SSC Verdict:'পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারচুপি, কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই', আর কী কী জানালেন দেশের প্রধান বিচারপতি?
SSC Case: প্রধান বিচারপতি আগের শুনানিতে বলেছিলেন যে ‘‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়, ইয়া পুরা ডালই কালা হ্যায়?’’ বৃহস্পতিবার এসএসসি মামলার রায় ঘোষণার দিন দ্বিতীয় অংশটিকেই যেন গুরুত্ব দিলেন।

কলকাতা: আলাদা করা যাবে বৈধ ও অবৈধ চাকরিপ্রাপকদের? বৃহস্পতিবার এই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় ছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু যেমনটা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আগের শুনানিতে বলেছিলেন যে ‘‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়, ইয়া পুরা ডালই কালা হ্যায়?’’ বৃহস্পতিবার এসএসসি মামলার রায় ঘোষণার দিন দ্বিতীয় অংশটিকেই যেন গুরুত্ব দিলেন। সুপ্রিম নির্দেশে সামনে আনলেন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তত্ত্বকেই।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে মামলার শুনানিতে নির্দেশ দেন যে, হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এর অর্থ ২০১৬-এর যে প্যানেল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ, সেই রায়ই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। তবে হাইকোর্টের রায়ের কিছু অংশ পরিবর্তন করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ, রায়ে তা বলা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের তরফে বলা হয়েছে নিয়োগে ব্যাপক পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না জানিয়েছেন, 'আমরা তথ্য পর্যালোচনা করেছি। দেখা যাচ্ছে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং জালিয়াতি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং বৈধতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ নেই। অযোগ্য প্রার্থীদের বাতিল করতে হবে।' প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আরও জানিয়েছে যে ইতিমধ্যেই নিযুক্ত প্রার্থীদের এখনও পর্যন্ত প্রদত্ত বেতন হস্তান্তরের প্রয়োজন নেই। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া ৩ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় দিতে হবে, এমনটাও নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এদিনের রায়ে বলা হয়েছে, 'যাঁরা অন্য সরকারি দফতর থেকে এখানে এসেছিলেন, তাঁরা পুরানো জায়গায় যোগদান করতে পারবেন। ৩ মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে হবে'। রায়ে এও বলা হয়, ক্যানসার আক্রান্ত সোমা দাস ছাড়া বাকি বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা কাজ করতে পারবেন না। তবে তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানাল, ফৌজদারি মামলার ওপর এর প্রভাব পড়বে না। রায়ে এও বলা হয়, 'পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি এত রহস্যময় এবং এত স্তরে হয়েছে যে, কতটা অবৈধ কাজ কীভাবে সম্পাদিত হয়েছিল তা অনুধাবন করা কঠিন ছিল। নির্বাচন প্রক্রিয়ার চারটি বিভাগের সমস্ত নিয়োগ বাতিল করাই একমাত্র বিকল্প।'
প্রসঙ্গ এসএসসি
এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, যাঁরা মেয়াদ-উত্তীর্ণ প্যানেলে চাকরি পেয়েছিলেন এবং যাঁরা সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের ১২ শতাংশ সুদ-সহ বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে, সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার, SSC এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় চাকরিহারাদের একাংশও।






















