Kolkata Fire: কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, সরাসরি শুভেন্দুকে আক্রমণ শুভঙ্করের, বললেন, ‘১০০ দিন পেরিয়ে গেল, আপনারা পারছেন না’
New Market Fire: তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ড।

কলকাতা: খাস কলকাতার বুকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। শিশু-সহ ন'জনের মৃত্য়ু হয়েছে। গোটা ঘটনায় পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দিকে আঙুল তুলছে রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর গত ১০০ দিনে তারা কী করল, এবার সেই প্রশ্ন উস্কে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর দাবি, নয় নয় করে ১০০ দিন হয়ে গিয়েছে নতুন সরকারের। বিল্ডিং অডিটও করানো হয়েছে। কিন্তু তার পরও এই ঘটনা। শুভঙ্করের বক্তব্য, "এই সরকার চলছে না।" (New Market Fire)
তারাপীঠের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ড। দমবন্ধ হয়ে এক শিশু-সহ ন'জন মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছ'জন। সেই ঘটনায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তদন্তের জন্য গড়া হয়েছে পাঁচ সদস্যের SIT. সেই আবহেই এদিন কংগ্রেস প্রতিনিধিদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন শুভঙ্কর। সেখানে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। (Kolkata Fire)
এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্যত ফুঁসে ওঠেন শুভঙ্কর। তিনি বলেন, "১০০ দিন অতিক্রান্ত হল। তাই বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সভাপতি-সবাই মিলেঢা কঢোল বাজাচ্ছেন। এটা তো একদিনে তৈরি হয়নি? বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যিনি, তিনি তো সাড়ে ন'বছর তৃণমূলের মন্ত্রী ছিলেন! তিনি সারা কলকাতার সব জানতেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে বলতেন, 'আমি সব জানি। কিন্তু কিছু করতে পারছি না। আমি বিরোধী দলনেতা'। আমরা বলেছিলাম, স্বাগত জানাই বাংলসার উন্নয়ন করুন। প্রথম ৩০ দিন, তার পর ৬০, ৯০ দিন, ১০০ দিন হয়ে গেল। তারাপীঠে আগুন লাগল এবং কলকাতা শহরে প্রচুর আগুন লেগেছে।"
রাজ্যের মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা করেন শুভঙ্কর। বলেন, "তখন দেখতাম, তৃণমূলের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক বেঞ্চে বসে থাকতেন। বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি তাঁকে কখনও বেঞ্চে বসে থাকতে দেখিনি। মুখ্যন্ত্রী হিসেবে তারাপীঠের ঘটনা যখন দেখলেন, আপনি কলকাতা শহর, কলকাতা থেকে বিধায়ক হয়েছেন। আপনি ভাবলেন না যে, এখানে বেআইনি ভাবে হোটেল চলছে! তারতলার ঘটনার পর বললেন বিল্ডিং অডিট হবে। অডিট করার পর কত পেয়েছে? ১০টা পেয়েছেন? দু'টো পেয়েছে মাত্র। তাহলে ভাবুন। এখানে রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্স বা বসতি এলাকায় হোটেল চালাচ্ছে। তাহলে কী করছেন! তিনি বোর্ড ভেঙে দিলেন। কলকাতা পুরসভার মেয়র থেকে বাকিরা পালিয়ে গেলেন। চালাবে কে? একা অগ্নিমিত্রা পাল চালিয়ে যাবেন! সেখানে যে কমিশনার নিয়োগ করলেন, স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করলেন...কী হচ্ছে? এই যে ন'টি প্রাণ চলে গেল, কে কৈফেয়ত দেবে? সল্টলেকের ভিতরে এক মহিলাকে পুলিশ ধর্ষণ করেছে। সেটাও একটা ঘটনা।"
আরও পড়ুন: ঋণের কাঠামো বদলের প্রস্তাব দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সরাসরি প্রভাব পড়বে হোম লোন, পার্সোনাল লোনের EMI-তে
এই ঘটনার জন্য কাকে দায়ী করছেন জানতে চাইলে শুভঙ্কর বলেন, "তারাতলা গোডাউনের মালিক ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। এখানেও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হবে। তার পর চুপ হয়ে যাবে। আমি তো বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কথা শুনেছিলাম। কী হল? বেআইনি নির্মাণের নামে গরিব কিছু মানুষের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হল। যারা বড় বড় লোক, একেবারে মানিম্যান, প্রভাবশালী, বড় বড় বেআইনি বিল্ডিং বানিয়ে রেখেছে, তারা সব সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল। কিছু হল না। আমি মনে করি মুখ্যমন্ত্রী বাংলার সব জানেন। আগে মন্ত্রী ছিলেন তৃণমূলের আমলে। বিরোধী দলনেতা ছিলেন। আপনি কেন বলবেন না? কেন ব্যবস্থা নেবেন না? আপনি সরকার তৈরির পর আমার দেখছি, পুলিশ বিভাগ আপনার, অথচ বাংলার মাটিতে খুন হচ্ছে, ছাত্রের বাবাকে মনেরে ফেলা হচ্ছে। পুলিশ রেপ করছে। মহিলা অপহরণ করা হচ্ছে, মেরে ফেলা হচ্ছে, আজ আগুন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৭-১৮ জন মারা গেলেন। এটা কি যেমন তেমন ব্যাপার? কার শাস্তি হবে? এর দায়িত্ব কার? বেআইনি হোটেল, যা ঘটছে, কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না? মুখ্যমন্ত্রীকে বলছি, আপনারা পারছেন না। তিন মাসে কিছু পারলেন না। কলকাতায় জল জমছে, রাস্তা ভেঙে চুরমার। বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের সব। স্মিতা পান্ডের কাছে বিক্ষোভ জানিয়ে দেখা করতে গেলাম। করলেন না। এই সরকার চলছে না। না হলে এই ক'দিনে, সবে এসেছে, সবার সমর্থন আছে। এভাবে আগুন লাগলে, মানুষ মারা গেলে, কোথায় যাবে? তারাপীঠে যা ঘটনা, এখন দেখা যাচ্ছে সব বেআইনি। আপনাদের কোন বিভাগ, কে, কী করল?"
তারাতলার ঘটনার পরই শহরের সব বিল্ডিং খতিয়ে দেখা হবে, অডিট হবে বলে জানিয়েছিল রাজ্য, তার ফলাফল কী হল, জানতে চান শুভঙ্কর। নিউ মার্কেটের হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে তিনি সরাসরি বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছেন। তিন জন বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি তুলেছেন।






















