Hilsa Fish: দুর্গাপুজোর আগেই কলকাতায় চলে এলে পদ্মাপারের ইলিশ, 'মাছের রাজা' কত দাম বিকোচ্ছে?
Bangladeshi Hilsa Fish: দিন কয়েক আগে বাংলাদেশ সরকার পুজো উপহার হিসাবে ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। আজ প্রথম ইলিশের গাড়িগুলিতে ২৪০ মেট্রিক টন মাছ হাওড়ার মাছ বাজারে আসে।

সুনীত হালদার, কলকাতা: কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। বাংলা ও বাঙালির মাছের প্রতি ভালবাসা সর্বজনবিদিত। আর 'মাছের রাজা' হিসাবে গণ্য করা হয় ইলিশকে (Hilsa Fish)। সামনেই আবার বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। বাঙালির সেরা উৎসব আর প্রিয় মাছ, দুইয়ের মিশেল মানেই একবারে সুপারহিট কম্বো। পুজো এখনও দিন দশেক দেরি, তবে পুজোর আগে সুখবর। কলকাতার বাজারে এসে গেল বহু প্রতীক্ষিত পদ্মার ইলিশ।
মাছপ্রেমী বাঙালিদের ইলিশপ্রেম নিয়ে কথা গল্পই না শোনা যায়। বাঙাল হোক বা ঘটি ইলিশের প্রতি বাঙালির ভালবাসা যেন চিরন্তন। কত মানুষই কেবল ইলিশ খাবে বলেই বর্ষার অপেক্ষায় থাকে। এবার বাঙালির রসনাতৃপ্তিতে চলে এল ওপার বাংলার ইলিশ। গতকাল রাতেই বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ইলিশ ভর্তি ট্রাক হাওড়া স্টেশন লাগোয়া পাইকারি মাছ বাজারে ঢোকে। আজ সকাল থেকেই কলকাতা এবং হাওড়ার বাজারের খুচরো মাছ ব্যবসায়ীরা সেই মাছ সংগ্রহ করার জন্য নিলামে অংশ নেন।
দিন কয়েক আগে বাংলাদেশ সরকার পুজো উপহার হিসাবে ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। আজ প্রথম ইলিশের গাড়িগুলিতে ২৪০ মেট্রিক টন ইলিশ বনগাঁ সীমান্ত পেরিয়ে হাওড়ার মাছ বাজারে আসে। মাছের রাজা বাজারে চলে আসায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি মাছ ব্যবসায়ীরা। পদ্মাপার থেকে ৮০০ গ্রাম থেকে এক কিলো ওজনের ইলিশ মাছ কলকাতার বাজারে রপ্তানি করা হয়েছে। এই মাছ বাজারে নিলামে দাম ওঠার পর খুচরো বাজারে বিক্রি হবে।
এবার প্রশ্ন হল পদ্মার ইলিশ কত টাকা করে ক্রেতারা কিনতে পারবেন? খুচরো বাজারে ওপারব বাংলার ইলিশের দাম পড়বে কিলো প্রতি কম করে ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা করে পড়বে। দাম অবশ্য কোথাও কোথাও এর থেকে বেশিও পড়তে পারে। একটা বিষয় নিশ্চিত, মা দুর্গার আগমনের আগেই, পুজোর মুখে পদ্মার ইলিশের আগমনে যে ভোজনরসিক বাঙালিদের মধ্যে খুশির হওয়া বইছে, তা কিন্তু বলাই বাহুল্য।
২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পুজোর আগে পদ্মার ইলিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই রীতি বজায় রয়েছে আজও। সেই অনুযায়ী পুজোর আগে এক মাসের মধ্যে গড়ে ২,০০০ থেকে ২২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিত বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রক। প্রতিবছর এই রপ্তানি চলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। গত বছর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ক্ষমতা দখল করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপরই ওই দেশে ভারত বিরোধী আন্দোলনের জেরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
গত বছর ফিস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ইলিশ আমদানির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবেদন করেছিল। অনেক অনুরোধের ভিত্তিতে ওই দেশের সরকার ২৪২০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি অনুমতি দেয়। কিন্তু এক মাস সময়সীমার মধ্যেই এপারের মাছ ব্যবসায়ীরা মাত্র ৫৭৭ মেট্রিক টন মাছ আমদানি করতে পেরেছিলেন। এবার তার দ্বিগুণেরও বেশি ইলিশ আসার কথা, যা মাছপ্রেমী বাঙালিদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর।






















