কোনওদিনই শত্রুতা ছিল না ওদের। তাই ভাবতেই পারেননি যে এভাবে তাঁদের মেয়েকে শেষ করে দেবে ওরা।
হাহাকার করে সাবিনা বলছেন, 'আমার উঠোনে এসে মেয়েটাকে মেরে গেল। ওরা ভেবেছে হোসেন-সাবিনার মেয়েকে মেরে দিলে কিছু যায় আসে না, ওরা কিছু করতে পারবে না। ওরা আইন জানে না, পার্টি করে না, কিছু বোঝে না। ওরা কিছু করতে পারবে না। আমার মা-কে হাতে করে নিয়ে রাখতাম, বিছানায় শোয়াতাম না, আমার হাতে শুয়ে থাকত। তাকে মাটিতে শুইয়ে এসেছে। আর ওরা সোনার পালঙ্কে শুয়ে রয়েছে।' পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রসঙ্গ তুলে সাবিনা এও বলেছেন যে, পুলিশ যেভাবে ধীর গতিতে চলছে, তাতে অভিযুক্তরা আরও উঁচুতে, আরও ভাল সোনার পালঙ্কে শুয়ে থাকবে। আর সাধারণ মানুষের পরিবারের লোকজনের মৃত্যু হবে, তাঁদের বাড়ির লোকজন তামান্নার মায়ের মতোই আর্তনাদ করবেন।
এক পুলিশকর্তা কালীগঞ্জের এই ঘটনাকে অ্যাক্সিডেন্টের অ্যাখ্যাও দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তামান্নার মা বলেছেন, 'একজন পুলিশ বলেছে এটা অ্যাক্সিডেন্ট। কীভাবে এটা অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে? আমার ফুলের মতো মেয়ে কি বোমা নিয়ে খেলা করে? আপনার মনে হয়েছে আমার দুধের শিশু বোমা নিয়ে খেলা করে? বাড়িতে পায়রা, মুরগি দেখলে ভয় পেত মেয়েটা। পটকা ফাটলে ওকে বলতে হত বিয়েবাড়ি আছে, তাহলে ভয় কমত। ওই পুলিশের কে কেউ নেই? কীভাবে একথা বলল? উত্তর দিতে হবে আপনাদের। সারা রাজ্যের কাছে জানতে চাইছি। আপনারা আমার মেয়ের দেহের ছবি দেখেছেন। ওকে উঠোনে পড়ে থাকতে দেখেননি। একদিকে পড়েছিল তামান্না। এখানে (গলা থেকে বুকের অংশে হাত দেখিয়ে বলেছেন তামান্নার মা) কিছু নেই। এটা অ্যাক্সিডেন্ট?' সাবিনা বারবার বলছেন, 'আমার মেয়েকে বোমা মারা হয়েছে। আমার মেয়ে আর নেই। তামান্না চলে গেছে। আমার মেয়ে শহিদ হয়েছে। আর কোনও তামান্নাকে যেন যেত না হয়। আর কোনও বুক যেন খালি না হয়।'






















