Mousuni Island: মৌসুনী দ্বীপে কুমির আতঙ্ক! পর্যটকদের চিৎকার- ছোটাছুটি, চিন্তায় ঘুম উড়ল স্থানীয়দের
South 24 Paragana News: গতকাল সন্ধেয় স্থানীয় বাঘডাঙা এলাকার যাতায়াতের রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছিল কুমিরটি। সেইসময় এক বাসিন্দা কুমিরটির দেখতে পেয়ে চিৎকার জুড়ে দেয়।

গৌতম মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: হোম -স্টে ট্যুরিজমের জন্য বিখ্যাত সুন্দরবনের বিছিন্ন মৌসুনি দ্বীপ। এবার সেই দ্বীপের লোকালয়ে দেখা মিলল কুমিরের। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে দ্বীপের বাসিন্দা থেকে পর্যটকরা। তবে রাত বাড়তেই মেলে স্বস্তি। বনকর্মীদের পাতা ফাঁদে বন্দি হয় কুমিরটি।
গতকাল সন্ধেয় স্থানীয় বাঘডাঙা এলাকার যাতায়াতের রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছিল কুমিরটি। সেইসময় এক বাসিন্দা কুমিরটির দেখতে পেয়ে চিৎকার জুড়ে দেয়। চিৎকারে কুমিরটি গিয়ে আশ্রয় নেয় একটি পুকুরে। খবর দেওয়া হয় বনদপ্তরের বকখালি রেঞ্জে। চলে আসে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ।
রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বনকর্মীরা কুমিরটিকে পুকুর থেকে ধরে ফেলে। রাতেই কুমিরটিকে ভগবতপুর কুমির প্রকল্পে আনা হয়েছে। চিকিৎসার পর ৫ ফুট দৈর্ঘ্যের এই স্ত্রী কুমিরটিকে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হবে। সুন্দরবনের এই অংশে অতীতে কুমিরের দেখা মেলেনি। পাশের চিনাই নদীতে কুমিরটিকে গত কয়েক দিন ধরে ঘুরতে দেখেছে এলাকার মানুষ। তারপরেই ঢুকে পড়ে নদীর পাশের লোকালয়ে।
কলকাতা থেকে এই দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। একেবারেই নিরিবিলি এই দ্বীপটি। খানে একাধিক পকেট ফ্রেন্ডলি ক্যাম্প রয়েছে। মাত্র ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যেই খাওয়া-থাকা হয়ে যাবে। চাইলে তাঁবুতেও থাকতে পারেন। সমুদ্রতটে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত দেখার আনন্দই আলাদা। চাইলে মনের মানুষের হাতটি ধরে হেঁটেও বেড়াতে পারেন। নৌকাবিহারেরও সুযোগ রয়েছে এখানে। ভোজনরসিক হলে সারাদিনে নানা রকমের মাছ খাওয়ার সুযোগও আছে।
কোলাহল এড়িয়ে নিরিবিলি-নির্জনে যারা কাটাতে চান দিন কয়েক, মূলত তারাই ছুটে যান বঙ্গোপসাগরের এই দ্বীপে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে পড়ে এই অঞ্চল। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছর আগে বিষাক্ত 'ইয়েলো বেলি' সাপ এর আধিক্য বেড়েছিল এই মৌসুনী দ্বীপেই। এই সাপের বৈজ্ঞানিক নাম পেলামিস প্ল্যাটুরাস। যা ঘিরে সাগরঘেরা এই দ্বীপাঞ্চলে তুমুল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। মৌসুমী দ্বীপে মোটামুটি বছরের অধিকাংশ সময় পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। এখানকার সাগর পাড়ে একাধিক ক্যাম্প, মাড হাউজে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে।






















