Nipah Virus: সরাসরি মস্তিষ্কে থাবা, বিকল করে দিচ্ছে স্নায়ু, কীভাবে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে নিপা! বাঁচার আশার কতটা?
হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখনও কোমায় রয়েছেন তরুণী। তবে যন্ত্রণাদায়ক উদ্দীপনায় সাড়া দিচ্ছেন।

১৯ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ফের 'নিপা' ভাইরাসের সংক্রমণ। মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত তরুণ নার্স কোমা থেকে বেরিয়ে এলেও, হাসপাতাল সূত্রে খবর, এখনও কোমায় রয়েছেন তরুণী। তবে যন্ত্রণাদায়ক উদ্দীপনায় সাড়া দিচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, নিপা ভাইরাস এখন সরাসরি স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কে আক্রমণ করছে। তাই উদ্বেগ বাড়ছে।
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ সৌভিক দুবে (বাঙ্গুর ইন্সটিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেস) বলছেন, নিপা ভাইরাস সাঙ্ঘাতিক। এই ভাইরাস সরাসরি থাবা বসাতে পারে মানুষের মগজে। বিকল করে দেয় স্নায়ুতন্ত্রকে। মাথায় রক্ত জমে যেতে পারে। খিঁচুনি শুরু হয়। ধীরে ধীরে কোমায় চলে যেতে পারে মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি 'জুনোটিক' ডিজিজ। যা প্রাণী থেকে সংক্রমিত হয়। বাদুড়ের লালারস থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
বাদুড়ের আধখাওয়া ফল ভাল ফলের সঙ্গে মিশে থাকলে ...
বাদুড়ের আধখাওয়া ফল ভাল ফলের সঙ্গে মিশে থাকলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। আক্রান্তের ব্যবহৃত বিছানা, পোশাক বা অন্যান্য জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা রাখে নিপা ভাইরাস। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো উপসর্গ হলেও নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৫০-৬০ শতাংশ। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অলোক পণ্ডিতের কথায়, নিপা ভাইরাসের হানায় রোগী একবার কোমায় চলে গেলে , কোমা থেকে ফেরানো কঠিন হয় !
রাজ্যের জোড়া গাইডলাইন
এই পরিস্থিতিতে জোড়া গাইডলাইন প্রকাশ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। বৃহস্পতিবার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে 'নিপা' ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কী কী করতে হবে। এদিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আক্রান্ত বা উপসর্গ থাকা রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ ও তা ল্যাবে পাঠানোর সময় কী কী বিধিনিষেধ মানতে হবে।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নমুনা সংগ্রহের সময় রোগীর দেহরস, কফ, লালা, মূত্র ইত্যাদির সংস্পর্শে এলে সব ধরনের নিরাপত্তা মানতে হবে। নমুনা নেওয়া, রাখা ও পাঠানোর সময় অবশ্যই মেনে চলতে হবে বায়ো-সেফটি বিধি।
নমুনা কখন ও কীভাবে নিতে হবে, সে প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, সব থেকে ভালো হয় আক্রান্ত হওয়ার ৪ দিনের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করলে।
নমুনা সংগ্রহের সময় রোগীর সব তথ্য ঠিকভাবে নির্দিষ্ট ফর্মে লিখে রাখতে হবে। যদি কেউ অসুস্থ না হয় কিন্তু সংক্রমিত রোগীর সংস্পর্শে আসেন, তাহলে ফর্মে বড় অক্ষরে “ASYMPTOMATIC” লিখে সংস্পর্শের ইতিহাস লিখে রাখতে হবে। নমুনা নেওয়ার সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের অবশ্যই PPE পরতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে N95 মাস্ক, গ্লাভস, গাউন, চশমা, জুতো কভার। নমুনা নেওয়ার আগে ও পরে ৩০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। PPE খোলার সময় খুব সাবধানে করতে হবে। প্রত্যেকটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এই নির্দেশিকা।






















