Riju Dutta Exclusive : 'দলের অন্দরেই...'! সাসপেন্ড হয়ে কী কী অভিযোগ ঋজুর ? হারের কারণ কী ? ফাঁস করলেন সবটা
Riju Dutta Suspended : বাংলার মসনদে এখন বিজেপি। তৃণমূলের এই ভরাডুবির কারণ কী? একের পর এক অভিযোগ ও ক্ষোভ উগরে দেন ঋজু দত্ত।

কলকাতা : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয় তৃণমূল কংগ্রেসের। বাংলার মসনদে এখন বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের এই ভরাডুবির পর, পরাজয় নিয়ে অন্দরের ক্ষোভ উগরে দিলেন দলেরই একাংশ। কী কারণে এই লজ্জার হার? দায় কার? কোন কোন জায়গায় সমস্যা? এই সব কারণ প্রকাশ্যে আনছেন অনেকে। এবার সেই পথে হাঁটলেন তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত। ইতিমধ্যেই, নির্বাচনের ফলাফলের পর বিজেপির প্রশংসা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তৃণমূল সাসপেন্ড করেছে তাঁকে।
শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ঋজু দত্তকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। আর তারপরই তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে 'নেপো কিড' নিয়ে পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ''আমার প্রাণপ্রিয় দল। যে দল কে আমার যৌবনের ১৩টা বছর দিয়েছি। নিরন্তর পরিশ্রম করেছি নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। শুধুমাত্র নিজের কাজ ও পারফরম্যান্সের জোরে ধাপে ধাপে উপরে উঠেছি — কারণ আমি কোনো “নেপো কিড” নই। আর আজ আমার প্রিয় দলই আমাকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল! কেন? কারণ আমি সত্যিটা বলেছি।''
আরও পড়ুন - ঋজু দত্তকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল, দলকে তাঁর বার্তা, ‘কথা দিচ্ছি—আবার দেখা হবে’
ঋজু শুধু পোস্টেই থেমে নেই। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক অভিযোগ ও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। আজ তৃণমূলের এই অবস্থার কারণ কী, সেই বিষয়েও মুখ খোলেন তিনি।
ঠিক কী কী অভিযোগ ঋজুর ?
১. তৃণমূলের পার্টি পুরোপুরি আইপ্যাক-এর হাতে চলে যাওয়ায়, যা ইচ্ছে তাই করেছে। ভোটের টিকিট দেওয়ার জন্য ২০ লক্ষ, ৫০ লক্ষ টাকা নিয়েছে এই সংস্থা।
২. ৪ জন স্বপ্ন দেখছে বিধায়ক হবে। আইপ্যাক ৪ জনকেই বলত আপনারা বিধায়ক হবেন, তার জন্য টাকা লাগবে। যার সুযোগ একদম নেই, তাকে ২০ লক্ষ টাকা চাইতো তারা। আর যে বিধায়ক হবে, তার থেকে ৫০ লক্ষ টাকা।
৩. আইপ্যাক-এর প্রতীক আমায় ডেকে বলল, তোমার টিকিট নিশ্চিত ডেবরা, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে। প্রতীকের অফিসে একজন ছিল যার নাম অর্জুন। সেও নাকি শীর্ষ কর্তা। এ আমায় ডেকে বলল টিকিটটা নিশ্চিত করতে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। বাড়ি এসে চোখে জল নিয়ে মা-স্ত্রীকে বলেছি। তাঁরা তাদের গয়না আমার হাতে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিবেককে বোঝাতে পারিনি। পরের দিন ফেরত দিয়ে দি। ঠাকুর আমায় বাঁচিয়েছেন।
৪. শেষ ৬ মাস দল আইপ্যাক-এর আওতায় চলে যায়। তারা আমাদের থেকেও টাকা নিয়েছে আর বিজেপির সঙ্গেও সেটিং করেছে। পুরো দলটাকে শেষ করে দিয়েছে।"
৫. দলের নিচু স্তরের লোকেরা শেষ করে দিল দলটাকে। কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য, জেলা পরিষদ, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ, এরা সকলে যে ভাবে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করেছে তার ফল এই পরাজয়।
৬. তোলাবাজি। নিচুস্তরের নেতা কর্মীরা দিনের পর দিন অত্যাচার করেছে, সাধারণ মানুষের থেকে যা তোলাবাজি করেছে, এটা হারের ফল।
৭. মহিলাদের সম্মান নষ্ট করা ও অসম্মান করা।
৮. দল হারার পর তৃণমূলের কেউ ফোন তোলেনি। বাঁচিয়েছে বিজেপির নেতৃত্বরা। যাতে আক্রমণ না হয়, চাকরি না চলে যায় তার জন্য সাহায্য করেছে বিজেপি।
আরও পড়ুন - ‘দিদি এবং অভিষেকদা অন্ধের মতো…’, তৃণমূলের হারের কারণ খোলসা করলেন ঋজু দত্ত, কাঠগড়ায় তুললেন IPAC-কেও
Before You Go
Ritabrata Banerjee: 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগঠনে সং আছে গঠন নেই', আক্রমণ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের





















