West Bengal Health Department Guideline : বাড়ছে প্রসূতি মৃত্যু,চিন্তায় রাজ্য, নেওয়া হল বড় পদক্ষেপ, জারি নতুন গাইডলাইন
প্রসূতি মায়েদের মৃত্যু বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তায় স্বাস্থ্য দফতর। এবার মৃত্যুহার কমাতে কঠোর গাইডলাইন জারি।

সন্দীপ সরকার, কলকাতা : এ বছর জানুয়ারি মাসে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যু ও একাধিক প্রসূতির অসুস্থ হয়ে পড়া নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য। গত জানুয়ারি মাসে ৬ জন প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েন।। অভিযোগ উঠেছিল রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন ব্যবহার করার ফলেই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। গত ১০ জানুয়ারি, মামণি রুইদাস নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। এই ঘটনা নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। এবার প্রসূতি মৃত্যু বৃদ্ধি নিয়ে কপালে ভাঁজ রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরেরও। প্রশ্ন উঠছে, প্রতিটি প্রসূতি মায়েদেরকে স্যালাইন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ কমিটির দেওয়া প্রোটোকল আদৌও মানছেন তো চিকিৎসকরা? বাংলার প্রতি মা-ই যেন সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় সেই সুরক্ষাটুকু পান, সেটাই চায় স্বাস্থ্য দফতর। সেই জন্যই এই কঠোর গাইডলাইন জারি করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যজুড়ে সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও প্রতিটি গ্রামীণ হাসপাতাল, ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ডেলিভারি পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছে নির্দেশিকা। প্রতিটি জায়গায় চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট , নার্সিং টাফ প্রত্যেককে মেনে চলতে হবে নয়া ফ্লুইড গাইডলাইন। সেখানে বলা হয়েছে, সব প্রসূতি মায়েদের সিজারের ক্ষেত্রে, অপারেশনের পর রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে যে ধরনের স্যালাইন ব্যবহার করা হয় তা দেওয়ার সময় অতি সতর্ক থাকতে হবে। সঠিক মাত্রায় স্যালাইন দিতে হবে। সঠিক সময়ে, যদি স্যালাইন দেওয়া না হয়, স্যালাইন এর মাত্রা যদি ঠিক না থাকে অথবা প্রয়োজনের তুলনায় যদি বেশি স্যালাইন ব্যবহার করা হয়, তাহলে বড় বিপদ হতে পারে। সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে গাইড লাইনে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ, অতিরিক্ত পরিমাণে ক্রিস্টালয়েড স্যালাইন দেওয়ার সঠিক প্রটোকল না মানলে, কিডনি ফেইলিওর হতে পারে। হতে পারে অ্যানিমিয়াও । তাই অতি সতর্ক হতে হবে।
চিকিৎসকদের বেশিরভাগই এই ধরনের গাইডলাইনকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্যালাইনের গুণগত মান অবশ্যই যাচাই করা উচিত, না হলে গাইডলাইন মেনে চলার পরেও প্রসূতি মৃত্যু আটকানো সম্ভব হবে না, মনে করছেন চিকিৎসকরা।
চলতি বছরের গোড়ায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মৃত্যু ঘিরে গোটা রাজ্য তোলপাড় হয়। সামনে আসে পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির একাধিক বেনিয়ম। মেয়াদ উত্তীর্ণ রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ৭ জুনিয়র ডাক্তার-সহ ১৩ জনকে সাসপেন্ড করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।






















