Sandeshkhali Police Attacked: সন্দেশখালিতে 'মুসা' অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত পুলিশ, কে এই মুসা মোল্লা? কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে
Sandeshkhali News: সন্দেশখালিতে এবার আক্রান্ত ন্যাজাট থানার পুলিশ। এলাকায় তৃণমূলকর্মী বলে পরিচিত অভিযুক্ত মুসা মোল্লাকে ধরতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ। অভিযুক্তকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

সমীরণ পাল, সন্দেশখালি : সন্দেশখালিতে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূল কর্মী মুসা মোল্লার। সন্দেশখালিতে মুসার বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, শেখ শাহজাহানের কায়দায় চাষের জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে দিয়ে ভেড়ি করছিল মুসা। এ নিয়ে মামলায় হয়। তারপরই ওই জমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করে আদালত। কিন্তু, তারপরেও আদালতের নির্দেশ না মানায় শুক্রবার রাতে রাজবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ বয়ারমারিতে মুসার বাড়িতে যায় এবং তাঁকে থানায় যেতে বলে। তখন মুসা তাঁর অনুগামীদের ফোন করে ডেকে এনে পুলিশের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ।
সন্দেশখালিতে এবার আক্রান্ত ন্যাজাট থানার পুলিশ। এলাকায় তৃণমূলকর্মী বলে পরিচিত অভিযুক্ত মুসা মোল্লাকে ধরতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ। অভিযুক্তকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মুসা-অনুগামীদের বিরুদ্ধে। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, ১ অফিসার-সহ ৬ পুলিশকর্মী জখম। এই ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বয়ারমারি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ও উপ-প্রধানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ। কার ইন্ধনে ঘটল ঘটনা? জানতে প্রধান, উপ-প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ। পুলিশের নোটিসে সাড়া না দেওয়ায় রাতে অভিযুক্তকে ধরতে যায় পুলিশ। হুলোপাড়ায় অভিযুক্ত মুসার বাড়িতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশ।
সন্দেশখালি কমছে না ত্রাস
এর আগে তদন্তে যাওয়া ED আধিকারিকরা আক্রান্ত হয়েছিলেন সন্দেশখালিতে। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি আক্রান্ত হয়েছিলেন ED আধিকারিকরা। রেশন কেলেঙ্কারির তদন্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে পৌঁছয় ED। তখনই ED ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা হয়। হামলাকারীদের মধ্য়ে থেকে শেখ শাহজাহানের নামে ওঠে স্লোগান। মারতে মারতে এলাকাছাড়া করা হয় ED আধিকারিক, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। প্রাণভয়ে ED আধিকারিকদের অনেকে আশ্রয় নেন সংবাদ মাধ্য়মের গাড়িতে। ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানদের গাড়ি। ঠিক ২ বছরের মাথায় ফের সন্দেশখালিতে আক্রান্ত রক্ষকরাই। এবার মার খেল রাজ্য পুলিশ।
এর আগেও আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশকর্মীরা
এর আগেও বারে বারে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রান্ত হতে হয়েছে পুলিশকে। গত ২৩ ডিসেম্বর বিধাননগরে চুরির মামলায় ট্য়াংরায় অভিযুক্তকে ধরতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চলে। আহত হন ৭ জন পুলিশকর্মী। ২ নভেম্বর ভিআইপি রোডের উপর বাইক বাহিনীর তাণ্ডবে বাধা দেওয়ায় পুলিশ কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছিল দমদম পার্ক এলাকায়। ২০২৩-এর ১৬ মে এগরায় বিস্ফোরণের পর জনরোষের মুখে পড়েছিল পুলিশ। টেনে নিয়ে যাওয়া হয় আইসিকে। ছিঁড়ে দেওয়া হয় জামা। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে ২০১৭-র জানুয়ারি মাসে হামলা চালানো হয়। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় থানার খড়ের ঘরে। বীরভূমের দুবরাজপুরের আউলিয়া গ্রামে তৃণমূল-সিপিএম সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হন দুবরাজপুর থানার SI অমিত চক্রবর্তী। ১ মাস ২৫ দিন পর মৃত্যু হয় তাঁর। ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর জমি বিবাদের জেরে বিক্ষোভের নামে আলিপুর থানায় ঢুকে তাণ্ডব চালানো হয়। পুলিশ কর্মীদের মারধর থেকে থানা ভাঙচুর, বাদ যায়নি কিছুই। ফাইলের আড়ালে মাথা বাঁচাতে হয় পুলিশকে।






















