TMC News: ‘৫০ লক্ষ চেয়েছিল আইপ্যাক…তৃণমূলের কেউ ফোন ধরেনি, বিজেপি নেতারা ফোন করেছে’, বিস্ফোরক ঋজু দত্ত
Riju Dutta Exclusive Interview: এবিপি আনন্দে বিস্ফোরক ঋজু দত্ত। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। জানালেন, বিপদে পাশে পেয়েছেন বিজেপি-কে।

কলকাতা: তৃণমূল থেকে নিলম্বিত হওয়ার পর বিস্ফোরক ঋজু দত্ত। দলের পরাজয়ের জন্য দলীয় নেতৃত্বকে যেমন কাঠগড়ায় তুললেন, তেমনই আইপ্যাকের বিরুদ্ধেও মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তিনি। এমনকি টিকিটের পরিবর্তে তাঁর কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করলেন। জানালেন, বিপদে যখন খবর নেওয়ার প্রয়োজনও অনুভব করেনি, সেই সময় বিজেপি নেতৃত্বের সাহায্য় পান। (Riju Dutta Exclusive Interview)
শনিবার ঋজুকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। আর তার পরই এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি। এমনকি টিকিটের পরিবর্তে তাঁর কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয় বলে জানালেন। ঋজুর বক্তব্য, প্রতীক জৈন আমাকে ডেকে বলল, 'তোমার টিকিট কনফার্মড'। কোথা থেকে? ডেবরা পশ্চিম মেদিনীপুর। প্রতীক জৈনের গোদরেজ ওয়াটার সাইডের অফিসের বাইরে আর একটা ঘরে বসত তার এক সহায়ক। সেও নাকি আইপ্যাকের শীর্ষ কর্তা! নাম অর্জুন। পুরো নাম জানি না। সে আমাকে বলল, টিকিটটা কনফার্ম করতে হলে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। প্রতীক চায়নি কোনও দিন টাকা। বাড়িতে এসে নিজের স্ত্রীকে বলেছি। চোখে জল নিয়ে। আমার স্ত্রী, মা তাদের গয়না হাতে তুলে দিয়েছে। পরের দিন সকালে নিজের বিবেককে বোঝাতে পারিনি। তাদের গয়না ফেরত দিয়েছি। মা কালী বাঁচিয়ে নিয়েছেন। না হলে আজ বাড়িতে মুখ দেখাতে পারতাম না।" (TMC News)
আরও পড়ুন: ‘দিদি এবং অভিষেকদা অন্ধের মতো…’, তৃণমূলের হারের কারণ খোলসা করলেন ঋজু দত্ত, কাঠগড়ায় তুললেন IPAC-কেও
শুধু তিনিই নন, প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক হতে চাওয়া অনেকের কাছ থেকেই টাকা তোলা হতো বলে দাবি করেছেন ঋজু। তিনি বলেন, "ওরা কী করত! ধরুন একটা বিধানসভায় চার জন বিধায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ওরা চারজনকেই গিয়ে বলত, তোমরা বিধায়ক হবে। বলে যার কোনও চান্স নেই, তার থেকে ২০ লক্ষ নিত। আর যে হচ্ছে, তার থেকে ৫০ লক্ষ নিত। একটা বিধানসভায় চারজনের থেকে ১ কোটি টাকা উঠে গেল! তখন আমি পাগলের মতো আমার দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ফোন করেছি। ফলঘোষণার পর, যাতে আমাকে রক্ষা করুক কেউ। পরিবারকে বাঁচানোর জন্য। কেউ ফোন ধরেনি।"
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এসে কলকাতায় মাছ উৎসব বিজেপি-র, ‘বাঙালির মাছ-ভাত বন্ধ করে দিয়েছিলেন মমতা’, বললেন তাপস রায়
তবে তৃণমূল নেতৃত্ব খবর না নিলেও, বিজেপি-র কাছ থেকে ফোন পান বলে জানিয়েছেন ঋজু। তাঁর কথায়, "বিজেপির নেতারা ফোন করে জিজ্ঞেস করেছে কোনও অসুবিধা নেই তো! কেউ বলছে ঋজুদা তুমি ঠিক আছো! কেউ বলছে ঋজু তোর পরিবারের কোনও অসুবিধা নেই তো! আমি তখন বাধ্য হয়ে, প্রকাশ্যে বলছি মুখপাত্র হওয়ার সুবাদে এবং মায়ের দিল্লির পরিচিতিতে আমি দিল্লির কিছু বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ কিছু নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের বলি যে আমার কি বেঁচে থাকার অধিকার নেই? আমার পরিবারের কি বেঁচে থাকার অধিকার নেই? আমি তৃণমূল করি বলে, আমার জীবন জীবিকার অধিকার নেই? আমার চাকরিটাকরি সব কি নিয়ে নেবেন! আমি কী করব! তাঁরা বলেছেন, তোমার গায়ে একটা আঁচড়ও পড়বে না। আমার লোকাল বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি পুলিশকে ফোন করে স্পষ্ট ভাবে বলেন যে, 'ঋজুর গায়ে হাত পড়া মানে আমার গায়ে হাত পড়া'। আমার পরিবারকে রক্ষা করেছে। লোকাল যে বিজেপির নেতৃত্ব, মণ্ডল সভাপতি ইত্যাদি, শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব। এই সত্যি কথাটা বলেছি বলে আজ দল থেকে আমি সাসপেন্ডেড।"
Before You Go
Baruipur Incident | প্রভাসের এনকাউন্টারে খুশি মানুষ, কিন্তু কেন? কী বলছেন মনোবিদরা?






















