Success Story: ৯ ঘণ্টার চাকরির পর রাত জেগে পড়াশোনা, প্রথম চেষ্টাতেই IAS, UPSC-তে সাফল্যের নজির শ্বেতা ভারতীর
৯ ঘণ্টার প্রাইভেট চাকরির পাশাপাশি UPSC-র প্রস্তুতি নিয়ে প্রথম চেষ্টাতেই AIR 356 অর্জন করেন বিহারের শ্বেতা ভারতী। কী ছিল তাঁর সাফল্যের মন্ত্র? জেনে নিন অনুপ্রেরণার গল্প।

UPSC Success Story: স্বপ্ন দেখার সাহস অনেকেই রাখেন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের উপর অগাধ বিশ্বাস। বিহারের শ্বেতা ভারতীর গল্প ঠিক তেমনই। দিনে ৯ ঘণ্টার কর্পোরেট চাকরি, পরিবারের দায়িত্ব, সীমিত সময়—সব বাধাকে সঙ্গী করেই তিনি পৌঁছে গিয়েছেন দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষার সাফল্যের শিখরে। আজ তিনি একজন IAS অফিসার। তাঁর জীবন যেন বলে, পরিস্থিতি নয়, সাফল্য নির্ধারণ করে মানুষের মানসিকতা।
বিহারের নালন্দা জেলার রাজগিরের একটি সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে ওঠেন শ্বেতা। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। ভাগলপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর তাঁর সামনে দুটি পথ ছিল—একদিকে পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব, অন্যদিকে বহুদিনের স্বপ্ন, সিভিল সার্ভিস। সংসারের প্রয়োজনে তিনি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা Wipro-তে চাকরি নেন। কিন্তু চাকরি নেওয়া মানেই যে স্বপ্নের ইতি নয়, তা তিনি নিজের জীবন দিয়েই প্রমাণ করেছেন।
প্রতিদিন প্রায় ৯ ঘণ্টা অফিসের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে শুরু হত দ্বিতীয় লড়াই। অন্যেরা যখন বিশ্রাম নিতেন, তখন বই-খাতা নিয়ে বসতেন শ্বেতা। রাত জেগে চলত UPSC-র প্রস্তুতি। সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস তিনি একই রুটিন মেনে চলেছেন। সময়ের এক সেকেন্ডও যেন অপচয় না হয়, তাই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে নেন। এমনকি কিছু সময়ের জন্য স্মার্টফোন ব্যবহারও বন্ধ করে দেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, মনোযোগই সবচেয়ে বড় শক্তি।
UPSC-র আগে তিনি বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) পরীক্ষাতেও সাফল্য পান। ৬৫তম BPSC পরীক্ষায় ভালো র্যাঙ্ক অর্জন করে জেলা প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। কিন্তু সেখানেই থেমে থাকেননি। প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং IAS হওয়ার লক্ষ্যকে আরও দৃঢ় করে।
অবশেষে ২০২১ সালের UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সফল হয়। তিনি অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক (AIR) 356 অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বিহারের ভাগলপুরে অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একটি কর্পোরেট অফিসের ডেস্ক থেকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছে যাওয়ার এই যাত্রা আজ অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
শ্বেতা ভারতীর গল্প শুধু UPSC পাশ করার গল্প নয়। এটি সময়কে জয় করার গল্প, আত্মনিয়ন্ত্রণের গল্প, এবং সেই সব মানুষের গল্প, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও সাফল্যের সোপান বানিয়ে নেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা—স্বপ্ন পূরণ করতে নিখুঁত পরিস্থিতির অপেক্ষা নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট নিয়মিত প্রচেষ্টাই একদিন বড় সাফল্য এনে দেয়। চাকরি, সংসার কিংবা দায়িত্ব—কোনও কিছুই লক্ষ্যপূরণের পথে শেষ বাধা নয়, যদি নিজের প্রতি বিশ্বাস অটুট থাকে।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI























