West Bngal Election 2026 : 'দল খোঁজ নেয় না, দিদিকে চিঠি লিখেও উত্তর নেই', ভোটের আগে মুখ খুললেন নন্দীগ্রামের দু'বারের তৃণমূল বিধায়ক
Former Nandigram MLA Firoza Bibi : রাজনীতির টানাপোড়েনে বারবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম। কিন্তু দিনে দিনে একলা হয়ে পড়েছেন ফিরোজা বিবি।

নন্দীগ্রাম : ২০০৭ সাল, ১৪ মার্চ । নন্দীগ্রাম গুলিচালনা। রক্ত-মৃত্যু। এই ঘটনাই ঘুরিয়ে দিয়েছিল বঙ্গ রাজনীতির মোড়। নন্দীগ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ফিরোজা বিবির ছোট ছেলে । তখন সে সবে ১৮। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী । লহমায় শেষ হয়ে যায় শেখ ইমদাদুল ইসলামের প্রাণ। সেই সময় সন্তানহারা ফিরোজা বিবিরর পাশে দাঁড়িয়েছিল তৃণমূল। ফিরোজাকে নন্দীগ্রাম চেনে ‘শহিদ মাতা’, ‘নন্দীগ্রামের মা’বলে। কিন্তু তারপর গড়িয়ে গেছে সময়। রাজনীতির টানাপোড়েনে বারবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম। কিন্তু দিনে দিনে একলা হয়ে পড়েছেন ফিরোজা বিবি।
নন্দীগ্রাম-আন্দোলনে নেম ভুল করেছিলেন?
নন্দীগ্রামের দু'বারের তৃণমূল বিধায়ক ফিরোজা বিবি। বর্তমানে পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিদায়ী বিধায়ক। কিন্তু এখন আর দল খোঁজ খবর নেয় না। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নন্দীগ্রাম আন্দোলনে সন্তানহারা ফিরোজা বিবির গলায় এক রাশ অভিমান। বললেন, নেতৃত্বর কাছে গিয়েছি...কিন্তু দল আর খোঁজ রাখে না। বললেন, ‘আমার সময় ফুরিয়ে গেছে। আমি তখন টিকিটও চাইনি। দাঁড়াতেও চাইনি। আমায় দল ভাল মনে করেছিল, দিয়েছিল। ২০১৬ তে আমায় পাঁশকুড়া পাঠাল। আমি তখনও টিকিট চাইনি। এখন ২০২৬ এ আমি অচল হয়ে গেলাম। আমার কোনও কদরই নেই। দল এমন দেখভাল করে যে খোঁজখবর নেয় না।’এতকিছুর পরও বলছেন, ‘সে-সময় আন্দোলন করা ভুল ছিল না। জমি জায়গা বাঁচানোর লড়াই ছিল। আমিও নেমেছিলাম আন্দোলনে’।
'দিদিকে চিঠি দিয়েও উত্তর পাইনি'
দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন? ফিরোজা বিবি জানালেন, দিদির কাছে যেতে পারিনি, কিন্তু নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। ফিরোজা বিবি জানালেন, ‘দিদি’কে বারবার চিঠি লিখেও উত্তর পাননি। এখন দোষ দিচ্ছেন নিজের ভাগ্যকে। বললেন, ‘হাসপাতালে থেকে এলাম, কেউ খোঁজ করেনি’।
২০০৯ এ নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়ে প্রথম বার বিধায়ক হন ফিরোজা বিবি। এরপর ২০১১-তেও নন্দীগ্রাম বেছে নেন তৃণমূল বিধায়ক ফিরোজা বিবিকে। ২০১৬ এবং ২০২১ র বিধানসভা ভোটে পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জেতেন তিনি। কিন্তু এর মধ্যে শরীর ভেঙেছে । মাঠে-ঘাটে রাজনীতি আর সেভাবে করা হয় না। কিন্তু এই সময়ে পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিদায়ী বিধায়কের খোঁজ রাখে না দলের কেউই। জানালেন, পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিদায়ী বিধায়ক।





















