Nadia Kaligunj News: '৭০ বছরেও বাড়ি ঢুকতে দেব না'... কালীগঞ্জের ৩ বছর আগের ভাইরাল ভিডিওয় ছত্রে ছত্রে দুষ্কৃতীদের ঔদ্ধত্য
Nadia Kaligunj: এই ভাইরাল ভিডিও- তে দেখা যাওয়া আনোয়ার ছিল উপনির্বাচনের ফলাফলের দিনের হামলাকারীদের মধ্যে, ভিডিও দেখে এমনটাই জানিয়েছেন তামান্নার মা।

আবির দত্ত, কালীগঞ্জ : নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভায় উপনির্বাচনের ফলাফলের দিন বোমার আঘাতে নিহত হয়েছে ৯ বছরের তামান্না খাতুন। এই ঘটনায় যে এফআইআর দায়ের হয়েছে, সেখানে নাম রয়েছে ২৪ জনের। পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে মাত্র ৫ জনকে। তাদের মধ্যে একজন আনোয়ার। সেই আনোয়ারেরই একটি ভিডিও বর্তমানে ভাইরাল হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই ভিডিও প্রায় তিন বছর আগের। আর এই ভাইরাল ভিডিওর ছত্রে ছত্রে দেখা যাচ্ছে আনোয়ারের ঔদ্ধত্য। শোনা যাচ্ছে, বোমাকাণ্ডে ধৃত আনোয়ার শেখ শাসাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে, আপত্তিকর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া তিন বছর আগের ওই ভিডিওতে আনোয়ার শেখকে বলতে শোনা গিয়েছে, 'এখন ৭০ বছর বাড়ি আসতে পারবে না। আমি বলে গেলাম, ...মার্ডার করে দেব ১০-২০টা, একদম। পুলিশ দিয়ে মার্ডার করে দেব ১০টা,...৫ গাড়ি পুলিশ দিয়ে। আমি যাব পুলিশকে বলে দেব, পুলিশ এখানে আসবে না। মানা করে দিয়েছি আসবে না। এখানকার পুলিশ নয়, কৃষ্ণনগর...'
'যারা পালিয়েছে, তাদের ৭০ বছরেও ঢুকতে দেব না', ঘরছাড়াদের ভাইরাল ফুটেজে হুমকি আনোয়ারের। 'পুলিশের সামনেই যা করার করব', হুমকি আনোয়ারের। ঠিক এই কদর্য ভাষাতেই ওই ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে আনোয়ার শেখকে। অন্যদিকে এই ভাইরাল ভিডিও- তে দেখা যাওয়া আনোয়ার ছিল উপনির্বাচনের ফলাফলের দিনের হামলাকারীদের মধ্যে, ভিডিও দেখে এমনটাই জানিয়েছেন তামান্নার মা। আগেই তামান্নার মা সাবিনা অভিযুক্তদের অনেকের নাম করেছিলেন। সেই তালিকায় ছিল এই আনোয়ার শেখের নাম।
এর পাশাপাশি ঘরছাড়াদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের তাড়িয়ে দিয়েছিল আনোয়ার। 'যারা বোমাবাজি করেছে, তাদের মধ্যে নবাব শেখ ও বিমল শেখ এখনও ফেরার। ধরা পড়েছে আদর শেখ, শরিফুল। ধৃত আদর শেখের ছেলে কালু বোমা ছুড়েছে', অভিযোগ তামান্নার মায়ের। তিন বছর আগের ভাইরাল ফুটেজে দেখা এসব ছবি নিয়ে পুলিশকে আগে অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, অভিযোগ তামান্নার মায়ের।
আগেই তামান্নার মা অভিযোগ করেছিলেন যে মোলান্ডি গ্রামে এর আগেও ভোটের সময় ঝামেলা হয়েছে। এবারও যে অশান্তি হবে তা পুলিশ জানত আগে থেকেই। তাও আসেনি। বোমা উদ্ধার করেনি। বুক ফাটা আর্তনাদ করে এক মা হাহাকারের সঙ্গে শুধু বারবার বলছেন, পুলিশ সময়ে এলে হয়তো তাঁর সন্তান বেঁচে যেত। এক মায়ের বুক খালি হতো না।






















