Mamata Banerjee: একটা তিনতলা বাড়ি ওদের দিয়ে বললাম এটা নাও আর নিবেদিতার বাড়ি রামকৃষ্ণ মিশনকে ফেরত দাও: মমতা
West Bengal CM Mamata Banerjee: মমতা জানান, কীভাবে তিনি দার্জিলিংয়ে ভগিনি নিবেদিতার বাড়ি রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

কলকাতা: নিউটাউনে তৈরি হচ্ছে দুর্গা-অঙ্গন। নিউটাউন অ্য়াকশন এরিয়া ওয়ানে সোমবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)। সেখানে ৩৬৫ দিন মা দুর্গাকে দেখার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান মমতা। নিত্য চলবে পুজো অর্চনা।
সেই অনুষ্ঠানে গিয়েই মমতা শোনান, কীভাবে তিনি দার্জিলিংয়ে ভগিনি নিবেদিতার বাড়ি রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কীভাবে মায়ের বাড়ি সাজিয়েছেন। কীভাবে বাগবাজারে ভগিনি নিবেদিতার বাড়ি উদ্ধার করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি গিয়েছিলাম দার্জিলিংয়ে। রামকৃষ্ণ মিশন থেকে বলা হল, ভগিনি নিবেদিতা যেখানে দেহত্যাগ করেছিলেন, সেই বাড়িটা জিটিএ নিয়ে নিয়েছে। আমি তখন ওদের ডাকলাম, মিটিং করলাম। একটা তিনতলা আস্ত বাড়ি ওদের দিয়ে বললাম এটা তুমি নাও আর নিবেদিতার বাড়ি রামকৃষ্ণ মিশনকে ফেরত দাও। মিথ্যে বললে কেউ আমাকে ধরিয়ে দেবেন।'
এরপরই মমতা বলেন, 'বাগবাজারে নিবেদিতার বাড়ি, কিছুতেই হয় না। আমি নিজে তিনবার গিয়েছি। মানে না আর, মানে না আর, মানে না আর। যাই হোক ওটাও শেষ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে। এবং উপযুক্ত জায়গায়, স্বামীজিরা দেখাশোনা করেন, মায়েরা আছেন।' আরও বলেন, 'মায়ের বাড়ি। কী অবস্থা ছিল। মায়ের বাড়ির ওখান দিয়ে কেউ যাতায়াত করতে পারত না। এখন গিয়ে দেখবেন কীভাবে পাল্টে গিয়েছে সব।'
সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি প্রোমোটিং হওয়া থেকে আটকেছেন, এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, 'অনেকে ধর্ম নিয়ে বড় বড় কথা বলেন। সুব্রত মৈত্র আজ বেঁচে নেই, তাঁকে আমি মনে রাখব। কেন জানেন? তিনি আমাকে রাত এগারোটায় ফোন করে বলেন, দিদি, স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি প্রোমোটিং হয়ে যাচ্ছে। মানে সিমলা স্ট্রিটের যে বাড়িটা স্বামীজির অরিজিনাল বাড়ি। আমি শুনে বলি সেকী! স্বামীজির বাড়ি কে প্রোমোটিং করছে, কার এত বড় সাহস! পরের দিনই আমি বাড়িটা অধিগ্রহণ করে নিয়েছিলাম। আমাদের টাকা দিয়ে। এবং সবটাই স্বামীজিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।'
মমতা জানিয়েছেন, নিউটাউনের এই দুর্গা অঙ্গন ৩৬৫ দিনই খোলা থাকবে। মমতা বলেছেন, 'আগে যে জমিটা দেখেছিলাম সেটা ১২ একর ছিল। আমি বললাম করছি যখন, ভাল করেই করা হোক। পরে দেখলাম এই জায়গাটা আরও বড়। দুর্গা অঙ্গন বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গা অঙ্গন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ৩৬৫ দিনই এখানে মা দুর্গা পুজোর নিত্য আঙিনা হবে। আমাদের ৩৬৫ দিনই দুর্গাপুজো দেখার সুযোগ পাবেন। সংস্কৃতি জগতের অনেক কর্মসংস্থান হবে। অনেক দোকান হবে, কারুশিল্পীরা দোকান দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, সংস্কৃতি, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যও তুলে ধরবে। জগন্নাথ ধাম যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা হবে ২ লক্ষ বর্গফুট, উঠোনেই ১ হাজার লোক দাঁড়াতে পারবেন।'






















