Suvendu Adhikari: ‘মমতার হাত ছেড়েছিলেন, তৃণমূল ভয় দেখিয়ে থাকতে পারে’, আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের রহস্যমৃত্যুতে শুভেন্দু অধিকারী
Asish Banerjee Death Mystery: আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পরিবারের সঙ্গে কথা শুভেন্দু অধিকারীর।

কলকাতা: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের রহস্যমৃত্যু ঘিরে শোরগোল। এবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সকলের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে বলে জানালেন তিনি। সেই সঙ্গে আশিসকে অত্যন্ত 'সৎ', 'ভদ্র রাজনীতিক' বলে উল্লেখ করলেন। জানালেন, আশিসের পরিবারের সঙ্গে বরাবর সুসম্পর্ক তাঁর। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন বলে মেসেও করেছিলেন আশিস। তৃণমূলের লোকজন আশিসকে ভয় দেখিয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু। (Asish Banerjee Death Mystery)
এদিন নবান্নের সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গাঁধী 'বন্দেমাতরম' গানকে অপমান করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। আর সেখানেই আশিসের রহস্যমৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ খোলেন। বলেন, "আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি একটু আগে। বীরভূমের সাংসদ অসিত মালের ফোন থেকে ওঁর স্ত্রী, দুই দাদার সঙ্গে কথা হয়েছে। আশিসজী ভদ্র রাজনীতিক ছিলেন। কিছুদিন আগে বিধানসভায় কয়েক জন নেতার নাম নিয়েছিলাম, যার মধ্যে বিরোধী শিবিরের নেতাদের নামও ছিল। বলেছিলাম, সজ্জন ব্যক্তি। ওঁর পরিবার বললেন আমাকে, বিজেপি-র ধ্রুব সাহা জেতার পর প্রথমেই পাঁচবারের বিধায়ককে প্রণাম করে আসেন। ওঁর গোটা পরিবার বলছেন, বিজেপি-র স্থানীয় লোকজন, পুলিশের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক আমাদের। কেউ কোনও নোটিস দেয়নি। কোনও ফোন আসেনি, জিজ্ঞাসাবাদও করেনি প্রশাসন।"
আশিসের ভূয়সী প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন, "অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। ভাল মানুষ ছিলেন। শিক্ষিত মানুষ। ভাল সম্পর্ক ছিল আমার সঙ্গে। আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মেসেজও করেছিলেন যে ‘আমি আসব দেখা করতে’। সৎ মানুষ ছিলেন। ভিডিও কলে একটু আগে কথা হয়েছে পরিবারের সকলের সঙ্গে। আমি বলেছি যে এসপি-কে নির্দেশ দিয়েছি। সহযোগিতা করুন। মোবাইল ফোন পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত লোকজন ভয় দেখিয়ে থাকতে পারে যে আপনার নাম আনব। এটা করব, ওটা করব। ভয় দেখাতেই পারে। পুলিশ মোবাইল কল রেকর্ডস দেখে নেবে। নির্বাচনের পর উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে দিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় একটি কমিটি তৈরি করেন। উনি সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করে বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে নেই’। স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশকে কিছু করতে হবে। পরিবার সহযোগিতা করবেন। সুযোগ পেলেই যাব দেখা করতে। ওঁর পরিবারের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক আমার। ক্রস চেক করে দেখে নিতে পারেন। ওঁর দাদা আছেন, ৮৪ বছর বয়সি।"
এদিন তৃণমূলের যে কার্যালয় থেকে আশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়, সেখান থেকে একটি নোটও পাওয়া গিয়েছে, যা 'সুইসাইড নোট' বলে মনে করছে পুলিশ। সেই নিয়ে প্রশ্ন করলে শুভেন্দু বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী পুলিশমন্ত্রীও। সুইসাইড নোট ফরেন্সিকে যাবে। তাঁর হাতের লেখা কি না, পরীক্ষা হবে আগে। বিরোধী নেতা হিসেবে অনেক কথা বলতে পারতাম। কিন্তু এখন মন্তব্য করা ঠিক হবে না। হস্তাক্ষর প্রমাণিত হলে বলা উচিত।" সুষ্ঠ ভাবে ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি, পুলিশ এবং জেলাশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্ষমতায় আসার পর তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদে যে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি, তাতে আশিসের দিকেও আঙুল উঠতে শুরু করে। যদিও এদিন শুভেন্দু বলেন, "তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ নিয়ে কোনও স্তর থেকে চিঠি বা নোটিস যায়নি ওঁর কাছে। শান্তিতে ছিলেন উনি। শাসকদলের মন্ত্রী বা ডেপুটি স্পিকারের ক্ষমতা হয়ত চলে গিয়েছিল, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেন। পরিবারকে সহযোগিতা করতে বলেছি মোবাইল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে। তদন্ত করে দেখা হবে দুর্নীতিগ্রস্ত কোনও লোকজন ওঁকে ভয় দেখিয়েছে কি না যে 'আপনার নাম বলে দেব'। কারণ একটা তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে তৃণমূল, তার সঙ্গে ওঁর দূরত্ব তৈরি হয়। মমতার কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন। কেউ ব্ল্যাকমেলিং করে থাকতে পারে। পুলিশ দেখবে। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় একজন শিক্ষাবিদ, সজ্জন রাজনীতিবিদ। তাঁর অনুগামীদের নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। রামপুরহাটের বগটুইয়ের ঘটনা...সবটা ওঁদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সবাই জানেন তৃণমূলের সকলে ছিলেন ল্যাম্পপোস্ট, একটাই পোস্ট। ওঁর সহযোগীরা, যাঁদের নিয়ে রামপুরহাটে রাজনীতি করতেন, তাদের সার্টিফিকেট দিতে পারব না আমি। বগটুইয়ে অনেক ঘটনা ঘটেছে। বালি মাফিয়ার দৌরাত্ম্য, ভাদু-আনারুল, গত দু'তিন বছরে অনেক কিছু ঘটেছে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে একজন শিক্ষাবিদ, সজ্জন, সৎ মানুষের এভাবে চলে যাওয়া, তাও কোনও কারণ ছাড়া...কারণ ছাড়া বলছি কারণ বিজেপি-র প্রার্থী জিতে বাড়ি গিয়ে প্রণাম করেছে। চার মাস আগের নির্বাচনে এমন উদাহরণ দিতে পারবেন না। পরিবারও জানাল, বিজেপি-র সকলের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল। উনি থাকলে ভালই হতো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে, মমতাপন্থী তৃণমূল থেকে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। আমার সঙ্গে দেখা করতে অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন। বলেছিলাম, কলকাতায় এলে আসবেন। আমরা আইনের শাসন দিয়েছি। তামান্নার ক্ষেত্রেও দিয়েছি আমরা। খুনের রাজনীতি তৃণমূল ছাড়া... আমার কাছে যে দু'বার হেরেছে, তার সঙ্গে এখনও থাকা লম্পটরা ছাড়া এই ধরনের নোংরা কাজ কেউ করতে পারে না।"























