TMC News : তৃণমূলের আরও এক পৌরসভার চেয়ারম্যান আটক, ভয়ঙ্কর অভিযোগ এলাকাবাসীর
দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, রাতভর চলে বিক্ষোভ। পুলিশের জালে এবার জিয়াগঞ্জ আজিমগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ। চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। চোর চোর স্লোগানে মুখরিত হয়ে পড়ে গোটা পৌরসভা ও থানা চত্বর।

মুর্শিদাবাদ : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তাসের দেশের মত ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনের পরেও দলের অন্দরেও ভাঙ্গন অব্যাহত। তার মাঝে জেলায় জেলায় জনরোষের কবলে পড়ছেন তৃণমূলের নিচুস্তরের নেতারাও। কাটমানি, তোলাবাজি সহ বিভিন্ন বেআইনি কাজে যুক্ত থাকার কারণে গ্রেফতারও হয়েছেন বহু। এবার এই তালিকায় যুক্ত হলেন জিয়াগঞ্জ আজিমগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ। জনরোষের মুখ থেকে কোনও-রকমে রক্ষা পান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, রাতভর চলে বিক্ষোভ। দফায় দফায় আক্রমণও করে সাধারণ মানুষ। শেষ পর্যন্ত ভোররাতে পুলিশ এই জনরোষের হাত থেকে বাঁচাতে আটক করে জিয়াগঞ্জ থানায় নিয়ে এসেছেন জিয়াগঞ্জ আজিমগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ-কে। বুধবার বিকেল থেকে স্থানীয় মানুষজন দুর্নীতির অভিযোগে পৌরসভার সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। ঘেরাও করে রাখেন পৌর চেয়ারম্যানকে। রাতে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একটাই দাবি ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত পৌর প্রধানকে গ্রেফতার করতে হবে। এই দাবির জন্য রাত পর্যন্ত ঘেরাও করে রাখা হয় প্রসেনজিৎ ঘোষকে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছায় সেখানে। পুলিশের কর্ডন করে আজিমগঞ্জ থেকে তাঁকে নদী পেরিয়ে জিয়াগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়।
আরও পড়ুন - ২৫০ কোটি টাকার স্ক্যাম ! কীভাবে হয়েছিল আমফান দুর্নীতি ? সবটা ফাঁস করলেন বিজেপি নেতা ববি
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পৌরসভার আবাস যোজনার দুর্নীতি থেকে পৌর পরিষেবার নামে নানান বেনিয়ম ও দুর্নীতিতে যুক্ত আছেন জিয়াগঞ্জ আজিমগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ। পুলিশ চেয়ারম্যানকে বার করে নিয়ে আসার সময় কার্যত ধুমধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। চোর চোর স্লোগানে মুখরিত হয়ে পড়ে গোটা পৌরসভা ও থানা চত্বর।
উল্লেখ্য, ক্যানিংয়ের থুমকাটিতে তৃনমূল নেতা সুকুমার রাজের বাড়িতেও চড়াও হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। মূলত, তৃনমূল জমানায় মানুষকে ভয় দেখানো, বিভিন্ন খাতে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ক্যানিং ১নং ব্লকের মাতলা ২নং গ্রাম পঞ্চায়েতের থুমকাটি এলাকার ঘটনা। গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্ত তৃনমূল নেতা সুকুমার রাজকে কাটমানি নেওয়া টাকা ফেরৎ দিতে হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তর শাস্তির দাবিতে গতকাল বিকালে বিক্ষোভ দেখায় গ্রামের মহিলা ও পুরুষরা।
আরও পড়ুন - চড়াম চড়াম ঢাক থেকে DJ বাজানো, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে হুমকি-হুঁশিয়ারির তালিকায় কারা ?























