Tarak Singh: 'শর্ট-সার্কিট হতে পারে জেনেও যদি নামছি, তাহলে তো আত্মহত্যা করার জন্য নামছি', আজব যুক্তি মেয়র পারিষদের !
Kolkata Rain: সোমবার রাতের ৪-৫ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে কাল ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয় কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের।

কলকাতা : "আমরা যখন সবাই জানি যে শর্ট-সার্কিট হতে পারে, আর হলে মৃত্যু হবে...তারপরেও যদি আমি নামছি, তাহলে তো আমি নিজেই আত্মহত্যা করার জন্য নামছি।" খোলা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুতে দাবি মেয়র পারিষদ তারক সিংহের। তিনি বলেন, "CESC-ই তো প্রোভাইড করছে লাইনটা। টেকনিক্যালি সিইএসসিও সঠিক বলছে। রক্ষণাবেক্ষণটা তো আমরা দেখি। ওয়ার্ডভিত্তিক লোক আছে। ১৪৪টা ওয়ার্ডে যদি আপনি ৫০ হাজার করেও লাইটপোস্ট ধরেন, সিইএসসি-র পোল আর আমাদের নিয়ে, তাহলে প্রায় ৫০ লক্ষ হবে। ৫০ লক্ষ লাইটপোস্টকে কি একটা করে লোক দিয়ে পাহারা দিয়ে সম্ভব ? জনগণেরও তো সচেতন হওয়া উচিত। আমি যখন রাস্তায় নামব...আমরা যখন সবাই জানি যে শর্ট-সার্কিট হতে পারে, আর হলে মৃত্যু হবে...তারপরেও যদি আমি নামছি, তাহলে তো আমি নিজেই আত্মহত্যা করার জন্য নামছি। সরকারের দায়ের কোনও প্রশ্নই নেই। কর্পোরেশন লাইটিংয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করে। কর্পোরেশনের যে লাইটপোস্টগুলো আছে সেটা। সিইএসসি-র লাইটপোস্ট কর্পোরেশন করে না।"
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "ওঁর নাম তারক সিংহ বললেন তো, উনি বাবা তারকনাথের সেবায় জীবন দিয়েছেন হয়ত। সেইজন্য বাস্তব জগতে ওঁদের যে কী করণীয় সেই বোধটায় ওঁদের নেই। সবথেকে বড়, জনগণের তো সাবধান হওয়া উচিত, এইসমস্ত লোকদের তাঁরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। যাঁরা তাঁদের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন না করতে পেরে জনগণের ঘাড়ে বোঝা চাপিয়ে দেন। জনগণের ভাবা উচিত, এই সমস্ত অযোগ্য-অপদার্থ মানুষদের রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়ে আর ক্ষমতায় আনবেন কি না। জনগণকে বিচার করতে হবে।"
সোমবার রাতের ৪-৫ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে কাল ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয় কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তের। উত্তর থেকে দক্ষিণ, দেখা গেছে তীব্র জল-যন্ত্রণার ছবি। বৃষ্টি থামার ২৪ ঘণ্টা পরও জল জমে রয়েছে একাধিক জায়গায়। মঙ্গলবার দুর্যোগের দিনে, জমা জলে ডুবে এবং বিদ্য়ুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্য়ুমিছিল নেমেছে ! এগারোজনের মৃত্য়ু হয়েছে। প্রশ্নের মুখে সিইএসসি ও বিদ্যুৎ দফতরের ভূমিকা। এত মৃত্যুর দায় কার ? উঠছে প্রশ্ন। এই প্রেক্ষাপটে সিইএসসি-কে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা খুবই মর্মান্তিক, মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা। আমার সঙ্গে CESC-র কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার কথা হয়েছে। এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা হয়েছে, কিন্তু CESC সতর্কভাবে কাজ করছে না, এভাবে যেন মানুষের প্রাণ না যায়। CESC-কে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, চাকরিও দিতে হবে। রাজ্য সরকারও মৃতদের পরিবারের পাশে আছে। জীবনের বিকল্প অর্থ হয় না। পুজোর আগে এতগুলো জীবন চলে গেল। সকলকে অনুরোধ করব জল থাকাকালীন কেউ রাস্তায় বেরোবেন না'।






















