West Bengal: ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম, যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা, সাপের উপদ্রব, মুখ্যমন্ত্রী বললেন...
West Bengal Flood: যেদিকে দু'চোখ যায় শুধু জল আর জল। ডুবে গিয়েছে চাষের জমি থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট। বাড়ি থেকে বেরনোর একমাত্র ভরসা নৌকা।

সোমনাথ দাস, সৌমেন চক্রবর্তী ও ঋত্বিক প্রধান, ঘাটাল: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘাটাল, সবং, খেজুরি-সহ একাধিক জায়গায় নদীর জল বেড়ে ভাসছে গ্রাম, চাষের জমি, রাস্তা। জলবন্দি বহু মানুষ।
যেদিকে দু'চোখ যায় শুধু জল আর জল। ডুবে গিয়েছে চাষের জমি থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট। বাড়ি থেকে বেরনোর একমাত্র ভরসা নৌকা। কেউ কেউ সেটুকুও জোগাড় করতে না পেরে অসহায়! মুখে তোলার দু'টো ভাত কোথা থেকে আসবে, কেউই জানেন না।
এক কোমর জল। ভেলা করে যাচ্ছে লোকজন। সবংয়ের বাসিন্দা অনিল ক্য়ুইলা বলেছেন, 'যাওয়া যাচ্ছে মোটামুটি, এক কোমর, এক ছাতি, এরকম জল।' ঘাটালের বাসিন্দা শিখা শানকি বলছেন, 'জল ঢুকছে, এবার কোথায় যাব, কী করব? খাওয়া দাওয়ার কষ্ট, টাকা পয়সার সমস্যা, কোথায় কী করব তার পাত্তা নেই। যেতে গেলে সাঁতরে যেতে হবে হাঁড়ি নিয়ে। নৌকা কোথায় পাব? এখানে নৌকা, ডোঙা নেই।'
ফি বছর বর্ষা এলেই বানভাসি পরিস্থিতি হয় ঘাটালের! পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং, হুগলির আরামবাগ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যায়। এবারও সেই ছবিটা বদলায়নি। বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে করে জলবন্দি এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের ৭টি ব্লকের ৪১টি গ্রাম পঞ্চায়েত জলমগ্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, 'কেলেঘাইয়ের জল, যেটা বিপদসীমার উপরে বইছিল, এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। মোট দশটা সাপে কামড়ানোর কেস এসেছে। প্রত্য়েককে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে। স্বাস্থ্য দফতর ভাল কাজ করেছে।'
ঘাটালে শিলাবতী নদীর উপর ভাসাপোল ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। প্রতিদিন কয়েক হাজার বাসিন্দা এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন। টানা বৃষ্টিতে ভাসছে ঘাটালের মনসুকার পার্বতী চক এলাকা। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের লাড়ো গ্রামে ভয়াবহ পরিস্থিতি। কারও বাড়িতে এক বুক জল... তো কোথাও রাস্তার উপর কোমর সমান জল...ঘরবাড়ি ছেড়ে কেউ আত্মীয় বাড়িতে চলে গিয়েছেন। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে!
সবংয়ের লাড়ো গ্রামের এক বাসিন্দা বলছেন, 'এখানে ৩০-৪০টা বাড়ি আছে, সবাই এরকমভাবে ডুবে গিয়েছে। এখন একটু জলটা কমেছে বর্তমানে। কিন্তু আগে যাওয়া আসা অসম্ভব ছিল। আমাদের নৌকা করে যেতে আসতে হতো।' কতটা জল ছিল? ওই বাসিন্দা বলেছেন, 'এক বুক করে।'
লাড়ো গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাপদ ক্য়ুইলা বলেছেন, 'এক গলা জল আছে বাড়ির ভিতর। ৮ দিন হয়ে গেল। খাওয়াদাওয়া বলতে শুকনো মুড়ি আর শুকনো খাবার।'
পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতেও জল-যন্ত্রণার করুণ ছবি। টানা বৃষ্টিতে জল থইথই হেড়িয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। চরম নাজেহাল হচ্ছেন রোগী ও রোগীর পরিজনরা। খেজুরির বাসিন্দা অরিন্দম গুড়িয়া বলেছেন, 'পুকুর এবং হাসপাতালের দাওয়া জলে জলমগ্ন। একদম সমান হয়ে গেছে। এখানে রাতে স্টাফ থাকতে পারে না। সাপের উপদ্রব প্রচণ্ড হয়। ব্যাঙ, সাপ, বিভিন্ন কীটপতঙ্গ রোগীর বিছানায় ঘুরে বেড়ায়।'
সময় যায়। এই মানুষগুলোর জল-যন্ত্রণা আর যায় না। কোনওদিন কি তাঁদের ভাগ্য় বদলাবে?
Before You Go
Bigmint India Ferrous Week 2026: শিল্পের অগ্রগতির লক্ষ্যে JW Marriott-এ শুরু হয়েছে 'বিগমিন্ট ইন্ডিয়া ফেরাস উইক ২০২৬






















