Suvendu Adhikari PA Murder : বড় আপডেট ! চন্দ্রনাথ খুনে খুনিদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে এরা? বড় তথ্য পুলিশের হাতে
তদন্তকারীদের ধারণা, এলাকার কিছু লোক খুনিদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিল। নাহলে এত দ্রুত এলাকা চিনে, হামলা চালিয়ে, পরিকল্পনামাফিক পালিয়ে যাওয়া সম্ভব হত না।

চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র আপ্তসহায়ককে খুনের ঘটনায় অন্তত ৭ থেকে ৮ জন দুষ্কৃতী জড়িত ছিল বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, গোটা অপারেশনের আগে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করেছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই খুনের নেপথ্যে শুধু বাইরের সুপারি কিলার নয়, স্থানীয় দুষ্কৃতীদেরও ভূমিকা থাকতে পারে। তদন্তকারীদের ধারণা, এলাকার কিছু লোক খুনিদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিল। নাহলে এত দ্রুত এলাকা চিনে, হামলা চালিয়ে, পরিকল্পনামাফিক পালিয়ে যাওয়া সম্ভব হত না।
স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সাহায্যের তত্ত্বে জোর
তদন্তকারীদের বক্তব্য, চন্দ্রনাথ রথের রুটিন, যাতায়াতের সময় এবং কোন রাস্তা দিয়ে তিনি ফিরবেন—এই সব তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, স্থানীয় স্তরে কেউ না কেউ এই তথ্য খুনিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। কারণ, হামলার পর আততায়ীরা যে দ্রুততার সঙ্গে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে, তাতে পরিষ্কার তারা আগেই পালানোর রুট সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল। তদন্তে কোনও ফাঁক না রাখতে মধ্যমগ্রাম থানার প্রাক্তন আইসি সতীনাথ চট্টরাজ-কেও তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। এলাকার পুরনো অপরাধচক্র এবং স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট নেওয়া হচ্ছে বলে খবর।
উত্তরপ্রদেশে পুলিশের বিশেষ টিম
চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় সূত্র খুঁজতে এবার উত্তরপ্রদেশে পৌঁছেছে পুলিশের বিশেষ দল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, যে মাইক্রা গাড়িটি ব্যবহার করে চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকানো হয়েছিল, সেটি বিক্রির জন্য আগে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।পুলিশ সূত্রে খবর, সেই বিজ্ঞাপন দেখেই উত্তরপ্রদেশ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে খুনিদের কোনও যোগ ছিল কি না। সেই কারণেই উত্তরপ্রদেশে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে পুলিশের বিশেষ টিম।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে চলছিল তথ্য আদানপ্রদান
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, গোটা অপরাধের আগে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রাখতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিশ সূত্রে দাবি, সেই গ্রুপের মাধ্যমেই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তথ্য আদানপ্রদান চলছিল। তদন্তকারীরা এখন সেই ডিজিটাল ট্রেইল খতিয়ে দেখছেন। কারা সেই গ্রুপে ছিল, কোথা থেকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে এবং হামলার আগে কী ধরনের আলোচনা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
উদ্ধার দুই বাইক, মিলছে নতুন সূত্র
এই খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি বাইকই উদ্ধার করেছে পুলিশ। দ্বিতীয় বাইকটি উদ্ধার হয়েছে বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেটের কাছ থেকে। এর আগে প্রথম বাইকটি উদ্ধার করা হয়েছিল এয়ারপোর্টের আড়াই নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে। পুলিশ সূত্রে খবর, যে মাইক্রা গাড়ি দিয়ে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি আটকানো হয়েছিল, সেটিও বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেট এলাকার কাছেই রাখা ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, খুনের আগের পুরো দিন ওই এলাকায় দাঁড়িয়েছিল গাড়িটি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, হামলার আগে ওই এলাকাকেই ‘স্টেজিং পয়েন্ট’ হিসাবে ব্যবহার করেছিল দুষ্কৃতীরা। সেখান থেকেই গোটা অপারেশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
৭-৮ জনের বড় চক্রের ইঙ্গিত
পুলিশের অনুমান, এই হামলায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন জড়িত ছিল। কেউ নজরদারি করেছে, কেউ রুটের তথ্য দিয়েছে, কেউ গাড়ি এবং বাইকের ব্যবস্থা করেছে, আবার কেউ সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, গোটা অপারেশন অত্যন্ত সংগঠিত এবং পরিকল্পিত ছিল। সেই কারণেই এখন শুধু শ্যুটারদের নয়, পুরো নেটওয়ার্কটিকে চিহ্নিত করার দিকেই জোর দিচ্ছে পুলিশ।
Before You Go
Chorbagan Durga Puja Stampede | চোরবাগানে সর্বজনীনের মণ্ডপে মৃত্যুমিছিল!






















