RG Kar Rat Dokhol: প্রতিরাতে যেন মেয়ের চিৎকার শুনি, ঘুমোতে পারি না : অভয়ার মা
RG Kar Update: ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার একটা বছর পেরিয়ে গেল। কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হয়েছে শুধু মাত্র একজন।

কলকাতা: অভিশপ্ত ৮ অগাস্টের বর্ষপূর্তি। এই দিনেই রাতের রাজপথে উঠল বিচারের দাবি। কলকাতা পুলিশ ও CBI-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা। ন্য়ায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই জারির হুঁশিয়ারি আন্দোলনকারীদের।
কোথায় জাস্টিস? কবে মিলবে সুবিচার? কী করেছে পুলিশ? কতটাই বা তদন্ত করল CBI? আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের নির্মম হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্তিতে, এই প্রশ্নগুলো নিয়েই ফের হল 'রাত দখল'। গতবছর ৮ অগাস্ট... টানা ৩৬ ঘণ্টা ডিউটির পর, বিশ্রামের জন্য গভীর রাতে ঢুকেছিলেন সেমিনার হলে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সেদিন রাতে 'On Call'-এ ছিলেন তরুণী চিকিৎসক। রাত দুটো নাগাদ তাঁর ডিউটি শেষ হয়। তারপরে জুনিয়রদের সঙ্গে ডিনার সারেন। এরপর জরুরি বিভাগের চারতলায় 'চেষ্ট ডিপার্টমেন্টে'র সেমিনার হলে বিশ্রামের জন্য ঢুকে যান। ৯ অগাস্ট সকালে সেই সেমিনার হল থেকেই উদ্ধার হয় তাঁর মৃতদেহ।
ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার একটা বছর পেরিয়ে গেল। কিন্তু দোষী সাব্যস্ত হয়েছে শুধু মাত্র একজন। সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। যাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তারপর CBI তদন্তভার নেওয়ার পরেও, ধর্ষণকাণ্ডে আর কাউকে গ্রেফতার করেনি। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে, আর জি কর মেডিক্যালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। ও টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে CBI গ্রেফতার করলেও, ৯০ দিনের মধ্য়ে তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিতে না পারায়, জামিন হয় তাঁদের।
অর্থাৎ একটা বছর কেটে গেলেও এখনও সুবিচার পাননি মেয়ে হারা মা-বাবা। তাহলে কবে মিলবে সুবিচার? এই প্রশ্ন তুলে শুক্রবার আরও একটা রাত দখল মানুষ। প্রতিবাদের গর্জনে কাঁপল রাজপথ। এদিনের রাত দখলে যোগ দিয়েছিলেন নিহত চিকিৎসকের পরিবার। এদিন জনগণের উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে অভয়ার মায়ের গলায় কান্নার ছোঁয়া। প্রথমেই তিনি জানতে চান, তাঁর মেয়ের সহকর্মী, চেস্ট মেডিসিনের চিকিৎসক কে কে রয়েছেন? উত্তর পান না। অভয়ার মা বলেন, 'কেন নেই? তার মানে সমস্ত রহস্য লুকিয়ে রয়েছে ওই চেস্ট মেডিসিনেই। আমরা হার মানব না। আমরা সেই রহস্য খুঁজে বের করে ছাড়ব। আমরাও দেখব, দুর্নীতির শিকড় কোথায়?'
অভয়ার মায়ের কান্না ভেজা গলায় বারে বারে মেয়ের স্মৃতি। বললেন, 'কোভিডকালে.. আমার মেয়ে তখন অনেকটা ছোট। সেই সময়ে দেখেছি অনেক বয়স্ক মানুষ আমাদর মেয়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছেন। বলেছেন, 'দিদি আপনি ছিলেন বলেই প্রাণ ফিরে পেলাম। আপনি ভগবান।' আমরা তো বিশ্বাস করি হাসপাতালে ভগবান থাকেন। তাহলে সেই জায়গায় কেন খুন হতে হলে আমার মেয়েকে? আমার মেয়ে টাকাপয়সা চায়নি। চেয়েছিল নামের পাশে অনেক ডিগ্রি থাকুক। যেন মানুষের সেবা করতে পারে ও। আমার মেয়ে তো ডিউটি শেষে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। মা বাবার কাছে ফিরতে চেয়েছিল। আমার মেয়েকে ফিরতে দেওয়া হল না। প্রতিরাতে যেন মেয়ের চিৎকার শুনি, ঘুমোতে পারি না। কিন্তু আমি যদি ঘুমোতে না পারি, তাহলে যারা দোষী, আমি তাদের কাউকে ঘুমোতে দেব না। আমি পয়সা নিয়ে সেটিং করিনি। ভোটে দাঁড়ানোর জন্য লড়াই করছি না। আমি আমার মেয়ের বিচারের জন্য লড়ছি। আমরা প্রভাবশালী নই বলে কি আমার মেয়েটা বিচার পাবে না?'






















