Knee Pain : হাঁটুর ব্যথা মানেই কি অস্টিওআর্থারাইটিস? কী কী করলে আটকানো যায় নি-রিপ্লেসমেন্ট ?
সবরকম হাঁটু ব্যথাই কি অস্টিও আর্থারাইটিস ? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায়

হাঁটু নিয়ে সমস্যা বহু মানুষের। হাঁটু বদলানো বা নি-রিপ্লেসমেন্ট সার্জারির সংখ্যাও এখন অনেকটাই বেড়েছে। কিন্তু হাঁটু ব্যথা হলেই কি তা ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে যাবে ? হাঁটু রিপ্লেস করা ছাড়া উপায় থাকবে না ? আর সবরকম হাঁটু ব্যথাই কি অস্টিও আর্থারাইটিস ? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায় (রিউমাটোলজিস্ট ও ইমিউনোলজিস্ট)।
চিকিৎসকের মতে, হাঁটু শরীরের এমন একটা অংশ, যার উপর শরীরের সবটুকু ওজনের ভার পড়ে। যার ওজন যত বেশি, তার হাঁটুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও তত বেশি। কিন্তু হাঁটু বাঁচাবেন কীভাবে। কীভাবে বুঝবেন আপনার হাঁটু ব্যথার কারণ। চিকিৎসক বলছেন, হাঁটু ব্যথা মানেই অস্টিও আর্থারাইটিস নয় ! আর কী কী কারণ ? একটা সময় পর্যন্ত মানুষ ধরেই নিতেন বয়স হলে হাঁটু ব্যথা হবেই। এটা ঠিক, হাঁটু এমন একটা জয়েন্ট যেখানে শরীরের সবটুকু ভার পড়ে। তাই হাঁটুর trauma injury হতেই পারে। সেটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু একদিকে হাঁটুর ব্যথা , অন্যদিকে সিঁড়ি দিয়ে ক্রমাগত ওঠা-নামা করেই চলেছেন, তাহলে তো ক্ষয় বাড়বেই। কার্টিলেজের ক্ষতি হবেই। তাই একটা বয়সের পরে সেখানে অস্টিওআর্থারাইটিস ( osteoarthritis) হতেই পারে। তবে হাঁটু ব্যথা মানেই osteoarthritis নয়। অন্য কারণও থাকতে পারে। সবটা বোঝা যাবে লক্ষণ দেখেই।
বয়স হলে যে হাঁটুর ব্যথা যেটা হয় সেটা মূলত অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্যই হয়ে থাকে। তবে হাঁটুর ব্যথা তিনটি মূল কারণে হতে পারে। হতে পারে হাঁটুর ব্যথার কারণ কোনও অটোইমিউন ডিজিজ। যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই শরীরের শত্রু হয়ে ওঠে। তারই প্রভাব পড়ে হাঁটুতে। অটোইমিউন ডিজেজের কারণে হাঁটুর ব্যথা হয়ে থাকলে, হাঁটুতে ইনফ্লামেশন হয়ে জল জমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে, সিরিঞ্জের মারফত জল বার করতে হয়। অনেকের আবার ভুল ধারণা রয়েছে, জলটা বার করে দিলে বোধহয় ড্যামেজটা বেশি হয়। যদি দেখা যায়, বিশ্রাম নিলে ব্যথা বাড়ছে, তখন বুঝতে হবে এ ব্যথা সাধারণ অস্টিওপোরেসিসের ব্যথা নয়। আর অস্টিওপোরেসিসের ব্যথায় বিশ্রাম নিলে আরাম পাওয়া যায়।
এছাড়া ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড বা ইউরিক অ্যাসিডের মতো আরো কিছু ক্রিস্টাল আছে, সেইগুলো হাঁটুতে ডিপোজিট হলে ওই জায়গায় টেম্পোরারি ইনফ্লামেশন হতে পারে। তা থেকেও ব্যথা হতে পারে।
অস্টিওপোরোসিসের সমস্যা এখন ঘরে - ঘরে। এই অসুখের প্রবণতা কমাতে ওষুধের থেকেও বেশি দরকার জীবনযাত্রার পরিবর্তন। ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি বা অস্টিওপোরোসিসের নির্দিষ্ট কিছু ওষুধপত্র আছে, সেই ওষুধপত্রগুলো নিলে আমাদের অস্টিওপোরোসিসের মাত্রাটা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে কোনও ওষুধ দিয়ে হাড়ের বয়স কমিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বলছেন চিকিৎসক।
এছাড়া এই অসুখ রোখার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল ওজন কমানো, এক্সারসাইজ করা । সেই সঙ্গে ব্যথা বাড়তে না দিয়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। মনে রাখতে হবে, হাঁটু অপারেশন, এমার্জেন্সি অপারেশন না । প্রত্যেকের হাঁটাহাঁটির প্রয়োজন ও জীবনযাত্রা , একইরকম নয়। প্রত্যেকের জন্য হয়তো হাঁটুর ক্ষয় আটকানো সম্ভব নয়। তবে ক্ষয়ের গতিটা আটকানো যায়।
সেরা শিরোনাম






















