Kolkata News: ভোটের মুখে EM বাইপাস থেকে গ্রেফতার রাজ্যের এই তৃণমূল নেতা !
Kolkata TMC Leader Arrested: ভোটের মুখে গ্রেফতার বেলেঘাটার তৃণমূল নেতা, কেন এই শাসক নেতাকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ ?

পার্থপ্রতিম ঘোষ, আবির দত্ত, সুকান্ত মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা: ভোটের মুখে গ্রেফতার বেলেঘাটার তৃণমূল নেতা রাজু নস্কর। প্রোমোটিংয়ের বিবাদে রাজু নস্করের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে হুমকি-মারধরের অভিযোগ। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ ! কলকাতা পুলিশের হাতে EM বাইপাস থেকে গ্রেফতার বেলেঘাটার তৃণমূল নেতা রাজু নস্কর।
সম্প্রতি অভিযোগ দায়ের হয় এই রাজু নস্করের বিরুদ্ধে। রাজু নস্কর ও তার দলবল মিলে এক ব্য়ক্তি অভিযোগ করেন প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদ এবং তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে মারধর করা হয়। এর পরবর্তীকালে বেলেঘাটা থানায় অভিযোগ হয়। তারপরই তাঁকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার বলেন, রাজু নস্করের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ জমা পড়েছিল। একটা নির্দিষ্ট অভিযোগ পড়েছিল। অভিযোগকারী বলেছিলেন, তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। ভয় দেখানো হয়েছে। তার পরিবারের লোককেও শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কেস হয়েছিল। আমরা কেস রুজু করে তদন্ত করছিলাম। আজ (শনিবার) বিকেলের দিকে অভিষিক্তা ক্রসিংয়ের থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সুকমল দেবনাথের দাবি, বেলেঘাটার একটি বাড়িতে ৭৫ বছর ধরে ভাড়ায় রয়েছে তাঁর পরিবার। ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজু নস্কর ও দলবল তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ৫ ফেব্রুয়ারি বেলেঘাটা থানায় তৃণমূল নেতা রাজু নস্কর ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগকারী সুকমল দেবনাথ বলেন, ৪ তারিখে হঠাৎ করে এসে প্রায় ৫০-৬০ জনের মতো এসেছে। উনি এসেছেন। রাজু নস্কর এসেছেন। রাত্রিবেলা বলছে, এখানে প্রোমোটিং করব। আমি তো বলেছি, আমি ঘর মাপতে দেব না। আপনারা যে বাড়িওয়ালা হয়েছেন, তার কাগজপত্র দেখান। বলছে, বেলেঘাটার কোর্ট আমি। বেলেঘাটা থানা আমি। আমাকে পুরো তুলে নিয়ে চলে গেল।
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন রাজু নস্কর। বেলেঘাটা তৃণমূল নেতা ও প্রোমোটার রাজু নস্কর বলেন,মিডিয়া ফুটেজ পাওয়ার জন্য হয়তো আমার নাম বলছে। আমি জানিনা। আমি কিছু ঘটনা শুনেছি। ভাড়াটে ভাড়াটে ঝামেলা আছে। এটুকু শুনেছি। অঞ্চলে থাকি। অঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করি। মানুষ আসে আমার কাছে ভালবেসে। কারও ভাল করতে গিয়ে কারও খারাপ হয়। এই ছেলেটা যে নাম বলছে, তাকে আমি চিনি না। 'এটাই প্রথম নয়, ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল, বেলেঘাটাতেই তৃণমূল কাউন্সিলর অলকানন্দা দাসের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য়ে আসে।পুলিশের সামনেই গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে রাজু নস্করের বিরুদ্ধে। ঘটনার ৭ দিন পর ওড়িশার গোপালপুরের একটি রিসর্ট থেকে তৃণমূল নেতা রাজু নস্কর-সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে লালবাজারের গুণ্ডাদমন শাখা।
ফের প্রেমোটারি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে তৃণমূল নেতা গ্রেফতারির ঘটনায় তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, রাজু নস্কর বেলেঘাটার অন্য়তম বড় জমি মাফিয়া। এদের একটাই কাজ, সেটা হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখিয়ে বড়ি দখল করে উচ্ছেদ করে, নামমাত্র পয়সা দিয়ে নিজের নামে করে এরা কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি করেছে। রাজুতে কোনও রাজনীতি নেই। রাজুকে দিয়ে রাজনীতি করাবে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। একটি বাড়ি নিয়ে বিবাদ বলে শুনেছি। স্থানীয় কোনও সমস্য়া। পুলিশের কাছে যা যা অভিযোগ এসেছে, পুলিশ সেইমতো ব্য়বস্থা নিয়েছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগেই প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কাঁকুলিয়া। বোমা-গুলি- অস্ত্র নিয়ে দাপাদাপির অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু এখনও অধরা।এই আবহেই বেলেঘাটায় প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদের জেরে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার রাজু নস্কর।























