SSC Teachers Agitation Case : চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করবেন তাঁদেরই লাথি মারা পুলিশ অফিসারই !
ডিআইয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করবেন এক চাকরিপ্রার্থীকে লাথি মারা পুলিশ অফিসার রিটন দাস।

পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : কসবার ডিআই অফিসে আন্দোলনকারী চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করবেন তাঁদেরই লাথি মারা পুলিশ অফিসার ! বুধবার নির্মমভাবে প্রতিবাদী চাকরিহারা শিক্ষকদের লাঠিপেটা করেছিল পুলিশ । এমনকী মারল লাথিও। এই ঘটনায় যখন উত্তাল রাজ্য। সমালোচনা, কটাক্ষের বাণ চারিদিক থেকে...ঠিক সেই সময় উল্টে চাকরিহারাদের বিরুদ্ধেই দায়ের হয় জোড়া মামলা। আর এবার তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভার গেল লাথি মারা পুলিশ অফিসারের ওপরই।
তদন্ত করবেন চাকরিহারাকে লাথি মারা পুলিশ অফিসার
বুধবার কসবার ডিআই অফিস অভিযানে যান চাকরিহারা শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষকর্মীরা। তাঁরা ব্যরিকেড পেরিয়ে অফিসে ঢুকতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। চাকরিহারাদের ওপর বেধড়ক লাঠি চার্জ করে পুলিশ। একজন চাকরিহারাকে লাথি মারতে দেখা যায় কসবা থানার সাব ইন্সপেক্টর রিটন দাসকে। বুধবারের ঘটনায় কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করে কসবার ডিআই। চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে ৮টি ধারায় মামলা করা হয় এরমধ্যে ৩টি ধারা জামিন অযোগ্য। ডিআইয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করবেন এক চাকরিপ্রার্থীকে লাথি মারা পুলিশ অফিসার রিটন দাস।
কী কী মামলা ?
চাকরিহারাদের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একটি জেলা স্কুল পরিদর্শকের করা অভিযোগ, দ্বিতীয়টি সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা, পুলিশকে মারধরের অভিযোগে কসবা থানার পুলিশের করা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। দুটি মামলাই করা হয়েছে বুধবার চাকরি ফেরত চাইতে আসা অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে।
বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তর কাছে লাথিকাণ্ডের ব্যাখ্যা তলব
অন্যদিকে লালবাজার সূত্রে খবর, কসবায় চাকরিহারাদের লাঠিপেটা ও লাথিকাণ্ডে কলকাতা পুলিশের DC SSD বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তর কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলবের পাশাপাশি, তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, কী কারণে শিক্ষকদের লাঠিচার্জ এবং লাথি মারা হল? ওই পুলিশকর্মীর সঙ্গে কী এমন ঘটেছিল যার জন্য লাথি মারেন? কেন লাথি মারলেন, সেই ব্যাখ্যাও তলব করা হয়েছে।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। কসবা থানার সাব ইন্সপেক্টর রিটন দাসকে ক্লোজ করা উচিত বলে দাবি বিজেপি নেতা সজল ঘোষের। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার তাঁর আসল রং দেখিয়েছেন - নির্মম, নিষ্ঠুর এবং অসৎ। চাকরিপ্রার্থীদের বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও, তাঁর পুলিশ কসবায় প্রতিবাদী শিক্ষকদের নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করেছে, তাঁদের পেটে-বুকে লাথিও মেরেছে।'
এখন ঘটনার জল কোনদিকে গড়ায় সেটাই দেখার।






















