Kolkata Crime News : পথদুর্ঘটনায় আহত ৩ ! ট্যাংরায় উদ্ধার পরিবারের বাকিদের শিরাকাটা দেহ ! পরতে পরতে রহস্য
Kolkata News : নানারকম প্রশ্ন উঠছে ঘটনা নিয়ে। তাঁরা নিজেরাই হাতের শিরা কেটে আত্মঘাতী হয়েছেন নাকি তাঁদের খুন করা হয়েছে?

প্রকাশ সিনহা, কলকাতা : ভোরের আলো তখনও ফোটেনি ভালভাবে। কাকভোরে বাইপাসে অভিষিক্তার কাছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আর সেই ঘটনার সূত্র ধরেই সামনে চলে এল একই পরিবারের তিন সদস্যের রহস্য মৃত্যুর ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, দিন ভোর সোয়া তিনটে নাগাদ বাইপাসে অভিষিক্তা মোড়ের কাছে একটি গাড়ি মেট্রোর পিলারে ধাক্কা মারে। এতটাই জোরে ধাক্কা দেয় গাড়িটি, খুলে গিয়েছিল গাড়ির এয়ারব্যাগও। তাতে দুই ভাই ও এক কিশোর গুরুতর জখম হয়। আহত অবস্থায় তাঁদের রুবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঁদের মধ্যে একজনের জ্ঞান ছিল। তিনিই পুলিশকে জানান, ট্যাংরার একটি ঠিকানায় তিনটি দেহ পড়ে আছে ! তিনি আরও দাবি করেন, ট্যাংরার বাড়ির তিনজনই পায়েসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। জয়েন্ট সিপি ক্রাইম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় যে ভাই সংজ্ঞা হারাননি, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দাবি করেন, তাঁরা পিলারে গাড়ির ধাক্কা মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশের বক্তব্য, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, বাড়িতে থাকা তিন মহিলার হাতের শিরা কাটার কথাও জানান।
এই বয়ানের সূত্র ধরে, ট্যাংরার ওই বাড়িতে গিয়ে পৌঁছয় পুলিশ বাহিনী। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, বাড়িটির থার্ড ফ্লোরে পড়ে রয়েছে তিনজন মহিলার দেহ। তিনটি দেহ পড়েছিল তিনটি আলাদা ঘরে। তাঁদের প্রত্যেকেরই হাতের শিরা কাটা ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে, আশেপাশে কোনও ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। বাড়ির বিভিন্ন তলেও দেখা গিয়েছে চাপ চাপ রক্তের দাগ।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ওই পাড়ারই বাসিন্দা ওই পরিবার। দুই ভাই থাকতেন পরিবার নিয়ে। পাড়ায় বিশেষ মেলামেশা করতেন না। তবে ভদ্র পরিবার হিসেবেই এলাকায় সুনাম আছে তাঁদের। চামড়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁরা। সম্প্রতি ব্যবসায় আর্থিক টানাপোড়েন চলছিল, জানিয়েছেন হাসপাতালে ভর্তি সংজ্ঞায় থাকা ব্যক্তি।
এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই নানারকম প্রশ্ন উঠছে ঘটনা নিয়ে। তাঁরা নিজেরাই হাতের শিরা কেটে আত্মঘাতী হয়েছেন নাকি তাঁদের খুন করা হয়েছে? পরিবারের পুরুষ সদস্যদের উদ্দেশ্য যদি আত্মহত্যাই হয়ে থাকে, তাহলে বাড়িতে নয় কেন? কেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন তাঁরা? যিনি সংজ্ঞায় আছেন, তিনি কি সত্যি বলছেন? ইতিমধ্যেই ট্যাংরার বাড়ি থেকে দেহ বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য। আনা হয়েছে স্নিফার ডগ। এখন মূল প্রশ্ন একটাই, মৃত তিন মহিলা কি আত্মহত্যা করেছেন নাকি খুন হয়েছেন?
আরও পড়ুন : হাওড়া, শালিমার থেকে বাতিল গুচ্ছ গুচ্ছ দূরপাল্লার ট্রেন ! ভেস্তে যেতে পারে বেড়ানোর প্ল্যান






















