BJP Inner Clash: ৩ মাসেই বিজেপি-তে দ্বন্দ্ব চরমে? দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতি-মারামারি, মণ্ডল সভাপতিকে ডিম ছুড়লেন দলেরই কর্মীরা
Sitalkuchi BJP Inner Clash: পরিস্থিতি এমন হল যে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করল বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতিকে।

শুভেন্দু ভট্টাচার্য, শীতলকুচি: সবমিলিয়ে তিন মাস হয়েছে রাজ্যে ক্ষমতায় বিজেপি। আর তার মধ্যেই বিজেপি-র অন্দরে দ্বন্দ্ব চরমে উঠল। শীতলকুচিতে বিজেপি-র দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি বাঁধল। মণ্ডল সভাপতিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম। ধস্তাধস্তি, মারামারিতে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। পরিস্থিতি এমন হল যে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করল বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতিকে। এতদিন বিরোধী শিবিরের নেতানেত্রীদের দেখে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটছিল। এবার বিজেপি-র অন্দর থেকেই সেই ছবি উঠে এল। (Sitalkuchi BJP Inner Clash)
কোচবিহারের শীতলকুচির ছোট শালবাড়ির ঘটনা। সোমবার সেখানে বিজেপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি শুরু হয়। বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারী পৌঁছলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দলের কর্মীদের একাংশ। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসে আসছিলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান। আজ খবর ছড়ায় যে, তিনি পঞ্চায়েতে আসতে চলেছেন। সেই খবর পেতেই জমায়েত শুরু হয় বিজেপি কর্মীদের। বিজেপি কর্মীদের একাংশের অভিযোগ তোলেন, টাকা বা তোলার বিনিময়ে তৃণমূলের প্রধানকে গ্রাম পঞ্চায়েতে ঢুকিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। পবিত্রর নেতৃত্বেই ফেরানো হয়েছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে। (BJP Inner Clash)
আরও পড়ুন: বিজেপি-র ৩০ বছরের দুর্গে ধস, প্রথমবার ভোটে নেমেই বাজিমাত প্রশান্ত কিশোরের, মধ্যপ্রদেশেও জোর ধাক্কা
পুলিশের উপস্থিতিতেই গোটা ঘটনা ঘটে। বিজেপি-র একটি গোষ্ঠী দাবি করে, স্থানীয় কিছু বিজেপি নেতা এবং মণ্ডল সভাপতির নেতৃত্বে ঘটছে গোটাটা। তৃণমূলের কাছ থেকে টাকা খেয়ে, তোলা নিয়ে ফেরানো হচ্ছে তৃণমূলের প্রধানকে। অন্য একটি গোষ্ঠী তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হয়। একটা সময় পর পরিস্থিতি এমন হয় যে ধস্তাধস্তি, মারামারি শুরু হয়ে যায় দুই পক্ষের মধ্যে। বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতিকে শেষ পর্যন্ত পুলিশের গাড়িতে চেপে ওই জায়গা ছাড়তে হয়। শীতলকুচি থানার পুলিশ পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে বিজেপি-র অন্দরে অসন্তোষ কমতে দেখা যাচ্ছে না। দলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা এখনও দাবি করছেন যে, তৃণমূলের থেকে কাটমানি নিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও বিজেপি জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন দাবি করেছেন যে, আজকের এই ঘটনা বিজেপি কর্মীরা ঘটাননি। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল তৃণমূলের প্রধানের বিরুদ্ধে। বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতি এবং কার্যকর্তারা গিয়ে সকলকে থামান, পরিস্থিতি শান্ত করেন। বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতিকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা অস্বীকার করেন তিনি। অন্য দিকে, মণ্ডল সভাপতি পবিত্র জানান, গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নয়ন হচ্ছিল না। প্রশাসনের নির্দেশে এবং দলের সঙ্গে কথা বলেই মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। ৪ তারিখের পর যাঁরা বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন, তাঁরাই বাধা দেন।
কিন্তু এবিপি আনন্দে বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বলেন, "দুর্নীতি...কাটমানি শুরু করেছে। তৃণমূলের লোকেদের কাছ থেকে কাটমানি নিচ্ছে। প্রধানকে আজকে বসানোর কথা ছিল। আসেনি। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।"























