Success Story: মা-বাবা সবজি বিক্রি করতেন, টাকার অভাবে হেঁটে ১২ কিমি দূরের স্কুলে যেতেন, সেই ছেলেই আজ IPS
UPSC Success Story: মা-বাবা শ্রমিক, সংসারে অভাব, প্রতিদিন ১২ কিমি হেঁটে পড়াশোনা। ₹২০ লক্ষের চাকরি ছেড়ে UPSC দিয়ে IPS হলেন শরণ কাম্বলে।

কলকাতা: সকালে ঘুম থেকে উঠে হয়তো স্কুলের কথা ভাবতেন তিনি। কিন্তু সেই স্কুলে পৌঁছনোর পথটাই ছিল ১২ কিলোমিটার। বাড়িতে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। মা-বাবা শ্রমিকের কাজ করতেন, সংসার চালাতে সবজি বিক্রি করতেন। সেই পরিবারের ছেলেই একদিন ২০ লক্ষ টাকার চাকরি ছেড়ে বেছে নিলেন UPSC-এর কঠিন রাস্তা।
আজ তিনি IPS অফিসার শরণ কাম্বলে। তাঁর গল্প শুধু UPSC পাশ করার গল্প নয়। এটি এমন এক তরুণের গল্প, যিনি ছোটবেলা থেকেই জানতেন—পরিস্থিতি তাঁর হাতে নেই, কিন্তু নিজের চেষ্টা তাঁর হাতেই।
বাড়িতে অভাব, তবু পড়াশোনায় কোনও আপস নয়
মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার তাডওয়ালে গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম শরণ কাম্বলের। ১৯৯৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জন্ম তাঁর। বাবা-মা দু’জনেই শ্রমিকের কাজ করতেন। সংসার চালাতে তাঁরা সবজি বিক্রিও করতেন। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ছেলের পড়াশোনা যাতে থেমে না যায়, সেই চেষ্টা বাবা-মা চালিয়ে গিয়েছিলেন। গ্রামের সরকারি স্কুল থেকেই শরণের পড়াশোনা শুরু। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে পৌঁছতেই সামনে এল নতুন সমস্যা। একদিন নয়, প্রতিদিন প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে তাঁকে ক্লাস ১১ ও ১২-এর পড়াশোনা করতে যেতে হত। যাতায়াতের এই কষ্ট তাঁর পড়াশোনার ইচ্ছাকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিদিনের সেই দীর্ঘ পথই যেন তাঁকে আরও শক্ত করে তুলেছিল।
গ্রামের স্কুল থেকে BTech, তারপর IISc
অভাবের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান শরণ। পরে তিনি Walchand College of Engineering, Sangli থেকে BTech করেন। এরপর পড়াশোনা করেন IISc Bangalore-এ। এখানেই তাঁর জীবনে আসে বড় পরিবর্তন। পড়াশোনা শেষ করার পর একটি সংস্থায় বছরে ২০ লক্ষের চাকরির অফার পান তিনি। যে পরিবারে অর্থের অভাব ছিল, সেই পরিবারের ছেলের সামনে তখন নিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
চাইলে সেই চাকরি নিয়েই জীবন বদলে ফেলতে পারতেন। কিন্তু শরণের স্বপ্ন ছিল অন্য। ২০ লক্ষের চাকরি ছেড়ে দিলেন বাবা গোপীনাথ কাম্বলের ইচ্ছে ছিল, ছেলে যেন একদিন একজন অফিসার হয়। তাই মোটা বেতনের চাকরির নিরাপদ ভবিষ্যৎ ছেড়ে শরণ বেছে নিলেন UPSC-এর অনিশ্চিত রাস্তা। তিনি দিল্লিতে চলে গেলেন সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি নিতে।
কিন্তু দিল্লিতে গিয়ে সমস্যার শেষ হয়নি। বরং শুরু হয়েছিল নতুন লড়াই। খাওয়া, থাকার জায়গা—প্রাথমিক প্রয়োজন মেটানোই কঠিন হয়ে উঠেছিল। UPSC-এর মতো দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অর্থের অভাব তাঁকে বারবার চাপে ফেলছিল। ঠিক সেই সময় মহারাষ্ট্র সরকারের একটি স্কলারশিপ পরীক্ষায় সাফল্য পান শরণ। সেখান থেকে তিনি প্রতি মাসে ১২,০০০ করে আট মাসের জন্য আর্থিক সহায়তা পান। সেই টাকা তাঁর কাছে শুধুমাত্র স্কলারশিপ ছিল না। সেটাই হয়ে উঠেছিল UPSC প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার বড় ভরসা।
প্রথমে CAPF, তারপর UPSC
কঠিন পরিশ্রমের ফল আসতে শুরু করল। ২০১৯ সালে UPSC CAPF পরীক্ষায় All India Rank 8 অর্জন করেন শরণ কাম্বলে। কিন্তু তাঁর লক্ষ্য তখনও আরও বড়। ২০২০ সালে UPSC Civil Services Examination-এ বসে All India Rank 542 পান। এই সাফল্যের পর তিনি Indian Police Service বা IPS-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ পান। তবে এখানেই থামেননি। নিজের র্যাঙ্ক আরও উন্নত করার জন্য ২০২১ সালে আবার পরীক্ষায় বসেন। এবার AIR 127 অর্জন করে Indian Foreign Service বা IFS-এর জন্যও যোগ্যতা অর্জন করেন। তবুও শেষ পর্যন্ত তিনি IPS-ই বেছে নেন। কারণ ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন তাঁকে এতটা পথ হাঁটিয়েছে, সেটি ছিল পুলিশ সার্ভিসে গিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা।
১২ কিলোমিটারের সেই পথ থেকে IPS-এর চেয়ারে
শরণের গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো এখানেই। একদিকে ছিল দারিদ্র্য, শ্রমিক পরিবারের সন্তান হওয়ার বাস্তবতা, প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পড়াশোনা করা এবং পরে দিল্লিতে UPSC প্রস্তুতির সময় অর্থের সংকট। অন্যদিকে ছিল একটি স্বপ্ন। তিনি চাইলে ২০ লক্ষের চাকরিটা নিয়ে নিরাপদ জীবন বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কারণ তাঁর কাছে শুধুমাত্র চাকরি পাওয়া সাফল্য ছিল না—নিজের স্বপ্ন পূরণ করাই ছিল আসল লক্ষ্য। আজ সেই স্বপ্নই তাঁকে IPS অফিসারের পরিচয় দিয়েছে।
যে ছেলে একসময় পড়তে যেতে ১২ কিলোমিটার পথ হাঁটতেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত UPSC-এর মঞ্চে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। শরণ কাম্বলের গল্প তাই শুধু একজন IPS অফিসারের সাফল্যের গল্প নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়—শুরুটা কতটা কঠিন ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনি শেষ পর্যন্ত কতটা লড়াই করে এগিয়ে গেলেন।
Education Loan Information:
Calculate Education Loan EMI






















