Purulia News: উৎসবের নামে বন্যপ্রাণ শিকার, সাঁতাল সমাজকে কলুষিত করার চেষ্টা! বুদ্ধ পূর্ণিমায় নয়া শপথ
Buddha Purnima: বৈশাখী পূর্ণিমার পর দিন সাঁওতাল সমাজের বিভিন্ন মামলার নিষ্পত্তি, আইনের সংযোজন এবং বিয়োজনের জন্য বসছে এই বিচার অধিবেশন।

সন্দীপ সমাদ্দার, পুরুলিয়া: উৎসবে থাকুক শুধুই আনন্দ, বন্ধ হোক প্রাণীহত্যা। বুদ্ধ পূর্ণিমায় (Buddha Purnima) এই পণই নিল সাঁওতাল সমাজ। তাই এ বারের বুদ্ধ পূর্ণিমায় অভিনব উদ্যোগ। উৎসব নয়, পুরুলিয়া অযোধ্যা পাহাড়ে বসতে চলেছে বিশেষ বিচার অধিবেশন। গোটা দেশের সাঁতাল সম্প্রদায়ের মানুষের সমাবেশ ঘটবে সেখানে। বন্যপ্রাণী শিকার করে উৎসব পালনে ইতি টানতেই এমন উদ্যোগ- (Purulia News)।
নাইকি বাবাদের উপস্থিতিতে বিচার অধিবেশন বসবে
বৈশাখী পূর্ণিমার পর দিন সাঁওতাল সমাজের বিভিন্ন মামলার নিষ্পত্তি, আইনের সংযোজন এবং বিয়োজনের জন্য বসছে এই বিচার অধিবেশন। নাইকি বাবাদের উপস্থিতিতে এই বিচার অধিবেশন বসবে। সেখানে আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে অযোধ্যা পাহাড়বাসী বিশেষ দাবি রাখছেন। তাঁদের দাবি, উৎসব হোক, কিন্তু কোনও বন্যপ্রাণী শিকার করে নয় (Wildlife)।
বুধবার জাকাত মাঝি পরগনা মহলের পক্ষ থেকে নিজেদের সেই অবস্থান স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নামে বিভ্রান্তিকর প্রচার ছড়ানোর বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের পক্ষ থেকে অলোক হেমব্রম বলেন, "আমরা বন্যপ্রাণ হত্যার বিরুদ্ধে তো বটেই, গাছ কাটার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। অযোধ্যা পাহাড়ে শিকার কোনও উৎসব নয়। ওই সময় আমাদের অধিবেশন হয়, যা আমাদের সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতের পথ মসৃণ করে তোলে।"
আরও পড়ুন: West Burdwan News: অন্ডালের রাস্তায় নরকঙ্কাল ! আতঙ্কে কাঁটা গোটা এলাকা
অলোক জানিয়েছেন, এ বারও অযোধ্যা পাহাড়ে বিচার বসবে। সাঁওতাল সমাজকে কলুষিত করতে কিছু মানুষ শিকার করে উৎসব পালনে অসাধু পন্থা নেন, যা সাঁওতাল সমাজের নীতির পরিপন্থী।
ফি বছর বুদ্ধ পূর্ণিমায় অযোধ্যা পাহাড় জুড়ে পালিত হয় সাঁওতাল সমাজের সেঁদরা। শিকারোৎসব নামেই এই পার্বণ অনেক বেশি পরিচিত। গত কয়েক বছরে কোভিডের জন্য সার্বিক ভাবে উৎসব পালিত হয়নি। তবে এ বছর বুদ্ধ পূর্ণিমায় বিপুল সংখ্যক জনজাতি মানুষ পাহাড়ে আসতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
চিরাচরিত ভাবে বুদ্ধ পূর্ণিমায় রাতে অযোধ্য়া পাহাড়ে শিকার হয়ে থাকে। এ বছর যাতে তা না ঘটে, তার জন্য আগে থেকেই একযোগে প্রচারে নেমেছে বন দফতর। শিকারের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় লাগানো হচ্ছে পোস্টার, বিলি করা হচ্ছে হ্যান্ড বিল। এ বার অযোধ্যায় অস্ত্র, ফাঁদ বা জাল নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অযোধ্যা পাহাড়ে পৌঁছনোর সব রাস্তায় নাকা-তল্লাশি চালাবে পুলিশ। অস্ত্রহাতে থাকা মানুষদের চিহ্নিত করে বাজেয়াপ্ত করা হবে অস্ত্রশস্ত্র। গভীর জঙ্গলে একসঙ্গে, দলবেঁধে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
সব রাস্তায় নাকা-তল্লাশি চালাবে পুলিশ
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অযোধ্যা পাহাড়ের বিস্তীর্ণ জঙ্গলে ২০টি হাতি রয়েছে। এই বিষয়ে পুরুলিয়া বন বিভাগের ডিএফও কার্তিকেয়ন এম বলেন, "সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। ধর্মীয় নিয়ম পালন হোক। তবে বন্যপ্রাণের যাতে ক্ষতি না হয়, তার জন্য সজাগ রয়েছে বন দফতর। বিষয়টি নিয়ে তৎপর পুলিশ এবং রেল কর্তৃপক্ষ। অযোধ্যা পাহাড়ের বাসিন্দারাও চাইছেন, জন সমাবেশ হোক, উৎসব হোক, তবে বন্যপ্রাণ হত্য়া বা শিকার নয়।"






















