AI Hologram Campaign: প্রচারে না গিয়েও 'সশরীরে' হাজির নেতা! 'ভার্চুয়াল অবতার'কে দেখতে জনসমুদ্র
কুম্বাকোনমে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী প্রচারণা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কীভাবে ডিজিটাল এআই প্রচারকে কাজে লাগিয়ে হেভিওয়েট নেতাদের শারীরিক অনুপস্থিতির শূন্যস্থান পূরণ করা হচ্ছে

নয়া দিল্লি: দ্রুত এগোচ্ছে প্রযুক্তি। এবার এআই এর অভিনব খেলা প্রচারেও। প্রযুক্তি দ্রুতগতিতে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক প্রচারের দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত হলোগ্রাম এক অভিনব ও চমকপ্রদ হাতিয়ার হিসেবে প্রকাশ করেছে।
কুম্বাকোনমে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী প্রচারণা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কীভাবে ডিজিটাল এআই প্রচারকে কাজে লাগিয়ে হেভিওয়েট নেতাদের শারীরিক অনুপস্থিতির শূন্যস্থান পূরণ করা হচ্ছে এবং ভোটারদের মন কেড়ে নিচ্ছে।
এই ভাইরাল ভিডিওর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অভিনেতা এবং 'তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম' (TVK)-এর সভাপতি বিজয়ের একটি হলোগ্রাফিক ইমেজ। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। একটি গাড়ির ওপর এই হলোগ্রাম ইমেজ-এ তৈরি হওয়া বিজয়কে ভোটারদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে দেখা যায়। অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এই ইমেজে তাঁর কণ্ঠস্বর ও অঙ্গভঙ্গির মধ্যে ছিল নিখুঁত সমন্বয়। এর ফলে ভিড়ের মধ্যে উপস্থিত অনেকেই ক্ষণিকের জন্য বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন যে, বিজয় স্বয়ং সশরীরে তাঁদের সামনে উপস্থিত রয়েছেন।
এই অভিনব উদ্যোগটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। এই প্রযুক্তির নেপথ্যে থাকা সংস্থাটির তথ্যমতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের হার (enquiries) হঠাৎ করেই বহুগুণ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, এম. করুণানিধি এবং জে. জয়ললিতার মতো প্রয়াত রাজনৈতিক কিংবদন্তিদের হলোগ্রাফিক প্রতিরূপ তৈরির অনুরোধও আসছে প্রচুর পরিমাণে—যা প্রমাণ করে যে, এই ধরনের প্রযুক্তি ভোটারদের মনে কতটা গভীর আবেগ ও প্রতীকী আবেদন সৃষ্টি করতে সক্ষম।
সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে, বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি থাকতেই, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের কাছ থেকে তারা বিপুল সংখ্যক অনুসন্ধানের বার্তা বা অনুরোধ পাচ্ছে।
যদিও হলোগ্রাফিক প্রচারণা বিষয়টি পুরোপুরি নতুন নয়—২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত সফলভাবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার করেছিলেন—তবুও বর্তমান সময়ের এই প্রবণতাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সংযোজনের কারণেই স্বতন্ত্র ও অনন্য হয়ে উঠেছে।
উন্নত মানের 'লিপ-সিঙ্কিং' (ঠোঁটের নড়াচড়ার সাথে কণ্ঠস্বরের নিখুঁত সমন্বয়), অত্যন্ত বাস্তবসম্মত শারীরিক অঙ্গভঙ্গি এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে নিয়ে যাওয়ার (portability) মতো বৈশিষ্ট্যগুলো এই হলোগ্রাফিক ইমেজগুলিকে আরও বেশি জীবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও এগুলো সমানভাবে কার্যকর ও মানানসই।






















