Scam Case Investigation : ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির তালিকা দীর্ঘ, কোন মামলার তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে ?
West Bengal News : প্রত্যেকটা মামলায় এই প্রশ্ন উঠেছে, কেন মামলা এগোচ্ছে না ?

বিজেন্দ্র সিংহ, কলকাতা : সারদা, নারদ থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। গরু পাচার, কয়লা পাচার থেকে রেশন ও পুর নিয়োগ দুর্নীতি গত ১৫ বছরে দুর্নীতির তালিকা দীর্ঘ। যার জেরে শ্রীঘরে যেতে হয়েছে তৃণমূলের বহু হেভিওয়েটকে। এবার সেই তালিকাতেই জুড়ল আরেকটা নাম। প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। যদিও প্রত্যেকটা মামলায় এই প্রশ্ন উঠেছে, কেন মামলা এগোচ্ছে না ? এই পরিস্থিতিতে দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন মামলায় তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে ?
আবার গ্রেফতার এক তৃণমূল নেতা। আবার সেই দুর্নীতির মামলা। আবার কোটি কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ। এবার প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। দুর্নীতির অভিযোগে নাম জড়ানো তৃণমূল নেতাদের দীর্ঘ তালিকায় জুড়ল আরেকটা নাম।
সারদা, নারদ থেকে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, পুর নিয়োগ, রেশন দুর্নীতি, কয়লা পাচার, গরুপাচার। গত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির তালিকা দীর্ঘ। যার জেরে শ্রীঘরে যেতে হয়েছে তৃণমূলের বহু হেভিওয়েটকে।
যে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসু গ্রেফতার হলেন, সেই মামলাতেই বারবার ED-র তরফে তলব করা হচ্ছে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে। এই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই ২০২৩ সালে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে সাড়ে ৯ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েছিল CBI. তল্লাশি চলে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়িতেও। পুর নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টা সামনে আসে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে। সেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় , প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতার ফ্ল্য়াট থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা এবং গয়নার পাহাড় চমকে দিয়েছিল গোটা রাজ্য়কে। এই নিয়োগ দুর্নীতিতে ED-র হাতেই গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত। এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখনও জেলবন্দি রয়েছেন বড়ঞার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে প্রাক্তন কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিন্হার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করে ED.
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, জমি বিক্রি সংক্রান্ত আর্থিক প্রতারণার মামলায় রাসবিহারী কেন্দ্রের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালান আয়কর দফতরের অফিসাররা। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের পরপরই ১৭ মে, তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নারদ মামলায় গ্রেফতার করে CBI.
সারদা মামলাতেও গ্রেফতার হয়েছিলেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্রর মতো তৃণমূল নেতারা।
রোজভ্য়ালি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।
বর্তমানে জেলমুক্ত হলেও, গরুপাচার মামলায় দীর্ঘদিন জেলবন্দি ছিলেন বীরভূমের তৎকালীন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।
রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে গ্রেফতার হন প্রাক্তন খাদ্য়মন্ত্রী জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক।
আর জি কর মেডিক্য়ালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ, খুনের পরই সামনে আসে আর্থিক দুর্নীতির চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ! সেই ঘটনায় শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআই।
কয়লা পাচার মামলায় একাধিকবার CBI- ED-র জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। একাধিকবার তলব করা হয়েছে প্রাক্তন আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক প্রতীপ চট্টোপাধ্য়ায় বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দুর্নীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা যে সমস্ত দুর্নীতিতে জড়িত...কয়লা হতে পারে, বালি হতে পারে, শিক্ষা হতে পারে, সারদা-নারদা যা-ই হতে পারে...আমার মনে হয়, এই বর্তমান সরকারের আশু কর্তব্য দুর্নীতির সবকটা ফাইল খোলা।"
২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা কয়লা পাচার মামলায়, অনুপ মাজির অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ED. সেই মামলায়, অনুপ মাঝির আইনজীবী ED-র আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন সবকিছুই তাঁর (ED-এর আইনজীবীর) হাতের মুঠোয়। গত শুনানির সময় আমি বলেছিলাম, নির্বাচনের পর হয়তো মিস্টার রাজুর আর অনুপ মাজিকে প্রয়োজন হবে না। তখন সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করে, নির্বাচনের আগেই আপনি ফলাফল সম্পর্কে জানতেন ? সুপ্রিম কোর্ট এবিষয়ে নোটিস জারি করেছে। ৮ সপ্তাহ পর এই মামলার ফের শুনানি।
























