Census 2027: সেনসাসের কাজে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ‘অন ডিউটি’ ধরা হবে, আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করল রাজ্য
Teachers Census Duty: ১৬ অগাস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা অভিযোগ তুলছিলেন যে, তাঁদের 'অন ডিউটি' দেওয়া হচ্ছে না।

কলকাতা: জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য় স্বস্তির খবর। আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য শিক্ষা দফতর। নয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হল, জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের 'অন ডিউটি' হিসেবে গণ্য করতে হবে। সেনসাস কর্তৃপক্ষ যা বলবেন, সেই মতোই কাজ হবে বলে জানানো হল। এর আগে রাজ্য শিক্ষা দফতরের তরফে যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল, স্কুলের কাজ সেরে জনগণনার কাজ করতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। সেই নিয়ে একদিন আগেই রাজ্যের সমালোচনা করে কলকাতা হাইকোর্ট।
১৬ অগাস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা অভিযোগ তুলছিলেন যে, তাঁদের 'অন ডিউটি' দেওয়া হচ্ছে না। কারণ গত ৩ অগাস্ট যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের শিক্ষা দফতর, তাতে বলা হয়েছিল, স্কুল সেরে তার পর আবার জনগণনার কাজ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত বুধবার আর একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করে বলা হয়েছে, সেনসাস কর্তৃপক্ষের কথানুসারেই কাজ হবে।
আরও পড়ুন: ঋণের কাঠামো বদলের প্রস্তাব দিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সরাসরি প্রভাব পড়বে হোম লোন, পার্সোনাল লোনের EMI-তে
সেনসাস কর্তৃপক্ষের তরফে ইতিমধ্যেই 'অন ডিউটি' অর্ডার ইস্যু করতে শুরু করেছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সেনসাস কর্মী ঐক্য মঞ্চ এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বার বার জানাচ্ছিলেন, 'অন ডিউটি' হলেই জনগণনার কাজ ভাবে করা যাবে। স্কুলের কাজ সেরে জনগণনা করতে যাওয়া অসম্ভব বলে জানিয়েছিলেন তাঁরা। ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্বস্তি পেলেন অনেকটাই।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে একদিন আগেই জনগণনার কাজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নামানো নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও গতকাল বলেন, "শিক্ষকদের কেন জনগণনার কাজে নিয়োগ করছেন? শিক্ষার অধিকার আইনের ওপর আপনারা যখন এত জোর দিচ্ছেন, তাহলে শিক্ষকদের নিয়োগ করার কী দরকার? বিধানসভার কর্মীদের কেন নিয়োগ করছেন না? তাঁদের নিয়োগ করুন।"
আরও পড়ুন: ‘তিমিরগর্ভ নক্ষত্র’, সূর্যের চেয়ে ১ লক্ষ গুণ বড়, মহাশূন্যের বুকে অনন্য অবিষ্কার ভারতীয় যুবকের
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশানুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত জনগণনার কাজ চলবে। অন্য দিকে, আগের বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য জানিয়েছিল, স্কুলের নিয়মিত সময়ের পর জনগণনার কাজ করতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। ছুটির দিনেও জনগণনার কাজ করতে হবে। সেই নিয়েও গতকাল প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতি রাও বলেন, "কেন্দ্রের তরফ থেকে বলা হচ্ছে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টে পর্যন্ত জনগণনার কাজ করতে হবে। রাজ্য বলছে স্কুলের নিয়মিত সময়ের পরে কাজ করতে হবে শিক্ষকদের। কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থাকলে কী ভাবে চলবে?"
আগের বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য জানিয়েছিল, এক মাসের মধ্যে জনগণনার কাজ শেষ করতে হবে। তা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েও গতকাল প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি রাও। তাঁর বক্তব্য ছিল, "ছুটির দিনে জনগণনার কাজ করতে হবে, এটা কী ভাবে সম্ভব? ডাবল ইঞ্জিন সরকারে তো এই সমস্যা থাকার কথা নয়!"
ডিজিটাল সেনসাসে সেলফ এনুমারেশনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে। মোট ৪০টি প্রশ্নের তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই সব প্রশ্ন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ৪০টি প্রশ্নের মধ্যে জাতি, ধর্ম, কোভিড টিকা সংক্রান্ত তথ্যও দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। জানাতে হবে, কয়টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাও।






















