WB Assembly Poll 2026: ৩-৪ দফায় বিধানসভা ভোট? জল্পনা তুঙ্গে ! কী বলছেন শাহ-শমীক-দিলীপরা ?
WB Poll Phase Probability : আগেরবারের মতো আর ৭-৮ দফায় ভোট হবে না? সেক্ষেত্রে কত সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে? এসব প্রশ্নেই শুরু হয়েছে জল্পনা, কী বলছেন দিলীপ ঘোষ ?

দীপক ঘোষ, রুমা পাল, সুজিত মণ্ডল, এবিপি আনন্দ, কলকাতা : ইংরেজি বছরের শেষ দিনে অমিত শাহ রাজ্যে এসে বলে গেছেন, বাংলা বছরের শুরুর আগেই পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠিত হবে। আর তারপরেই শুরু হয়ে গেছে জল্পনা। তাহলে কি ভোট এগিয়ে আসছে? আগেরবারের মতো আর ৭-৮ দফায় ভোট হবে না? সেক্ষেত্রে কত সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে? এসব প্রশ্নেই শুরু হয়েছে জল্পনা। এর মাঝেই দিলীপ ঘোষ বলেছেন, দরকার হলে এবার বুথের ভিতরেও থাকবে সেন্ট্রাল ফোর্স। উত্তর দিয়েছে তৃণমূলও।
১৫ এপ্রিল অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ। বাংলা ক্যালেন্ডারে বছরের প্রথম দিন। তার আগেই কি পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন হয়ে যাবে? এগিয়ে আসতে চলেছে এবারের বিধানসভা ভোট? সদ্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে গিয়েছেন , বিজেপি সরকারের সংকল্প ১৫ এপ্রিল, ২০২৬-এর পর যখন বিজেপি সরকার হবে, বাংলার গৌরব, বাংলার সংস্কৃতি, তার পুনর্জাগরণের জন্য আমরা পুনরায় শুরু করব। সম্প্রতি কলকাতায় অমিত শাহের এই মন্তব্য ঘিরে এখন জল্পনা তুঙ্গে! বর্তমানে রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব চলছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত করবে নির্বাচন কমিশন। অমিত শাহের মন্তব্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে যদি নতুন সরকার গঠন করতে হয়, তাহলে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত হাতে থাকছে ২ মাস সময়। তার মধ্যেই ভোট ঘোষণা, মনোনয়ন পর্ব, প্রচার, নির্বাচন ও ফল ঘোষণা- এই এতগুলি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। প্রথা অনুযায়ী, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং ভোটের দিন ঘোষণার মধ্য়ে অন্তত ২ সপ্তাহ সময় থাকতে হয়।
সেক্ষেত্রে সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারি মাসের ২৬ বা ২৭ তারিখ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার পর, মনোনয়ন পর্ব এবং প্রচারের জন্য সাধারণত ১ মাস সময় দেওয়া হয়। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ভোট ঘোষণা হলে, গোটা মার্চ মাস জুড়ে চলতে পারে ভোটের প্রচার।এখন অমিত শাহের মন্তব্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যে নতুন সরকার তৈরি করতে গেলে এপ্রিলের শুরুতেই ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার কথা।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এক দফায়ও যদি নির্বাচন হয়, আমরা তার জন্যও তৈরি, নির্বাচন যদি ৩ দফায় হয়, আমরা তার জন্যও তৈরি, নির্বাচন যদি ২ দফায় হয়, আমরা তার জন্যও তৈরি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ভোটের ফল ঘোষণা করতে হলে এবার ৭-৮ দফায় ভোট করানো কার্যত অসম্ভব। সেক্ষেত্রে সূত্রের খবর, ৩ থেকে ৪ দফায় ভোটগ্রহণ হতে পারে। এপ্রিলের শুরুতে ভোটগ্রহণ শুরু করলে তা শেষ করতে হবে ১২ এপ্রিলের মধ্যে। অধীর চৌধুরী বলেন, ভোটটা যেন মানুষ সুষ্ঠভাবে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কত দফায় ভোট হবে, তার ওপরেই নির্ভর করবে কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হবে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার দিল্লিতে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নোডাল অফিসার আনন্দ কুমার জানিয়ে দেন,ভোটের জন্য ৩৫ হাজার রাজ্য পুলিশ দেওয়া যাবে।সূত্রের খবর, ৮ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-সহ কয়েকটি রাজ্যের CEO-কে নিয়ে ফের বৈঠক করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এদিন গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন দিলীপ ঘোষ।প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ বলেন, এই যে ৫০-৬০ লক্ষ ভোটটা বেশি, সেটা হচ্ছে ওই ১ কোটি ভূতুড়ে ভোটারের ভোটটা পড়ে যায়। আমরা জিতেও হেরে যাই। এবারে কিন্তু তা হবে না। দরকার হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের রুমের ভিতরে থাকবে। বুথের ভিতরে থাকবে। ভুয়ো ভোটার ঢুকবে না। ফলস ভোট চলবে না। ২০২১-এ ৮ দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এবার কী হবে?






















