BJP শিবিরে তীব্র ধাক্কা, ১৭ জনকে নিয়ে দল ছাড়লেন চারবার সাংসদ হওয়া হেভিওয়েট নেতা!
অসমে বড় ধাক্কা বিজেপির, পদত্যাগ করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী । পদত্যাগ করলেন রাজেন গোহেন সহ ১৭ জন বিজেপি নেতা

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গেরুয়া শিবিরের ভরসার হাত ছিলেন। ২০১৬ সালে মোদি মন্ত্রিসভার সদস্য হন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবুও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর জেতা-সিট নগাঁও থেকে টিকিট দেয়নি দল। তারপর ২০২৪ সালেও আর তিনি ভোটে লড়েননি। এরপর থেকেই স্পষ্ট হচ্ছিল দলের সঙ্গে দূরত্বটা। অবশেষে বিজেপির সদস্যপদ ও দলের দেওয়া সমস্ত দায়িত্ব ত্যাগ করলেন রাজেন গোহেন। বহুদিন ধরেই হিমন্ত বিশ্বশর্মা শিবিরের সঙ্গে পার্থক্যটা স্পষ্ট হচ্ছিল। অবশেষে ১৭ জনকে সঙ্গে নিয়ে দল ছাড়লেন অসমের পদ্মশিবিরের হেভিওয়েট নেতা রাজেন গোহেন।
অসমে বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন দক্ষ হাতে। চার বার লোকসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। সেই ৭৪ বছর বয়সী নেতা বৃহস্পতিবার বিকেলে গুয়াহাটিতে দলের রাজ্য সদর দফতরে পাঠিয়ে দিলেন দলত্যাগ পত্র। সঙ্গে তাঁর ১৭ জন সমর্থকের পদত্যাগপত্রও পৌঁছল। তাঁর পদত্যাগেই স্পষ্ট অসমে আদি ও নব্য বিজেপির টানাপোড়েন। পদত্যাদের পরই তিনি জানান, "আমরা এই দলে যোগদান করিনি যাঁরা বর্তমানে ক্ষমতায় আছেন। আমরা অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলী মনোহর যোশী এবং অন্যান্য প্রবীণ নেতাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে যোগদান করেছি। কিন্তু (এখন) পরিস্থিতি এমন যে অন্যান্য দল থেকে লোক আনার পর, যারা তাদের জীবনের সেরা সময় বিজেপিকে দিয়েছেন তাদের সরিয়ে রাখা হয়েছে" ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর সঙ্গে কথা বলার সময়, গোহেন বলেন দল অসমের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বহিরাগতদের রাজ্যে বসতি স্থাপনের অনুমতি দিয়ে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তিনি দলের রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে ইস্কানি শতাব্দী প্রাচীন অহমিয়া সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও এনেছেন। দলত্যাগী নেতার অভিযোগ, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ২০২৪ সালের ১৬ মে-র পর আর অসমে একজনও বাংলাদেশি থাকবে না, তারা নতুন কৌশলে ক্রমাগত বাংলাদেশিদের দেশে আনছে। তাঁর আরও দাবি, বিজেপি আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি মূল আশ্বাসের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাঁর মোহভঙ্গ হয়েছে। রাজ্যের বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব আদিবাসী অহমিয়া জনগণের জমি ও সম্পদের বিনিময়ে বহিরাগতদের বসতি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।


















