মুখ বদলে দিতে পারে মেকআপ! কী এই প্রস্থেটিক মেকআপ, কেন এখন এত জনপ্রিয়?
সিনেমার চরিত্রের চেহারা বদলে দেয় যে মেকআপ, সেটাই প্রস্থেটিক মেকআপ। কী এটি, কোথায় ব্যবহৃত হয়, কীভাবে শেখা যায় এবং এর চাহিদা কতটা

কলকাতা: একজন মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে বৃদ্ধ, ভিনগ্রহের প্রাণী, ভৌতিক চরিত্র বা সম্পূর্ণ অন্য একজন মানুষের চেহারা দেওয়া সম্ভব শুধুমাত্র মেকআপের মাধ্যমে! আর এই জাদুর নামই প্রস্থেটিক মেকআপ (Prosthetic Makeup)।
কী এই প্রস্থেটিক মেকআপ?
প্রস্থেটিক মেকআপ হল বিশেষ ধরনের মেকআপ প্রযুক্তি, যেখানে ল্যাটেক্স, সিলিকন, জিলাটিন বা অন্যান্য কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করে মুখ বা শরীরের কোনও অংশের গঠন পরিবর্তন করা হয়। এর সাহায্যে মুখে কৃত্রিম নাক, দাগ, ক্ষত, বলিরেখা বা সম্পূর্ণ নতুন চেহারা তৈরি করা সম্ভব।
কোথায় ব্যবহৃত হয়?
প্রস্থেটিক মেকআপের ব্যবহার এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ: কোনও অভিনেতাকে অন্য বয়স বা চরিত্রে দেখানোর জন্য।
হরর ও ফ্যান্টাসি ছবি: দানব, জম্বি, ভিনগ্রহের প্রাণী বা পৌরাণিক চরিত্র তৈরিতে।
থিয়েটার ও নাটক: চরিত্রের বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে।
বিশেষ ইফেক্ট (SFX): দুর্ঘটনার ক্ষত, পোড়া দাগ বা আঘাতের দৃশ্য তৈরি করতে।
ফ্যাশন ও বিজ্ঞাপন জগৎ: সৃজনশীল লুক তৈরিতে।
হলিউডের বহু জনপ্রিয় সিনেমা, যেমন The Curious Case of Benjamin Button, The Whale এবং Darkest Hour-এ এই প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে।
এটা কি সবাই করতে পারে?
যে কেউ প্রস্থেটিক মেকআপ শিখতে পারেন। তবে এটি সাধারণ মেকআপের মতো সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন—
* মানুষের মুখের গঠন সম্পর্কে ধারণা,
* বিশেষ উপকরণ ব্যবহারের দক্ষতা,
* ধৈর্য ও সৃজনশীলতা,
* দীর্ঘ প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত অনুশীলন।
পেশাদার প্রস্থেটিক মেকআপ আর্টিস্ট হতে গেলে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতে কি এই পেশার চাহিদা রয়েছে?
বর্তমানে ভারতীয় চলচ্চিত্র, ওটিটি এবং বিজ্ঞাপন শিল্পে প্রস্থেটিক মেকআপ আর্টিস্টদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বলিউড এবং দক্ষিণী চলচ্চিত্র শিল্পে এই প্রযুক্তির ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রস্থেটিক মেকআপ শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং এটি এখন শিল্প, বিজ্ঞান এবং কল্পনার এক অনন্য মেলবন্ধন।
সম্প্রতি কলকাতার Nehru Children's Museum-এ আয়োজিত প্রস্থেটিক মেকআপ বিষয়ক একটি বিশেষ সেমিনার ও ওয়ার্কশপে এসে বলিউডের বিশিষ্ট প্রস্থেটিক মেকআপ শিল্পী ড. আমোদ দোশী জানান এমনই কিছু অজানা দিক। এই উদ্যোগের পিছনে ছিলেন All India Hair and Beauty Association (আইবা)-এর কলকাতা শাখার প্রেসিডেন্ট তপতী সিনহা। তাঁর মতে, বর্তমানে বিউটি ও মেকআপ ইন্ডাস্ট্রিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও পেশাদাররা মূলত ব্রাইডাল মেকআপের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু মেকআপ জগতের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ শাখা রয়েছে, যার মধ্যে প্রস্থেটিক মেকআপ অন্যতম।
তপতী সিনহা জানান, কলকাতায় এখনও প্রস্থেটিক মেকআপ শেখানোর মতো পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান বা দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে। ফলে যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরা দিল্লি বা মুম্বইয়ে গিয়ে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কিন্তু অনেক প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রী শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান না।
তিনি বলেন, "প্রস্থেটিক মেকআপ শেখার খরচ অত্যন্ত বেশি। আইবার মূল লক্ষ্য হল, যাতে কম খরচে বা ন্যূনতম খরচে ছাত্রছাত্রীরা এই ধরনের আধুনিক ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিতে পারে এবং নিজেদের একটি নতুন কেরিয়ার গড়ে তুলতে পারে।"

বর্তমানে সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন এবং থিয়েটার—সব ক্ষেত্রেই প্রস্থেটিক মেকআপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। চরিত্রের বয়স পরিবর্তন, বিশেষ এফেক্ট, কৃত্রিম ক্ষত, ভৌতিক বা ফ্যান্টাসি চরিত্র তৈরি—সব ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে।
প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ড. আমোদ দর্শির কাছ থেকে আইবার সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে প্রস্থেটিক মেকআপের বিভিন্ন কৌশল শিখেছেন। ভবিষ্যতেও আরও বৃহত্তর পরিসরে এই ধরনের ওয়ার্কশপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তপতী সিনহা।
তাঁর কথায়, "আমার ইচ্ছা কলকাতার ছেলেমেয়েরা যেন শুধুমাত্র ব্রাইডাল মেকআপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। তারা যেন প্রস্থেটিক মেকআপের মতো আধুনিক দক্ষতা অর্জন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের কেরিয়ার গড়ে তুলতে পারে। সেই লক্ষ্যেই কলকাতায় প্রস্থেটিক মেকআপকে নিয়ে আসার এই প্রচেষ্টা।"
Before You Go
Cough Syrup: আর প্রেসক্রিপশন ছাড়া কিনতেই পারবেন না সর্দির সিরাপ? ভাল হল না মন্দ? বলছেন চিকিৎসক
সেরা শিরোনাম























