'রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে মোদিজিকে ভোট করাতে হচ্ছে!' চাঞ্চল্যকর দাবি মমতার

বিধানসভা ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের IAS-IPS অফিসারদের ভিন রাজ্যে পাঠানো নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য সরকারের মধ্য়ে সংঘাতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, ডিজি আইনশৃঙ্খলা, একাধিক জেলাশাসক ও পুলিশকর্তাদের সরিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ভিন রাজ্যের ভোটে পর্যবেক্ষক হিসেবেও পাঠানো হয়েছে। যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর শুক্রবার রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রসঙ্গ টেনে ফের সুর চ়ড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এবারে দেখছি, মানুষ খাদ্য পাবে কোথা থেকে? রেশন! বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ যেন আমাকে দোষ না দেয়। কারণ আমি তো রেশনটা দিতে চাই। খাদ্য দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে নিয়ে গেছে পর্যবেক্ষক করে। এর পরে যদি কোনও ঘটনা ঘটে, এর জন্য দায়ী থাকবে বিজেপির সরকার। কারণ নির্বাচন কমিশন বিজেপি সরকারের বাইরে নয়। তাদের তোতা পাখি। এখানে তো অঘোষিত নয়, ঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দিয়েছে। লজ্জা লজ্জা লজ্জা। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে মোদিজিকে ভোট করাতে হচ্ছে! বাংলার মানুষকে এত ভয়।'
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'উনি প্যারাট্রুপার নন।...মাটির গন্ধ বুঝতে শুরু করেছেন...কিন্তু উনি যেটা চাইছেন, আমরা তা হতে দেব না।' এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আরও ৫জন IAS অফিসারকে তামিলনাড়ুতে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। পি উলগানাথন, আয়েষা রানি, অরবিন্দ কুমার মিনা, সিয়াদ এন, প্রীতি গোয়েল এবং সামা পারভিনকে।
যাদের মধ্যে অনেককেই আগেই পদ থেকে সরিয়েছে কমিশন। এইভাবে রাজ্যের IAS, IPS-দের বদলি করার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করলেন তৃণমূল সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার শুনানি হবে সোমবার। বর্ষীয়ান আইনজীবী ও সাংসদ বলেন, 'আজ আমরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একটা PIL দাখিল করেছি। ট্রান্সফার অর্ডারে বলা হয়েছে যে, ওই অফিসাররা কোনওরকম ভোটের কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না। যদি এই অফিসাররা (পশ্চিমবঙ্গে) ভোটের কাজে যুক্ত নাই থাকতে পারেন, তাহলে অন্য রাজ্যে কীভাবে তাঁরা ওই কাজ করতে পারবেন? এটা তাদের দ্বিচারিতা।'
এই আবহেই বহু 'বিবেচনাধীন' ভোটারের নজর রয়েছে সাপ্লিমেন্টারি লিস্টের দিকে। অবশেষে আগামী সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ হতে চলেছে। তারপর প্রতি শুক্রবার ধাপে ধাপে পরবর্তী সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের মধ্য়ে, এখনও পর্যন্ত ২৭ লক্ষ ২৩ হাজার জনের নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ এখনও প্রায় ৩৩ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতাব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'নির্বাচন আসা অবধি প্রসেস কমপ্লিট হবে তো? জাস্টিস দেওয়ার নামে ইনজাস্টিস হ্ছে না? মোদির অফিস ফোন করে করে থ্রেট করছে।
সূত্রের খবর, রাজ্যে বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রথম তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে সোমবার। এই তালিকায় নাম না উঠলে আপিল করা যাবে ট্রাইব্য়ুনালে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইব্য়ুনাল গঠন করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হল। এরমধ্য়ে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু, রঞ্জিতকুমার বাগ, সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়।
এসবের মধ্যেই শনিবার নতুন ঠিকানায় সরতে চলেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। স্ট্র্যান্ড রোডে শিপিং কর্পোরেশনের বিল্ডিংয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছে CEO দফতর।
(স্টোরিটি এই মুহূর্তে ব্রেক করা হয়েছে, আপডেট করা হচ্ছে I সাম্প্রতিকতম আপডেট পেতে রিফ্রেশ করুন)























