Rahul Banerjee Unknown Story: হলে রাহুল ঢুকতেই দর্শকদের উন্মাদনা, বন্ধ করে দিতে হয় নাটক! সহ্য করতে না পেরে কোমায় চলে গিয়েছিলেন অভিনেতার বাবা!
Rahul Banerjee News: ঘটনায় প্রচণ্ড মুষড়ে পড়েন রাহুলের বাবা। তাঁর মনে হয়, পর্দার নায়কের দ্যুতির কাছে, হেরে গেল মঞ্চাভিনয়

- চিরদিনই তুমি যে আমার: অভিনেতা রাহুলের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
- প্রযোজনা সংস্থার সিদ্ধান্ত, অরুণোদয় থেকে রাহুল নামাঙ্কিত হন তিনি।
- বাবার নাটক চলাকালীন দর্শকাসন থেকে হুলস্থূল, বন্ধ হয় অভিনয়।
- ঘটনার অভিঘাতে বাবার কোমা, আত্মগ্লানি থেকে ফেরে রাহুল।
কলকাতা: রুপোলি পর্দায় পা তো রেখেছিলেন অনেকদিন আগেই, তবে তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল, 'চিরদিনই তুমি যে আমার'। রাজ চক্রবর্তীর (Raj Chakraborty)-র পরিচালনায় তৈরি এই সিনেমা তাঁকে যেন কোন এক যাদুকাঠির ছোঁয়ায়, করে তুলেছিল নায়ক। টলিউডের প্রথম সারির নায়ক। খ্যাতি, তাঁকে ঘিরে উন্মাদনা সবটাই তিনি ছুঁয়ে দেখেছিলেন। পরবর্তীতে ইন্ডাস্ট্রি অবশ্য তাঁকে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে বেশি পছন্দ করেছেন। একের পর এক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে তিনি অনায়াসেই দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Banerjee)।
তবে ব্যক্তিগত জীবনটা মোটেই সহজ ছিল না অরুণোদয়ের। 'চিরদিনই তুমি যে আমার' ছবিটিই তাঁকে দিয়েছিল রাহুল পরিচিতি। অভিনেতার আসল নাম, অরুণোদয়। কিন্তু যখন 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এর নায়ক হলেন তিনি, প্রযোজনা সংস্থা থেকে ঠিক করা হল, অরুণোদয় নাম বড়ই কঠিন। শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) ফ্যান, তাই অরুণোদয় থেকে নাম বদলে গেল রাহুল-এ। আর তারপরেই সেই স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার সফর। 'চিরদিনই তুমি যে আমার' খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল রাহুলকে। তবে তাঁর শিকড় ছিল নাটকের মঞ্চে। বাবা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (Biswanath Banerjee) ছিলেন নাটকের মঞ্চের মানুষ। কিন্তু এই নাটকের মঞ্চেই ঘটে গেল দুর্ঘটনাটা।
সেটা ছিল, বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ প্রযোজিত নাটক। মঞ্চে তখন অভিনয় চলছে, সেই সময়েই হঠাৎ প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে আসেন রাহুল ওরফে অরুণোদয়। বাবার থিয়েটার দেখতে ছেলে আসবে, এ আর নতুন কি? কিন্তু অবাক করার মতো বিষয়টা সেখানেই। সেই সময়ে সদ্য সদ্য মুক্তি পেয়েছে, 'চিরদিনই তুমি যে আমার'। রাহুলকে ঘিরে তখন উন্মাদনা তুঙ্গে। প্রেক্ষাগৃহে রাহুল এসেছে, সিনেমার নায়ক এসেছে... এই কথা ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন দর্শকেরা। পর্দার নায়ককে একবার দেখার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায় প্রেক্ষাগৃহে। নায়ককে একবার দেখার জন্য, তাঁর থেকে অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য সবাই কার্যত পেছন ফিরেছেন মঞ্চের দিক থেকে। সবার চোখই রাহুলের দিকে। পরিস্থিতি এমন হল যে, বন্ধ করে দিতে হল মঞ্চাভিনয়।
ঘটনায় প্রচণ্ড মুষড়ে পড়েন রাহুলের বাবা। তাঁর মনে হয়, পর্দার নায়কের দ্যুতির কাছে, হেরে গেল মঞ্চাভিনয়। ঘটনার অভিঘাত সহ্য করতে না পেরে, ৭ দিনের মধ্যে কোমায় চলে যান বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় ভীষণ ভেঙে পড়েন রাহুল। বাবার এই পরিস্থিতির জন্য, নিজেকেই দোষী করতে থাকেন। সরে আসেন পর্দা থেকে, বন্ধ করে দেন কাজ। পরবর্তীকে মা ও স্ত্রীয়ের হাত ধরে, ফের জীবনের মূল স্রোতে ফিরেছিলেন রাহুল।
ইন্ডাস্ট্রির আরও অনেক অভিনয়, অনেক লেখা পাওয়ার ছিল তাঁর থেকে... কিন্তু জীবনের হিসেব কোনোদিন যেমন মেলে না, মিলিয়ে দিয়ে যেতে পারলেন না রাহুল ও।






















