Bangladeshi Infiltration Issue: 'কখনও ধর্ম কখনও ভাষা-ভাগাভাগি করে দাও, হয় বিজেপির লাভ না হলে তৃণমূলের লাভ', উভয় সঙ্কটে রাজ্যবাসী !
Infiltration Issue: কোথাও দেখা যাচ্ছে, কোনও ব্য়াক্তির এক পকেটে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ! তো আরেক পকেটে ভারতের ভোটার কার্ড !

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, শিবাশিস মৌলিক ও উজ্জ্বল মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা : এ রাজ্য়ে ঢুকে, রুজি-রুটিতে ভাগ বসাচ্ছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। আবার ভিন রাজ্য়ে কাজ করতে গিয়ে বাংলা বলায়, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের কপালে জুটছে বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্থা-নিগ্রহ-মারধর ! পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ এখন উভয় সঙ্কটে । করবেন তো কী করবেন ? যাবেন তো কোথায় যাবেন ? এনিয়ে তোলপাড় রাজনীতি। একপক্ষ অন্যপক্ষকে বিঁধছেন চাঁচাছোলা ভাষায়।
কোথাও দেখা যাচ্ছে, কোনও ব্য়াক্তির এক পকেটে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ! তো আরেক পকেটে ভারতের ভোটার কার্ড ! কোথাও বাংলাদেশের অঙ্কিতা, ভারতে ঢুকে চুমকি হয়ে যাচ্ছে। কোথাও বাংলাদেশের নুরুল, ভারতে এসে হচ্ছে নারায়ণ। বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার বলছেন, "যারা অমুসলিম হয়ে বাংলাদেশে অত্যাচারিত হয়েছেন মুসলিমদের দ্বারা, তাঁরা এই দেশে শরণার্থী। এর বাইরে যারাই আসবে, তারা এই দেশের জন্য অনুপ্রবেশকারী বলে গণ্য হবে। তাদের আমরা পুশব্যাক করব, সরিয়ে দেব।"
আবার এর ঠিক উল্টো দিকে পেটের টানে ভিন রাজ্য়ে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এ রাজ্য়ের মানুষকে। বাংলাভাষী হওয়ায়, বাংলাদেশি সন্দেহে কোথাও তাদের আটক করে রাখা হচ্ছে, কোথাও মারাত্মক হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য় সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলছেন, "কোথাও যাকে আটকানো হচ্ছে বা হয়রান করা হচ্ছে, তিনি ধর্মে হিন্দু...কোচবিহার বা উত্তরবঙ্গে গিয়ে বলছে আমরা রাজবংশীদের পাশে। আর অন্য রাজ্যে গিয়ে রাজবংশীদের হয়রান করছে। রাজবংশী তো হিন্দু। এখানে মতুয়াদের কাছে গিয়ে বলছে আমরা মতুয়াদের পাশে আছি। অন্য রাজ্যে মতুয়াদের বলছে, অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি। সেখানে হেনস্থা করছে। এই যে দ্বিচারিতার রাজনীতি বিজেপি করছে, ভয়ঙ্কর পরিবেশের দিকে যাচ্ছে।"
প্রশ্ন হচ্ছে এই সঙ্কটে বৈধ পশ্চিমবঙ্গবাসী কী করবে ? এই ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ের দিকেই আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, "বাংলার মানুষ ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক, গরিব, তার বাপ-ঠাকুরদার কাগজ খুঁজছে। যত গরিব তত তার কাগজের জোর কম। মমতা ব্যানার্জি পারবেন না। এখন নাটকবাজি করার জন্য করছেন, কখনও ধর্ম কখনও ভাষা- ভাগাভাগি করে দাও। হয় বিজেপির লাভ না হলে তৃণমূলের লাভ। বাংলার মানুষ রুখবে, এসব ফরমান মানি না।"
প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, "বাংলাদেশি আর বাংলাভাষী, পশ্চিমবঙ্গবাসী আর বাংলাদেশি, সব পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মিলিয়ে মিশিয়ে একাকার করে দিয়েছেন। তারজন্য সাধারণ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, তাদেরও বিপদ নেমে আসছে। " এরই মধ্য়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের প্রতিবাদে বুধবারও সংসদ ভবনের মকর দ্বারে বিক্ষোভ দেখান INDIA জোটের সাংসদরা।






















