Yuva Sathi Payment: এপ্রিলেও যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাননি? এই কাজ এখনই না করলে কোনওদিনই পাবেন না!
রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় থাকা বহু উপভোক্তার কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। মার্চ ও এপ্রিল মাসের ভাতার টাকা এখনও অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি

কলকাতা: যুবসাথী প্রকল্পের (Yuvasathi Scheme) টাকা পাচ্ছেন না? আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের এই ভুলগুলি দ্রুত সংশোধন করুন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অনেকেরই পেমেন্ট স্ট্যাটাস 'Pending' দেখাচ্ছে। আপনিও কি দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া টাকা (Arrears) পাচ্ছেন না? সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, মূলত আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যে গরমিল থাকার কারণেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় থাকা বহু উপভোক্তার কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। মার্চ ও এপ্রিল মাসের ভাতার টাকা এখনও অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। মূলত ডিবিটি (DBT) বা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতেই উপভোক্তাদের সামনে হাজির হয়েছে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম আর কারিগরি সমস্যা। কেন এই দেরি এবং কীভাবে এর সমাধান সম্ভব?
কেন যুবসাথীর টাকা আটকে যাচ্ছে?
তদন্তে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য টাকা ঢুকছে না:
১. আধার সিডিং (Aadhaar Seeding): ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার নম্বর সঠিকভাবে লিঙ্ক না থাকা বা ডিবিটি (DBT) অপশন চালু না থাকা।
২. কেওয়াইসি (KYC) সমস্যা: ব্যাঙ্কে কেওয়াইসি আপডেট না থাকলে লেনদেন আটকে যেতে পারে।
৩. তথ্যের অমিল: যুবসাথী পোর্টালে দেওয়া নাম বা জন্ম তারিখের সাথে আধার কার্ডের তথ্যের পার্থক্য।
হিসাব বলছে, বর্তমানে এই প্রকল্পে আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৮৪ লক্ষ থেকে ১ কোটির ঘরে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের তথ্য যাচাই করতে স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা সময় লাগছে। বিশেষ করে যারা দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা অফলাইনে আবেদন করেছিলেন, তাদের তথ্য পোর্টালে ম্যানুয়ালি আপলোড করার সময় পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় বড়সড় জট পাকিয়েছে।
কেন আটকে আছে আপনার টাকা?
আবেদন পত্রে ভুল ও রিজেকশন: অনলাইন বা অফলাইন—আবেদন যেভাবেই হোক না কেন, আধার নম্বর, ভোটার কার্ড বা নামের বানানে সামান্য ভুলে অনেক ফর্মই বাতিল হয়ে গিয়েছে। এদিকে অফলাইনে জমা পড়া ফর্মগুলো পোর্টালে তোলার সময় ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের ভুলে অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ভুল নথিভুক্ত হয়েছে। এই বাতিলের তালিকাটি স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিসগুলিতে ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে।
আধার সিডিং এবং এনপিসিআই (NPCI) সমস্যা: এখন আর ট্রেজারি থেকে সরাসরি টাকা পাঠানো হয় না, বরং ডিবিটি-র মাধ্যমেই লেনদেন সম্পন্ন হয়। এর মানে হলো, আপনার আধার কার্ডটি যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে ‘ম্যাপ’ বা ‘সিড’ করা আছে, সরকারি অনুদান ঠিক সেই অ্যাকাউন্টেই ঢুকবে। যদি আপনার আধারের সাথে কোনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা না থাকে, তবে বকেয়া টাকা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
টাকা না পেলে যা করবেন
বিডিও অফিসে যোগাযোগ করুন: প্রথমেই স্থানীয় বিডিও অফিসে গিয়ে খোঁজ নিন আপনার আবেদনটি বাতিল হয়েছে কিনা। তবে মনে রাখবেন, বর্তমানে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলায় অফিসের কর্মীরা ব্যস্ত থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সমাধানের জন্য নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
কীভাবে পেমেন্ট সমস্যার সমাধান করবেন?
ব্যাঙ্কে যোগাযোগ: আপনার নিকটবর্তী ব্যাঙ্ক শাখায় গিয়ে আধার সিডিং এবং ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) সক্রিয় আছে কি না যাচাই করুন।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ: যদি তথ্যে কোনো বড় ভুল থাকে, তবে আপনার সংশ্লিষ্ট এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসে গিয়ে আধার কার্ডের কপি জমা দিন।
অনলাইন স্ট্যাটাস চেক: যুবশ্রী প্রকল্পের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (Employment Bank) থেকে আপনার পেমেন্ট স্ট্যাটাস নিয়মিত চেক করুন।
























